–তা ঠিক। ওরা আমাদের আক্রমণ করবেই। তবে সংখ্যায় ওরা বেশি হবে না। ফ্রান্সিস বলল।
একটু বেলা হল।
ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে ডেকে বলল–রাজবাড়িতে যাও? রাঁধুনিদের বলো সবাইকে সকালের খাবার দিতে। গতরাতে তো আমরা আধ পেটাও খাইনি।
শাঙ্কো রাজবাড়ির দিকে চলে গেল। রাঁধুনীকে বলে এল।
কিছুক্ষণ পরে রাঁধুনিরা আর দু’তিনজনকে নিয়ে এল। সবার হাতে কাঠের হাঁড়ি কাঠের থালায় রুটি। বন্দী সৈন্যদের সঙ্গে ফ্রান্সিসরাও খেতে বসে পড়ল। ক্ষুধার্ত ফ্রান্সিসরা গোগ্রাসে খেতে লাগল। রাজা পাকোর্দো অবশ্য ফ্রান্সিসদের সঙ্গে খেলেন না। উনি রাজবাড়িতে চলে গেলেন।
সকালের সবজির ঝোল রুটি খাওয়া শেষ হল।
হ্যারি ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল–ফ্রান্সিস আমাদের কিন্তু নিশ্চিন্ত থাকলে চলবেনা।
–সেটা ভেবেছি। রাজা আনোতারের সঙ্গেও কিছু সৈন্য রয়েছে। তারা নিশ্চয়ই এখানে আসবে। তাদের সঙ্গে শেষ লড়াইটা তে লড়তে হবে। এখন অপেক্ষা কখন ওরা আক্রমণ করে।
ফ্রান্সিস এবার গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব–শেষ লড়াইটা এখনও বাকি। রাজা আনোতারের বাকি সৈন্যরা আমাদের নিশ্চয়ই আক্রমণ করবে। সবাই তৈরি থেকো। কেউ তরোয়াল বর্শা হাত ছাড়া করবে না। আক্রান্ত হলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে রুখে দাঁড়াতে পারো।
সবাই বুঝল বিপদ এখনও কাটেনি। লড়াই এখনও শেষ হয়নি।
বন্ধুরা কয়েকজন বন্দীদের পাহারায় রইল। বাকিরা সৈন্যাবাসের খালি ঘরগুলোয় গিয়ে বসে রইল। সবাইবিশ্রাম করতে লাগল। বন্দীরা আশায় রইলওদের রাজা আনোতার নিশ্চয়ই ওদের সাহায্য করতে সৈন্য নিয়ে আসবে। সময় বয়ে যেতে লাগল।
তখন সবে দুপুরের খাওয়া শেষ হয়েছে। বনের দিকে হৈহল্লা শোনা গেল। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব–তৈরি হও। রাজা আনোতার সৈন্যদের নিয়ে আসছে।
একটু পরেই বনের আড়াল থেকে রাজা আনোতার বেরিয়ে এল। হাতে খোলা তরোয়াল। পেছনে কুড়ি পঁচিশ জন যোদ্ধা। সবার হাতেই খোলা তরোয়াল। রাজা মাঠের দিকে তাকিয়ে তার বন্দী যোদ্ধাদ্রের দেখে থমকেদাঁড়াল। রাজা ধরে নিয়েছিল এখানকার যোদ্ধাদের সাহায্য পাবে। কিন্তু তাকে হতাশ হতে হল। রাজা আনোতার ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না কী করবে। সে তার সৈন্যদের থামতে ইঙ্গিত করল।
ফ্রান্সিস রাজা আনোতারের দিকে এগিয়ে গেল। গলা চড়িয়ে বলল–দেখতেই পাচ্ছেন আমরা বন্দী নই। হাতে অস্ত্রও আছে। লড়াই হলে আপনারা পরাজিত হবেন। ভেবে দেখুন কী করবেন। বন্দীদশা মেনে নেবেন না লড়াই করবেন?
লড়াই করে তোমাদের এদেশ থেকে তাড়াবো। রাজা আনোতার যেন গর্জে উঠল।
–ঠিক আছে। লড়াইটা হোক। ফ্রান্সিস তরোয়াল উঁচিয়ে চিৎকার করে বলল ভাইসব আক্রমণ করো। ভাইকিং বন্ধুরা আর দেহরক্ষীরা তরোয়াল বর্শা হাতে ছুটে গিয়ে রাজা আনোতারের সৈন্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। মাঠের ধারে শুরু হল লড়াই। তরোয়াল বর্শার ঠোকাঠুকিরশব্দআর্তস্বর চিৎকার গোঙানিরশব্দ উঠল। ফ্রান্সিস বিপক্ষের কয়েকজন যোদ্ধাকে আহত করে রাজা আনোতারের সামনে এসে দাঁড়াল। রাজা আনোতার ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে ফ্রান্সিসের দিকে তাকাল। তারপর ফ্রান্সিসকে আক্রমণ করল। ফ্রান্সিস এদিক ওদিক সরে গিয়ে রাজাকে ক্লান্ত করতে লাগল। রাজা ফ্রান্সিসের ফন্দী ঠিক বুঝতে পারল না। ঘুরে ঘুরে তরোয়াল চালাতে লাগল। একসময়ে তারোয়াল মাটিতে ঠেকিয়ে হাঁফাতে লাগল। ফ্রান্সিস তেমন ক্লান্ত হয়নি। ও এই সুযোগ ছাড়ল না। দ্রুত পাক খেয়ে রাজার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। রাজা ফ্রান্সিসের তরোয়ালের মার ঠেকাতে ঠেকাতে পিছু হটতে লাগল। রাজা আনোতার মুখ হাঁ করে হাঁপাচ্ছে। ফ্রান্সিস দু-তিন বার দ্রুত তরোয়াল চালিয়ে রাজার বুকেরওপর দিয়ে তরোয়াল সজোরে টেনে নিলে। রাজারবুকেরকাছে পোশাক দু ফালি হয়ে গেল। কাটা জায়গা থেকে রক্ত বেরিয়ে এল। ফ্রান্সিসও হাঁপাচ্ছে তখন। রাজা। ফ্রান্সিসেরনিপুণ হাতে তরোয়াল চালানো দেখে বুঝল এবার এরহাত থেকেরক্ষা নেই। ফ্রান্সিস হাঁফাতে হাঁফাতে বলল–আপনার সৈন্যদের লড়াই থামাতে বলুন। অযথা প্রাণহানি আমরা চাইনা। এর পরেও লড়াই চালালে আপনারা কেউ বেঁচে থাকবেন না।
রাজাকে এভাবে আহত হতে দেখে তার সৈন্যরা লড়াইয়ের উদ্যম হারিয়ে ফেলল। চারদিকে তাকিয়ে দেখল দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ভাইকিংদের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে তাদের অনেকেই মারা গেছে নয়তো মাটিতে শুয়ে কাতরাচ্ছে। ওরা কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। ফ্রান্সিস চিৎকার করে বলল–ভাইসব আর হত্যা নয়। লড়াই বন্ধ কর। ভাইকিংরা লড়াই থামিয়ে একই দূরে সরে গেল। কিন্তু তরোয়াল নামাল না কেউ। দেখতে লাগল রাজা আনোতার কী করে।
রাজা আনোতার হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়ল। তার পোশাক রক্তে ভিজে উঠেছে। যন্ত্রণায় মুখ কুঁচকে উঠছে। ডান হাত তুলে কাতরস্বরে বলে উঠল-লড়াই নয়। রাজার সৈন্যরা দাঁড়িয়ে পড়ল। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–তোমরা অস্ত্র ত্যাগ কর। আপত্তি করলে মরতে হবে।
রাজা আনোতারের সৈন্যরা তরোয়াল মাটিতে ফেলে দিল। শাঙ্কো আর সিনাত্রা এগিয়ে গিয়ে তরোয়ালগুলো তুলে নিয়ে এল। ফ্রান্সিস উচ্চস্বরে বলল–সবার হাত বেঁধে দাও। বিনেলা ছুটে গিয়ে দড়ি নিয়ে এল। দড়ি টুকরো করে রাজা আনোতারের সব সৈন্যের হাত বেঁধে দেওয়া হল। তারপর আগের বন্দীদের সঙ্গে বসিয়ে রাখা হল। রাজা আনোতারের হাত বাঁধতে গেলে ফ্রান্সিস হাত নেড়ে মানা করল।
