তা ইয়ে…খটকা একটু লাগছে বইকী।
সফট ড্রিঙ্কস ম্যানুফাঁকচারারদের তিন ম্যানেজিং ডিরেক্টরদের মধ্যে বাকি আছে একজন, রাম সিং। এই মুহূর্তে দার্জিলিংয়ে।
আই সী।
ইয়েস, নাউ ইউ সী। হাসল অরুণাভ। যেন কালো মেঘের মধ্যে থেকে ঝিলিক দিল বিদ্যুৎ। এই রাম সিংকে প্রোটেকশন দিতে হবে আপনাকে। তক্কে-তকে থাকলে মিস্ট্রিটা সলভ করে ফেলতেও পারেন।
বাট, বাট আপনাদের এত বড় সংগঠনের কাউকে না পাঠিয়ে হোয়াই আমাকে…
বিকজ আপনার একজন ক্লায়েন্টের মুখ চিরকালের মতো বন্ধ করা হয়েছে বলে। বিকজ আরও অনেকের মুখ এভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে। বিকজ আপনাকে কাউন্টার স্পাই হিসেবে লাগাতে চাই বলে।
কাকাউন্টার স্পাই!
ইয়েস মাই ডিয়ার মিস্টার গজানন। ত্রিশূল সংগঠনের কেউ ওখানে নেই, একবারও কি আপনাকে তা বলেছি? বলিনি। তা সত্ত্বেও আপনাকে পাঠাতে চাই–ডবল এজেন্ট হিসেবে। আপনি তার ওপরেও নজর রাখবেন রাম সিংকেও দেখবেন। হাসল অরুণাভ লাইনটা খারাপ জানেন তো। টাকার টোপ বড় সাংঘাতিক জিনিস। কিন্তু আপনার সম্বন্ধে আমাদের রিপোর্ট অন্যরকম। আপনি জান দেবেন, তবু মান দেবেন না।
থ্যাংক ইউ ফর দ্য কমপ্লিমেন্টস, ডাঃ বক্সীর কাছে শেখা উচ্চারণে চোস্ত ইংরেজিটা ঝেড়ে দিল গজানন। এ রকম গোটা বারো বাঁধা গৎ তার মুখস্থ। বিজনেস চালাতে গেলে একটু দরকার বইকী।
বললে–ত্রিশূল এজেন্টের নাম?
চেহারাটাই দেখিয়ে দিচ্ছি। চিনতে সুবিধে হবে, বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ল অরুণাভ। ডানদিকের দেওয়াল ঘেঁষে লাগানো ছোট ড্রয়ার ক্যাবিনেটের ওপরের ড্রয়ারটা খুলল চাবি ঘুরিয়ে। ভেতর থেকে বার করল ছোট্ট একটা রূপোর কার্ড। কমপিউটার কার্ড যেভাবে পাঞ্চ করা থাকে, রূপোর এই কার্ডও সেইভাবে পাঞ্চ করা। কার্ডটা হাতে নিয়ে গেল পেছনের দেওয়ালে লাগানো ফাইলিং ক্যাবিনেটের সামনে। রূপোর কার্ডটা ঢুকিয়ে দিলে ক্যাবিনেটের গায়ে সরু ফোকর দিয়ে। কালো ইস্পাত ক্যাবিনেট মসৃণগতিতে সরে গেল একপাশে দেখা গেল দেওয়ালের ভেতরে বসানো চৌকো স্টিল সিন্দুক।
গজাননের চোখ তখন ছানাবড়া সিন্দুকের ঠিক মাথার লেন্সটা দেখে। শরীরের প্রতিটি পেশি টান-টান হয়ে উঠেছে আপনা থেকেই। এ দৃশ্য সে আগেও দেখেছে এবং দেখেছে বলেই প্রবল ইচ্ছে হচ্ছে এই মুহূর্তে টেনে লম্বা দেওয়ার। ত্রিশূল সঙেঘর টপ-সিক্রেট ডকুমেন্টস আছে এই সিন্দুকে। সেই সঙ্গে আছে বিস্তর বিস্ফোরক। শুধু এই ঘরখানা কেন, পুরো বাড়িটাকে পাউডার করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ত্রিশূল সঙেঘর প্রতিষ্ঠাতারা ভারতের বড় বড় সংস্থার মালিক। সারা পৃথিবীতে ছাড়ানো ব্যবসার জাল। দুর্নীতিচক্র রোধ করার জন্যে নিজেদের স্বার্থে বেসরকারি এই সিক্রেট-এজেন্ট অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানী করে আশ্চর্য কৌশলে।
ত্রিশূল তাই একটা বিভীষিকা-ভারত-শত্রুদের কাছেও।
সিন্দুকের পাশে একটা লিভারে অরুণাভ চাপ দিতেই আচমকা ফ্ল্যাশে চোখ ধাঁধিয়ে গেল গজাননের। পিলে চমকে উঠলেও স্বস্তি পেল প্রাণটা এখনও যায়নি দেখে। সিন্দুকের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা অরুণাভর ফটো তুলে নিল লেন্স। কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল গজানন তফাতে। দাঁড়িয়ে আছে। অরুণাভও। লেন্স তার কাজ করে চলেছে। কমপিউটারের মেমারি ব্যাঙ্কে গচ্ছিত অরুণাভর ফটোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে। দাঁড়িয়ে থাকা অরুণাভর ফটোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে। দাঁড়িয়ে থাকা অরুণাভর শরীরের প্রতিটি লাইনের সঙ্গে ফটোর অরুণাভর প্রতিটি লাইন মিলে যাওয়া চাই। না মিললেই অনর্থ ঘটবে। কমপিউটারের সঙ্গে সরাসরি লাগানো রয়েছে ডিটোনেটর যন্ত্রপাতি বিস্ফোরণ ঘটবে এক্ষুনি।
এত আধুনিকতা ভালো নয়, মনে-মনেই বলে গজানন। আরে বাপু, অরুণাভর একটা চুলও যদি পেকে গিয়ে থাকে এবং সেই পাকা চুলের চিহ্ন যদি ফটোতে না পাওয়া যায়, বেআক্কেলে যন্ত্রদানব বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বসবে এখুনি। অথবা যদি তাড়াহুড়োয় দাড়ি কামাতে ভুলে যায়, তাহলেও রক্ষে নেই।
তাই ভেতরে-ভেতরে ঘেমে ওঠে গজানন দ্য গ্রেট।
কিন্তু সন্তুষ্ট হয়েছে কমপিউটার। নিঃশব্দে খুলে গেল সিন্দুকের পাল্লা। ভেতর থেকে একটা ফাইল বার করে আবার লেন্সের সামনে দাঁড়াল অরুণাভ। চাপ দিল লিভারে। আবার দেখা গেল ফ্ল্যাশ। বন্ধ হয়ে গেল পাল্লা। ফাইলিং ক্যাবিনেট পিছলে এল সিন্দুকের সামনে।
চেয়ারে এসে বসল অরুণাভ। ফাইল খুলে মেলে ধরল গজাননের সামনে।
ভারি মিষ্টি চেহারার একটি মেয়ের দিকে অপলকে চেয়ে রইল ট্রিপল জি। পরনে টাইট জিনস প্যান্ট। হাফ হাতা ঢিলে শার্ট। গলায় একটা লকেট। ছোট করে ছাঁটা চুল। অনেকটা ছেলে ছেলে চেহারা হলেও মুখের লাবণ্যের জন্যে বোঝা যায় মেয়ে। ঠোঁট দুটো কিন্তু পুরু এবং শক্ত। ওই ঠোঁট আর বেশবাস দেখে গজাননের ধারণা হয়ে গেল, এ মেয়ে লবঙ্গলতিকা নয় মোটে– রীতিমতো ব্যায়াম বীরাঙ্গনা।
সে অভিজ্ঞতাও হয়েছিল যথাসময়ে।
বললে চোখ তুলে–চিনে নিলাম। কিন্তু সে আমাকে চিনবে কী করে?
আপনার চেহারার ডেসক্রিপসন একটু পরেই ওয়্যারলেসে চলে যাবে।
নাম?
অনিমা।
বাঙালি?
অবাক হচ্ছেন কেন? আপনার সাগরেদ পুঁতিবালাও তো বাঙালি।
তা ঠিক। তবে আপনাদের তথ্যের একটু ভুল আছে। পুঁতিবালা নামটা যাচ্ছেতাই বলে ওর একটা বেটার নেম আমি দিয়েছি।
