একটি ফোন কি আমাকে ভুলে গেছে?
না কি এই স্পিকিং আর বলতেছির নিচে কতল হয়ে গেছে?
আমিই ফোন করি, ধরেই সে বলে, ‘হুজুর, আমি বিবিজান বলছি, আপনের মোবাইগুলির কি সব দশ মাসের পেট হইয়া রইছে? টিপতে টিপতে আমার আঙ্গুল ব্যাদনা অইয়া গেছে, আপনে না টিপ্পা দিলে আমার আঙ্গুল ভাল আইব না, আমার হাত দুইডা আহনই টিপ্পা দ্যান হুজুর।’
আমি বলি, ‘ওইগুলোকে খালাস করতে পারছিলাম না।’
কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আমি মডটার দিকে চাইয়া আপনের লগে কতা কইতে আছি, আপনে কি সত্যই আইজ মডটা গুরাইয়া হালাইবেন?’
আমি বলি, ‘হ্যাঁ, মঠটিও চায় আমি তাকে গুড়িয়ে ফেলি।’
কণকলতা বলে, ‘এর থিকা হুজুর আপনে আমারে গুরাই হালান।’
আমি বলি, ‘দরকার হ’লে তাও করবো।’
কণকলতা বলে, ‘পারবেন, হুজুর?’
আমি বলি, ‘সময় এলে দেখা যাবে।’
কণকলতা বলে, ‘আইজই গুরাইয়া হালাইয়া মডটারে বাচাই দ্যান, হুজুর।’
আমি বলি, ‘তোমাকে গুড়ো করবো ঠোঁট দিয়ে, সেগুলো হবে সোনার গুঁড়ো, কণকচুৰ্ণ, রাখবে আমার হৃদয়ে।’
কণকলতা চুমো খেতে থাকে, আর মোবাইল হুজুরের মতো দৃঢ় হয়ে ওঠে, কাঁপতে থাকে, আমি সহ্য করতে পারি না।
কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আপনের হুজুররে চুমা খাইলাম, হুজুর কি গাইল্যা পরছে? না হুজুরের আরো লাগবো? তাইলে আর পাচখান চুমা দেই।’
আমি বলি, ‘সন্ধ্যার পর গাড়ি পাঠাবো, চ’লে এসো। একটি তাঁতের শাড়ি পরে এসো, কণকলতার মতো তাঁতের শাড়ি।’
কণকলতা বলে, ‘আইচ্ছা, হুজুর।’
‘আল্লাহু আকবর’, ‘আলি আলি জুলফিক্কার’, ‘নারায় তকবির’, শ্যামসিদ্ধি হবে আলিগঞ্জ’, ‘শ্যামসিদ্ধির মঠ ধ্বংস করো, ধ্বংস করো’, ‘জামাঈ জিহাদে ইছলাম জিন্দাবাদ’, ‘মালাউন ও তাদের দালালদের কতল করো’, ‘জাহেলিদের কতল করো’ আওয়াজ তুলে আমরা কয়েক হাজার জিহাদি শ্যামসিদ্ধির দিকে এগোতে থাকি। জিহাদিদের হাতে ‘আলিগঞ্জ’-এর নিশান উড়ছে, নিশানে চানতারা ঝলমল করছে, আরবিতে ‘আল্লাহু আকবর’-এর নিশান উড়ছে।
এই নিশান দেখলেই দিল পবিত্র হয়ে ওঠে; কোনো নিশানে সূৰ্য দেখলে আমি সহ্য করতে পারি না, লাল সূর্য হচ্ছে কাফেরদের, বাঁকা চানতারা হচ্ছে ঈমানদারদের। সবাই আমরা জিহাদি, সবাই আমরা অস্ত্ৰসজ্জিত–বিচিত্র রকমের অস্ত্ৰ, যদিও তা দেখা যাচ্ছে না, দরকারের সময় দেখা দেবে ও কাজ শুরু করবে, কাজের কোনো শেষ থাকবে না।
দূর থেকে আমি মঠটি দেখতে পাচ্ছি, মনে হচ্ছে ভয়ে মঠটি এখনই জিহাদিদের পায়ে লুটিয়ে কাঁদবে, বা ‘লাই লাহ’ বলে উঠবে; এবং আমি একটি কাতর কান্নাও শুনতে পাই, ‘এর থিকা আমারে বলি দিয়া দ্যান, হুজুর’; ওটা কিছু না, বলি দেয়ার দরকার হলে দেবো, কিন্তু ওই কাফেরি মঠ ওখানে থাকতে পারবে না। অনেক বছর ছিলো, এখন তার ধ্বংসের সময় এসেছে; খুব বেশি উঁচু হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, এখন তাকে খুব নিচু হ’তে হবে, তাকে পুরোপুরি শূন্যতা হতে হবে। ওখানে একটি আল আকসা উঠবে।
একটি সেক্রেটারি ওখানে একটি পাহাড় বিল্ড করার কথা বলেছে।
ওই শ্যালকদের মগজ অত্যন্ত উর্বর, খাঁটি গোবরের মতো, কী চমৎকার প্ৰকল্প তার মাথায় এসেছে, যা আমার মাথায় কখনো আসতো না। আমরা যখন দেশকে স্তান করে তুলবো, দিকে দেকে যখন সবাই গাইবে পাক সার জমিন, তখন ওই বাঞ্চস্তকে বহনফাকারকে মাদারফ্যাকারকে একটা বড়ো প্রমোশন দিতে হবে; বাঞ্চিতটাকে না হয় আমারই সেক্রেটারি করে নেবো। ও ভালো চাকর হবে, চুষতে বললে চুষবে।
আমি দূর থেকে মঠটিকে দেখছি।
আশ্চৰ্য, ওটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে, আমাদের ভয় পাচ্ছে না বেতমিজটি। তাতে আমার রাগ হয়; ইচ্ছে হয় ওর বুকে একটা ছুরি ঢুকিয়ে দিই, ওকে বলি দিই। তবে ছুরি বা তলোয়ারে কাজ হবে না, আমাদের বিস্ফোরকবিদদের লাগবে, তারা তাদের প্রতিভায় ধবংস করবে। কাফেরদের প্রতিভা।
পেটমোটা চাকরানিফাকার অসিটা একবার সালাম দিয়ে গেলো কয়েকটা দারোগা নিয়ে, রাস্কেল ইউএনওটাও ফোন করে মোবারক বাদ জানিয়েছে, ডগপুশার ডিসিটাও; তারপরও মঠটি দাঁড়িয়ে আছে!
শ্যামসিদ্ধি ঢুকতেই প্ৰথম দেখি এটি একটি শূন্য গ্রাম, আমাদের মেইন পার্টির কিছু খিলজি ছাড়া কেউ নেই, তারা মালাউন ও মালাউনদের দালালদের গরু বাছুর হাঁস ছাগল মুরগি নিজেদের গোয়ালে নিয়ে তুলছে; ঘরবাড়ি ভাঙা বা ওগুলোতে এখনো পেট্রোল ঢালতে শুরু করে নি। কারণ এই দিনটি আমাদের, এটা আমাদের মহত্ত্বের দিন; খিলজিরা এরা মেনে নিয়েছে, ওদের দিনে যেমন ওরা জয় করে, তেমনি আমাদের দিনে আমরা জয় করি; কেউ কারো জয়ের ওপর হাত দিই না।
তবে এখন খিলজিদের সময়, ওরাই বেশি জয় করছে, ওরাই বেশি ছহবত করছে; ওরাই ঘরবাড়ি বেশি ভরে তুলছে; একদিন ওদেরগুলোও হবে আমাদের। জিহাদিরা ঘুরে দেখে কেউ নেই, ছহবত করার মতো একটি বুড়িও নেই, একটা গেলমানও নেই; আগে বুঝতে পারলে কয়েক দিন আগে থেকেই গ্রামটিকে জিহাদিদের দিয়ে ঘিরে রাখতাম।
জয়ের পর, নতুন সৃষ্টির পর, ছহবত হচ্ছে বেহেশতের রহমত।
জিহাদিরা কয়েকটি ভাঙা ঘরে আগুন লাগায়; আগুন ভালো জ্বলে না।
আমি নিজে শান্তির ঠাণ্ডা আগুন পছন্দ করি।
আমি তাদের বলে দিয়েছি আগুন লাগিয়ে স্তানের সম্পদ নষ্ট করবে না, আর দূর থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা তার ছবিও তুলতে পারে, এক-আধটি পত্রিকা তা ছাপতেও পারে; আর বাঞ্চত ওয়েবসাইট ইন্টারনেটের যুগে–আস্তাগফেরুল্লা, এইগুলিও নাছারাদের চক্রান্ত–ওই সব ছবি আজই ইহুদিদের, মালাউনদের, দেশে পৌঁছে যেতে পারে।
