মোঃ আবু লাদেন ও আমার বডিগার্ডরা আমাকে ঘিরে আছে, তার গার্ডরাও আমাকে ঘিরে আছে; আমি এটাই চাই, চোখ রাখছি। আবু লাদেনের চোখমুখের ওপর, তার ঈমান খতিয়ে দেখছি। না, সে মোঃ হাফিজুদ্দিন হয়ে উঠবে না; এটা আমাকে শান্তি দেয়। আজ ফেস্টুনপ্ল্যাকার্ড আরো বেশি, ষোলোটি নিশানে বড়ো বড়ো লাল অক্ষরে লেখা হয়েছে ‘আলিগঞ্জ’, নিশানগুলো জের জবর পেশসহ মঠ পেরিয়ে আকাশে উঠে যেতে চাচ্ছে, আকাশেও আমি শত শত নিশান উড়তে দেখছি—শুনছি পাক সার জমিন সাদ বাদ।
আমার চিত্ত পুলকে সুখে শান্তিতে তেজে ভ’রে উঠছে, স্পেন বিজয়ের সময় যেমন ভ’রে উঠেছিলো তারিকের চিত্ত, মনে হচ্ছে। আমি একটি সাগর পেরিয়ে উঠবো গিয়ে আরেকটি মহাদেশে, সেটিকে জয় করবো; যদিও এখানে কোনো পাহাড় নেই, যার নাম রাখতে পারি। আমার নামে; তবে আমি ঠিক তারিক হতে চাই না, আফ্রিকার মুর মুছলমান হতে চাই না, মুসা তাকে যেভাবে নিশ্চিহ্ন করেছিলো, সেভাবে আমি লুপ্ত হতে চাই না। মুসাও আমি হ’তে চাই না, খালিদ বিন ওয়ালিদ যো-পুরস্কার দিয়েছিলো মুসাকে, তাও আমি চাই না।
আমি দূর থেকে দেখছি সবুজ শ্যামসিদ্ধি ও তার মঠটি থরথর করে কাঁপছে; কাঁপতেই হবে, ভূমিকম্পে মাটি ও পাথর না কেঁপে পারে না; আর যা ধ্বংস হবে, সে আগেই তা টের পায়; তার ভেতরে রোজকেয়ামতের খবর পৌঁছে যায়। মঠটি টের পেয়ে গেছে আজই তার শেষ দিন; তাই সেটি কাঁপছে, কাপতে কাপতে নিজেই পড়ে যেতে পারে। কিন্তু আমি বাঁকে বাকে পাখি দেখি, উড়ন্ত রঙ দেখি, রঙে রঙে আঁকা ছবি দেখি, পাখিদের সুর শুনি; অনেক বছর আগে থেকে উড়ে আসছে ওই রঙ ওই ছবি ওই সুর। আস্তাগফেরুল্লা, ছবি আমি দেখতে পারি না, ছবি দেখা কাফেরদের কর্ম।
আমি জানি এখন তিনটি মোবাইল কলকল ক’রে বেজে উঠবে, থামতে চাইবে না। ওগুলো আমি বন্ধ রেখেছিলাম, মোবাইলে আবর্জনা শুনে শুনে আমার কান পাচে গেছে; কিন্তু বন্ধ রাখলে আমার নেতারা, মোবারকবাদীরা, শুভার্থীরা, কংগ্ৰেচুলেশন্সীরা হৃদরোগে ভুগবে।
অনেকে সালাত আদায়ের কথা ভুলে বারডেম ইছলামি হাসপাতালে ছুটবে।
তাদের একটু দয়া করা দরকার, তাদের জন্যে আমি ওগুলো অন করি।
আজ ‘আলি দিবস’, আজ বদলে যাবে পুরোনো ইতিহাস, তা শূন্যতায় পরিণত হবে, তার সমস্ত পৃষ্ঠা আগুনে ছাই হয়ে যাবে, মহাকালের ইতিহাসগ্রন্থে লিখিত হবে একটি নতুন, চিরভম্বর, স্বর্ণীক্ষরে লিখিত পৃষ্ঠা। ইতিহাস, আমি জানি, কখনোই শাশ্বত নয়, চিরসত্য নয়; যে জয় করে ইতিহাস তার, ইতিহাস লেখে জয়ীর পরিচারকেরা, খোজা ভৃত্যরা; আমার খোজা ভৃত্যরাও নতুন ইতিহাস লিখবো। আমি শিহরণ উত্তেজনা পুলক বোধ করি, যেমন প্ৰথম ঘোড়ায় চড়ে সিন্ধুর উদ্দেশ্যে বেরোনোর সময় শিহরণ বোধ করেছিলেন মুহম্মদ বিন কাশিম। তবে আমি বিজয়ের পর বিন কাশিমের মতো লুপ্ত হতে চাই না, আমি চাই না কেউ আমাকে পুরস্কার দেয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে বেহেশতে পাঠিয়ে দিক, আপতত আমি বেহেশতের থেকে পৃথিবীর জাহান্নামই পছন্দ করি; আমি অজস্র রুঞ্জিন পাখির ওড়াওড়ি দেখি, আর একটি স্বৰ্ণলতা দেখি। কোনো কিছুই চিরকাল চিরউন্নত থাকতে পারে না, তার শীর্ষ যতোই উঁচু হোক, একদিন তাকে ভেঙে পড়তে হয়; আমি সুখ পাই এক সময়ের ঘাসফুল আমি, অত্যন্ত ছোট্ট, একটু লাল একটু হলদে, কিছুক্ষণ পর ধ্বংস করবো তাকে, যে আমার থেকে অনেক বৃহৎ ছিলো।
বৃহৎকে যে ধ্বংস করে সে হয় বৃহত্তর, মহৎকে যে ধ্বংস করে সে হয় মহত্তর। আমি বৃহত্তর হতে চাই, মহত্তর হতে চাই; আমার রক্ত বলছে, ‘তুমি বৃহত্তর হও, মহত্তর হও।’ ধ্বংস না করে আমি বৃহত্তর মহত্তর হতে পারি না। ধবংস আমাকে করতেই হবে।
সবাই প্রস্তুত; আমার জিহাদিরা, ক্ষৌরকারেরা, গোলন্দাজেরা, পদাতিকেরা, এবং বিস্ফোরকবিদেরা। আমিও প্ৰস্তুত। আমি আমার ‘গোলাপ-ই-সাহারা’য় গিয়ে একবার সালাত আদায় করতে চাই; কিন্তু মোবাইল, ও মোবাইল, ও মোবাইল। নাছারারা এটি আবিষ্কার করেছে আমাকে পাগল করার জন্যে।
আমি পাগল হতে থাকি, একটির পর একটি মোবাইল আমাকে পাগল করতে থাকে :
‘আইজ হইছে তোমার শ্ৰেষ্ঠ দিন, তুমি মালাউনগো মঠ ধ্বংস কর, যেমুন লাত মানৎ উজ্জার মূর্তি ধ্বংস করা হইছিল, তোমার দিকে আমরা চাইয়া রাইছি, আমাগো সারা দুনিয়ার ভাইরা চাইয়া রইছে।’
‘তোমার উপর আল্লার রহমত রাইছে, তুমি কাইল আমাগো আগাই দিছ, আইজ আরও আগাই দিবা, তুমি এইখানে পাক স্তান কায়েম করবা, ইনশাল্লা, আমরা আবার পাক সার জমিন সাদ বাদ গামু।’
‘কাফেরগো, মালাউনগো ওই মন্ড পাক স্তানে থাকব না, মড হইল শির্ক, ওইখানে অটব মছজিদ। আল্লা হাফেজ।‘
‘অ্যাডভান্স কংগ্ৰেচুলেশন্স ফর ইউ অ্যান্ড ইউর জিহাদিস, ইউর হোলি ওয়ারিয়ারস, ডেস্ট্রয় দ্যাট ব্লাডি মঠ, দ্যাট টেম্পল অব দি বাস্টার্ডস, অ্যাজ আওয়ার ফোর ফাদারাস ডেস্ট্রয়ড আলেকজান্দ্ৰিয়া, অ্যান্ড দি টেম্পলস ইন স্পেইন, ইন মহেনজোদারো, ইন ইন্ডিয়া। ইউ আর আওয়ার তারিক, আওয়ার ইখতিয়ারউদ্দিন খিলজি, আইচ্ছা আইখানে ইজ দেয়ার এনি হিল, অই মিন এনি পাহাড় লাইক জাবালুক্তারিক?’
‘হোয়াট এ পিটি, উই উইল বিন্ড এ হিল দেয়ার, ইফ ন্যাছেছারি উই উইল ইমপোর্ট এ হিল ফ্রম পাকিস্থান অর আফগানিস্থান, অ্যান্ড নেইম ইট আফটার ইউ, প্লিজ ডু কাম টু মাই প্যালেস টুমরো।’
