হায় জনগণ, কী সহজে তোমরা বিদ্রোহী থেকে পরিণত হও ক্রীতদাসে।
হায় জনগণ, যারা একদিন রক্ত দিতে ভয় পেতে না, তারা আজ চেটে খাচ্ছো পায়ের ধুলো; রক্ত তোমাদের আজ পুঁজে পরিণত।
হায়, জনগণ, হায় সিংহ, এতো সহজে পরিণত হও শুয়োরে।
হায় মহানায়ক, তুমি বুঝতে পারছো না আত্মহত্যা করেছো তুমি; তোমার জীবনে শুরু হলো ধারাবাহিক আত্মহত্যা।
হায় মহানায়ক, ইতিহাস থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যাচ্ছো তুমি।
হায় মহানায়ক, বুঝতে পারছো না তুমি এখন কী।
হায় মহানায়ক, তোমার পতনে আমি গভীর বেদনা বোধ করছি; তোমার এমন পতনের কথা ছিলো না।
কয়েক রাত ধ’রে ঘুমোতে পারছে না হাসান; নিশ্বাস বন্ধ, চারদিকে অন্ধকার, স্তব এবং স্তব এবং স্তব, বিশেষণ এবং বিশেষণ এবং বিশেষণ, অতিশয়োক্তি এবং আরো অতিশয়োক্তি এবং আরো অতিশয়োক্তি, মালা, দলে দলে গিয়ে একদল।
কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ – ১৩
শ্যামলী ফোন করেছে, অনেক দিন তোমাকে দেখি না, কাছে পাই না, খুব শূন্য হয়ে আছি, আমি বেঁচে নেই।
শ্যামলীর কণ্ঠস্বরটাকে একটি ছোট্ট বালিকার স্বর মনে হয়। হাসানের, অনেক দিন পর তাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে, মনে হয়। ওই স্বর তাকে অন্ধকার থেকে উদ্ধার করছে, তাকে নিশ্বাস ফিরিয়ে দিচ্ছে।
হাসান বলে, আমিও তোমার অভাব খুব বোধ করছি, তুমি কি আসতে পারো?
শ্যামলী বলে, আসার জন্যেই তো পাগল হয়ে আছি, তুমি তো ডাকো না।
হাসান বলে, এসো, আমি অন্ধকারে আছি, আমাকে উদ্ধার করো, আলো জ্বলো, নিশ্বাস ফিরিয়ে দাও আমাকে।
শ্যামলী জিজ্ঞেস করে, কেনো, কী হয়েছে?
হাসান বলে, তুমি কি দেশ জুড়ে একদলের অন্ধকার দেখতে পাচ্ছো না?
শ্যামলী বলে, চুপ, চুপ, কেউ শুনতে পাবে, তোমার বিপদ হবে।
হাসান বিছানা থেকে ওঠে না, গড়াতে থাকে, উঠতে তার ইচ্ছে করছে না; আজি সে অফিসে যাবে না, জানিয়ে দিলেই চলবে। অন্ধকার কাটানোর জন্যে শুয়ে শুয়ে সে নিজের নগ্নতা উপভোগ করতে থাকে; ঘণ্টাখানেকের মধ্যে শ্যামলী এসে ঘণ্টা বাজালে সে নগ্নদেহেই গিয়ে দরোজা খুলে দেয়।
শ্যামলী তাকে দেখে মধুর চিৎকার ক’রে ওঠে, হায়, তুমি যে উস্থুর ন্যাংটা।
হাসান বলে, আমার ইচ্ছে হয় প্রত্যেক ভোরে তুমি আমাকে এভাবে দেখো।
শ্যামলী বলে, আর তুমিও আমাকে প্রতিভোরে এভাবে দেখতে চাও?
হাসান বলে, হুঁ, চাই; শুধু ভোরে নয়, দুপুরে, বিকেলেও, সন্ধ্যায়ও রাতেও।
শ্যামলী হোসে, হাসানের একটি প্রত্যঙ্গ ছয়ে বলে, তোমাকে এভাবে দেখতে আমার ভালোই লাগছে, চমৎকার শরীর তোমার। একটু দাড়াও দেখি।
হাসান বলে, তোমাকে এভাবে দেখতেও আমার ভালো লাগবে; তোমার শরীরও চমৎকার।
শ্যামলী হেসে সুখে বলে, জানো তো আমি তোমার ছ-বছরের বড়ো?
হাসান বলে, কিন্তু তুমি এখনো বিশ বছরের মতো দেখতে, আমার সাথে তোমাকে বেশ মানায়।
শ্যামলী বলে, তুমি বোধহয় একটি বউ চাও।
হাসান বলে, তা জানি না, হয়তো চাই, হয়তো চাই না।
শ্যামলী বলে, আমাকে তুমি তোমার বউ হিশেবে চাও?
হাসান বলে, তাও জানি না, হয়তো চাই, হয়তো চাই না। শ্যা
মলী বলে, তোমার বউ হতে পারলে বেশ হতো।
হাসান গড়াতে থাকে; দেখে অবাক হয় যে শ্যামলী তার পাশে বসছে না, খুঁজে খুঁজে পাউরুটি, ডিম, মাখন, জ্যাম বের করছে টোস্টারে পাউরুটি সেঁকছে, মাখন লাগাচ্ছে, কেটলিতে পানি গরম ক’রে চা বানাচ্ছে।
শ্যামলী দূর থেকে চিৎকার ক’রে বলে, মুখ ধুয়ে নাও, শেভ ক’রে নাও, তোমার ব্রেকফাস্ট প্রায় তৈরি।
হাসান বলে, আজ মুখ ধুবো না, শেভ করবো না, আজ নতুন জীবন শুরু।
হাসান, তুমি এই চাও শ্যামলীর সাথে? এই জীবন তোমার কাছে অপূর্ব লাগে?
এক নারীর হাতে ব্রেকফাস্টে, যে-নারী তোমার স্ত্রী? স্ত্রী কি অপূর্ব?
হাসান এটুকু ভাবতে না ভাবতে শ্যামলী ব্রেকফাস্ট এনে রাখে বিছানার পাশের ছোট্ট টেবিলে।
শ্যামলী হোসে, হাসানের মুখের কাছে তার টলটলে মুখটি এনে, বলে, মনে করো আমি তোমার বউ।
হাসান ব্রেকফাস্টে হাত লাগায় না, হাত লাগায় শ্যামলীর শরীরে; তাকে টেনে এনে চুমো খায়, বলে, আজ আমি মেল শভিনিস্ট পিগ, পুংগবী শুয়োর, আজ নারী, আমার রমণী, আজ তুমিই আমার ব্রেকফাস্ট, তুমিই আমার মাখনমাখা পাউরুটি, তুমিই আমার কাঁচা ওমলেট।
শ্যামলী বলে, না, না, এখন নয়, আগে খেয়ে নাও।
হাসান বলে, না, আগে আমি বউ খাবো। যখন তারা সুখকরভাবে ক্লান্ত হয়, বন্যার ধীর জলে ভেসে যাওয়া খড়ের ঘরের মতো সুন্দরী কাঠের কোশানৌকোর মতো কলাগাছের ভেলার মতো এদিক সেদিক ভাসতে থাকে, তখন দুপুর।
হাসান শ্যামলীর তলপেটে আঙুল বোলাতে বোলাতে বলে, আমি চাই আজি এখানে একটি ভ্রণ জন্ম নিক।
শ্যামলী অন্য জগত থেকে জেগে উঠে। জিজ্ঞেস করে, কী চাও, তুমি কী চাও?
হাসান বলে, আমি চাই এখানে একটি ভ্রণ জন্ম নিক।
শ্যামলী বলে, না, না, আমি আর সন্তান চাই না।
হাসান বলে, আমি দেখতে চাই কীভাবে তোমার ভেতরে বেড়ে ওঠে তোমার আমার সন্তান।
শ্যামলী বলে, তোমার সন্তান তো আমি নিতে পারি না।
হাসান জিজ্ঞেস করে, কেনো পারো না? আমার সন্তান কি চণ্ডাল?
শ্যামলী বলে, আমার হাজব্যান্ড আছে; তোমার আমার সন্তান হ’লে তা হবে। অবৈধ, লোকে বলবে জারজ।
হাসান বলে, সন্তান হচ্ছে সন্তান, সন্তানের আবার বৈধ অবৈধ কি?
