হ্যাঁ। আপনি কোম্পানির সিকিউরিটি না নিয়ে নিজস্ব সিকিউরিটির ব্যবস্থা করতে পারেন। খরচ ওঁরা দেবেন।
গুড।
আপনার অফার কী?
এটা গরিব দেশ, খুব বেশি চাওয়া হয়তো ঠিক হবে না।
দেশ গরিব হোক, ওঁরা তো গরিব নন। বছরে কয়েক কোটি ডলার টার্নওভার। আপনি ছাড়বেন কেন?
ঠিক আছে, বেতনটাকে তিনগুণ করে দিতে বল।
তার মানে তিন লাখ?
হ্যাঁ। আর ওই পঞ্চাশ হাজার।
রেটটা চিপ হয়ে গেল না?
আরে না। এটা তো স্টপ গ্যাপ ব্যবস্থা।
গোপীদা আপনি সাক্কিতে কত বেতন পেতেন?
সে অনেক টাকা। আমার হিসেব নেই। তবে ফেবুলাস সামথিং। ব্যাঙ্কে জমা হত। টাকা রোজগারটা আমার কাছে অর্থহীন লাগে এখন। কোনও মানে হয় না। টাকা খরচা করারও তো পথ পাই না।
গরিবদের দিলে পারেন তো৷
দূর বোকা? তোর কি ধারণা গরিবদের টাকা বিলিয়ে দিয়ে তাদের উপকার করা যায়? টাকার ব্যবহার গরিবরা জানেই না। উলটোপালটা খরচ করে, মদটদ খায়, ফুর্তি করে। গরিবদের যদি কখনও দিতে হয় দিবি, কিন্তু আন্ডার গাইডেন্স, নইলে ওই টাকা কারও কারও বিপদ ডেকে আনতে পারে।
বুঝলাম। এবার আপনি ফ্ল্যাটে চলে আসুন। আমরা অপেক্ষা করছি।
আমরা। আমরাটা কে?
আমি আর আমার এক কলিগ।
কলিগকে টেনে এনেছিস কেন?
ইনি ভাল সিকিউরিটির কাজ জানেন বলে এনেছি।
তোকে তো বলেইছি আমার সিকিউরিটি গার্ড লাগবে না।
তবু দেখুন, পছন্দ না হলে ফিরিয়ে দেবেন।
তোকে নিয়ে আর পারা যায় না। পুলিশ এসেছে? উঁকি মেরে দেখ তো?
এখনও আসেনি গোপীদা।
গুড। আমি আসছি।
গোপীনাথ ফোন রেখে দেওয়ার পর সুব্রত ফোনটা ধীরে নামিয়ে রেখে ফিরে সোনালির বিবর্ণ মুখ দেখতে পেল।
কী বলছিল ও?
গোপীদাকে যতটা ইমপ্র্যাকটিক্যাল ভাবতাম ততটা নন। ক্লিয়ার ব্রেনে ভাবছেন। ডিটেলসে ভাবছেন, দ্যাটস এ গুড সাইন।
সোনালি দুর্বল গলায় বলল, কীসের গুড সাইন বলুন তো! আপনারা কি পাগল হয়ে গেলেন? এরকম ঝাকে ঝাকে গুলি ছুঁড়ে গেছে, আর একটু হলেই তো মরত, গুড সাইন কীসের?
আছে সোনালিদি, আছে। হি ইজ লিভিং ডেনজারাসলি, ঠিক কথা। কিন্তু উনি যে সিচুয়েশনটা সম্পর্কে সচেতন সেটাও তো একটা প্লাস পয়েন্ট।
এসব হেঁয়ালি আমি কিছু বুঝতে পারছি না।
সুব্রত একটু হেসে বলল, আসলে বিপদ দেখে আপনি খুব ঘাবড়ে গেছেন, যাওয়ারই কথা, কিন্তু গোপীদা ঘাবড়াননি।
কী হয়েছিল বলল?
লোকটা যখন ভরা বেয়ে ওপরে উঠেছিল তখন গোপীদা কম্পিউটারে কাজ করছিলেন, উনি বললেন, উনি ঘরের আলোয় খুব সূক্ষ্ম একটা চেঞ্জ টের পেয়েছিলেন, বুঝলেন?
বুঝলাম।
না সোনালিদি, বোঝেননি। আরও তলিয়ে ভাবুন। নরম্যালি এত সূক্ষ্ম চেঞ্জ ধরাটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার নয়, বিশেষ করে যখন আপনি খুব মন দিয়ে কোনও কাজ করছেন।
ও, তাই বুঝি?
তার মানে কী জানেন তো! গোপীদার সিক্সথ সেন্স খুব ভাল কাজ করছে। আর সেটাই এই সিচুয়েশনে সবচেয়ে ভাল খবর। ইট উইল সেভ হিম।
সোনালি ভ্রু কুঁচকে বলল, কিন্তু একদিন যদি সিক্সথ সেন্সটা ফেল করে তা হলে কী হবে?
সুব্রত নিপাট ভালমানুষের মতো বলল, সেইজন্যই তো আপনাকে দরকার।
আমাকে। বিস্মিত সোনালি বলল, আমাকে দিয়ে কোন কাজ হবে?
গোপীদার এখন বোধহয় সবচেয়ে প্রয়োজন আপনাকে। নইলে এই ত্রিভুবনে গোপীদার আর কোনও বন্ধু নেই।
কেন, আপনিই তো আছেন।
হ্যাঁ, আমিও গোপীদার খুব বিশ্বস্ত বন্ধু বটে, কিন্তু আমি চব্বিশ ঘন্টার বন্ধু নই।
আপনার গোপীদার কোনও বন্ধু নেই কেন বলুন তো।
যাঁরা জিনিয়াস তারা একটু বন্ধুহীন হন। আসলে ইন্টেলেকচুয়ালি তারা এত হাই যে, সমান মাপের মানুষ পাওয়া মুশকিল। তা ছাড়া ইগো প্রবলেম তো থাকেই।
তবু স্বীকার করবেন না যে, আপনার গোপীদা স্বার্থপর।
সুব্রত সবেগে মাথা নেড়ে বলল, না সোনালিদি, গোপীদা একজন হেল্পলেস ম্যান। কতটা অসহায় তা হয়তো আপনি জানেন না। এমনিতেই উনি একটু আনসোশ্যাল, সংসারী নন, তার ওপর কাজপাগল। আর এখন তো ঘোরতর বিপদে পড়ে সম্পূর্ণ এক্স কমিউনিকেটেড। উনি চাকরিটা নিতে চাইছেন কেন জানেন, টু বি ইন দি গেম এগেন। চাকরিতে জয়েন করলে বিপদও আছে। হি উইল হ্যাভ টু লিভ অ্যান এক্সপোজড লাইফ, ইজি টারগেট। গোপীদার সত্যিই কোনও বন্ধু নেই সোনালিদি।
সোনালি গম্ভীর হল। চিন্তিতও হয়তো উদ্বিগ্নও। সামান্য ধরা গলায় বলল, তবে চাকরি করতে দিচ্ছেন কেন? বারণ করুন না।
বারণ করার আমি কে? ওঁর ওপর আমার অধিকার সামান্য, তা ছাড়া ওঁর অলটারনেটিভই বা কী? পালিয়ে থাকলেও খুব সুবিধে হবে না, ওঁর পিছনে কারা লেগেছে তা তো বুঝতেই পারছেন। দুনিয়ার সবচেয়ে কৃতবিদ্য খুনিরা। তাও এক তরফ নয়, দুই তরফ, উনিও সেই কথাই বলছিলেন, পালিয়ে থেকে হবেটা কী, বরং ঘটনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হবে।
সোনালি ভাবছিল। ভ্রু কোঁচকানো এবং দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে থেকে। একটু বাদে বলল, আমার কী করা উচিত তা বুঝতে পারছি না।
যদি ইচ্ছে করে তবে গোপীদাকে বাঁচানোর একটা চেষ্টা করতে পারেন।
আপনি তো জানেন, উই আর নো মোর রিলেটেড অ্যাজ হাজব্যান্ড অ্যান্ড ওয়াইফ। উই ওয়ার নেভার গুড ফ্রেন্ডস। সত্যি কথা বলতে কী, উই হ্যাড ভেরি লিটল রাপোর্ট। ওঁর সঙ্গে আমার দেখা হত খুবই কম।
আমি গোপীদাকে জানি সোনালিদি, লোকটা ওই রকমই। কাণ্ডজ্ঞানের বেশ অভাব। কিন্তু হোপফুলি হি হ্যাজ চেঞ্জড।
