প্রথম অধ্যায়ে অতিথিরা সহজ সাধারণতখন—কেমন আছেন? হাউ ড়ু ইউ ড়ু? মিসেস সেনকে দেখছি না কেন! উনি কি রামকৃষ্ণ মিশনে দীক্ষা নিলেন নাকি? পুওর মিস্টার সেন! মেয়েদের এই বয়সটা ডেঞ্জারাস। একটু অসাবধান হয়েছেন কি দেখবেন বাড়ির বউ মিশনে মন দিয়ে বসে আছেন। অসহ্য। যা হোক, মিসেস পাকড়াশী এতদিনে তা হলে একটা কাজের কাজ করলেন। আরও দুবছর আগে অনিন্দ্যর বিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। এখন ওয়েস্টের দিকে তাকিয়ে দেখুন—অ্যাভারেজ ম্যারেজবল এজ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। যোলো-সতেরো বছরের ছেলেমেয়েরা বিয়ে করে সংসার পাতছে, পেতেই মেটারনিটি হোমে যাচ্ছে। আর ইন্ডিয়াতে বিয়ের বয়স শুধুই বাড়ছে কিছুদিন পরে হয়তো অ্যান্টি-সারদা অ্যাক্ট পাশ করাতে হবে।…কংগ্রাচুলেশনস মিসেস পাকড়াশী। হোয়াট অ্যাবাউট এ ড্রিঙ্ক?।
নিচ্ছি, মিস্টার ব্যানার্জি। আমি অরেঞ্জ স্কোয়াশ নিচ্ছি। তা বলে আপনারা লজ্জা করবেন না। আপনারা ওদের দুজনের হ্যাপি লাইফ ড্রিঙ্ক করুন। ক্যারি অন। শ্যামপেন ককটেলও রয়েছে। আচ্ছা চলি, ওখানে মিস্টার আগরওয়ালা একলা দাঁড়িয়ে রয়েছেন, আমাদের জন্যে উনি অনেক করেন। রিয়েল ফ্রেন্ড।
মিসেস পাকড়াশী চলে যেতেই ব্যানার্জিকে বলতে শুনলাম, হ্যালো পি-কে, মিসেস পাকড়াশীর পার্টির মাথামুণ্ডু বুঝি না! ড্রেস ইভনিং করা উচিত ছিল। তা না লাউঞ্জ স্যুট। ব্যাড়। আফটার অল ইভনিং স্যুট না হলে পার্টির ডিগনিটি থাকে না। ক্যালকাটা যেভাবে উচ্ছন্নে যাচ্ছে তাতে এমন একদিন আসছে যেদিন তোমারই অফিসের ক্লার্ক লুঙি পরে তোমার পাশে বসে ড্রিঙ্ক করবে। অথচ তুমি কিছুই বলতে পারবে না।
দ্বিতীয় অধ্যায় একটু যোরালো।তখন হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে ময়ূরের মতোনাচে রে। শোনা গেল, কেন-যে আমরা কোট প্যান্ট টাই পরে গরমে সেদ্ধ হচ্ছি! কী দরকার এই সব ফরম্যালিটির? বোয়–খিদমতগার-ইধার আও। দো রোব বয় বানাও।স্কচ হুইস্কি, ব্রান্ডিশরাব ঔর এ-বিটি।জলদি জলদিখিদমতগার, তুম বহুৎ আচ্ছা আমি হ্যায়।.শ্রীমতী অনিন্দ্যকে দেখছ। জ্ব নয় তো যেন এক জোড়া ধনু! সহর্ষে ধনু ভঙ্গ করে ভদ্রমহিলা কথা বলছেন। আর একজন বললেন, ঠিক হল না। বলো, মৃগলোচনা সুন্দরী তার যৌবনমত্ত তনুদেহ হিল্লোলিত করে কথা বলছেন।
তৃতীয় অধ্যায়—হুইস্কির কল্যাণে তখন দারা-পুত্র-পরিবার তুমি কার কে তোমার। তখন চারিদিকে কথার ফুলঝুরি-জানেন, আমার ওয়াইফ কি সিলি? ড্রিঙ্ক করেছি শুনলে কাঁদতে আরম্ভ করে। আরে, এ কী ধরনের ন্যাকামো? সত্যি বলছি, আমি একটা এ ডবল এ। মাধব পাকড়াশীও তাই—আবার বাঙালি মেয়ের হাঙ্গামায় গেলেন। মোমের পুতুলটি ছোকরার লাইফ মিজারেবল্ করে দেবে। হ্যাঁ বাবা, বিয়ে যদি করতে হয় পাঁচ-নদীর তীরে। ওয়ান্ডারফুল, ওদের মেয়েরা ড্রিঙ্কের কদর বোঝে। রবি ঠাকুরও ওদের বুঝেছিলেন। না-হলে এত দেশ থাকতে পাঞ্জাবের নামটা জাতীয় সঙ্গীতে আগে ঢোকালেন কেন? পাঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মারাঠা দ্রাবিড় উত্তাল বঙ্গ—কবি একদম মেরিট অনুযায়ী সাজিয়ে দিয়েছেন। ওই দেখ, রাজপাল কেমন মিসেস রাজপালের সঙ্গে বসে মনের সুখে পেগের পর পেগ ফাঁক করে দিচ্ছে। কী নিয়েছে ওরা? প্যারাডাই? ওয়ান্ডারফুল-জিন, অ্যাপ্রিকট আর অরেঞ্জের মিক্সচার; সত্যিই স্বর্গীয়। যে নাম দিয়েছিল তার পেটে সামথিং ছিল, আর ওই নিসঙ্গ সুন্দরী, উনি কী টানছেন? ওঁর কদর অনেক, অনিন্দ্য পাকড়াশীর স্ত্রী সম্বন্ধে বোম্বাই-এর ফ্যাশন কাগজে প্রবন্ধ লিখবেন। হোয়াট? হোয়াইট লেডি নিয়েছেন—জিন আর লাইম? পুওর গার্ল–দেখে মনে হচ্ছে প্রিয়-বিরহক্লিষ্ট! ওঁর আসঙ্গমুগ্ধ নারীচক্ষু কাউকে খুঁজে পাক, ওঁর অধর লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠুক, তখন ওঁকে একটা পুরো গেলাস পিংক লেডি দাও। তাতে থাকবে জিন, সঙ্গে ডিম এবং গ্রেনাডিন। ওয়ান্ডারফুল। তখন ওঁর মৃগলোচনে কাজলের মসিরেখা ফ্লুওরেসেন্টে পেস্টের মতো জ্বলজ্বল করে। আরে ব্রাদার, তোমার হল কী? এরই মধ্যে হাত গুটিয়ে বসে আছ? তুমিও কি আজকালকার ফ্যাশনেবল্ লেম্বুপানি সায়েব হয়ে গেলে নাকি? বোকামি কোরো না। এমন সুযোগ রোজ আসবে না। এমন চান্স পাবে না। শ্যামপেন ককটেলে লোক কিছু তোমাকে রোজ ইনভাইট করবেনা।মনে থাকে যেন, এক পেগ বারো টাকা। টেনে নাও ব্রাদার। অক্ষিতারকার কটাক্ষ, স্ফুরিত অধরের হাস্য ভুলে গিয়ে কারণ-সাগরে ড়ুব দাও।
চতুর্থ এবং শেষ অধ্যায়ে অনেক কম লোক। তৃতীয় বারেই বোন্ড আউট হয়ে অনেকেই পালিয়েছে। হোস্টের তখন যাবার ইচ্ছে, কিন্তু পালাবার উপায় নেই। অতিথিদের মধ্যে ড্রিঙ্ক ছেড়ে উঠবার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না কেউ নেশার ঘোরে অহিংসপথে সত্যাগ্রহ করে বসে আছেন। আর কেউ হয়ে উঠেছেন হিংস্র। যেন কাচের বাসনের দোকানে মত্ত ষাঁড় ঢুকে পড়েছে। গেলাস ভাঙছে, খালি বোতল ছোড়াছুড়ি চলেছে। কী যে হচ্ছে কেউ বুঝতে পারছে না। মিসেস পাকড়াশী স্বামীর সঙ্গে সরে পড়েছেন। পাকড়াশী ইন্ডাস্ট্রিজের পি-আর-ও শুধু বিল মেটাবার জন্যে এবং প্রয়োজন হলে পুলিসের হাঙ্গামা সামলাবার জন্যে রয়ে গেলেন। এক এক করে হঘর প্রায় শূন্য হয়ে গেলো। কিন্তু তখনও দু-একজন সেখানে বসে থাকতে চান। পি-আর-ও বললেন, স্যার, বার বন্ধ করবার সময় হয়ে আসছে।
শাট আপ। এ কী ধরনের ভদ্রতা? নেমন্তন্ন করে নিয়ে এসে না খেতে দেওয়া?
