সে কি, হাত মুখ ধোবে না? নাস্তা করবে না?
রেখে দাও তোমার হাতমুখ ধোয়া আর নাস্তা খাওয়া। কি আশ্চর্য যাকে আজ ক’দিন পুলিশ অহরহ খুঁজে বেড়াচ্ছে যার তল্লাশে সমস্ত পুলিশ বিভাগ আহার নিদ্রা বিশ্রাম ত্যাগ করেছে। এমনকি পুলিশ সুপার পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন–সে শংকর রাওয়ের আবির্ভাব-একি কম কথা?
জামাকাপড় পরে মিঃ হারুন যখন পুলিশ অফিসে পৌঁছলেন তখন সকাল সাতটা বেজে গেছে। অফিসে তোক ধরছে না। মিঃ হারুনকে দেখে সবাই পথ ছেড়ে সরে দাঁড়ালো।
মিঃ হারুন কক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন একটা চেয়ারের উস্কুখুস্কচুল, কোটরাগত চোখ-উত্তেজিতভাবে বসে আছেন মিঃ রাও। তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়েছেন কয়েকজন পুলিশ অফিসার।
মিঃ হোসেন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে। মিঃ হারুনকে দেখে মিঃ হোসেন বলেন–গুড মর্নিং মিঃ হারুন। আজ আমাদের সুপ্রভাত।
মিঃ হারুন মিঃ হোসেনের সাথে হ্যান্ডশেক করে মিঃ রাওয়ের সামনে এসে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন। তারপর শংকর রাওয়ের আপাদমস্তক লক্ষ্য করে বলেন– স্ত্রীর ঔষুধ আনতে গিয়ে কোথায় উধাও হয়েছিলেন মিঃ রাও?
শংকর রাও কিছু বলার পূর্বেই বলে ওঠেন মিঃ হোসেন–উনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। আমি উনার মুখে যা শুনলাম বলছি।
বলুন?
মিঃ রাওয়ের কাছে শোনা সমস্ত ঘটনা মিঃ হোসেন ইন্সপেক্টার মিঃ হারুনের কাছে বলেন। আরও বলেন–মিঃ রাও ভেবেছিলেন তিনি দস্যু বনহুরের অনুচরের হাতে বন্দী হয়েছিলেন। কিন্তু তা নয়। মিঃ রাওয়ের উধাওয়ের ব্যাপারে দস্যু বনহুর নেই বা ছিল না বরং তাকে উদ্ধার করেছে দস্যু বনহুর।
মিঃ হারুন–দস্যু বনহুর আমাকে রক্ষা করেছে। আমি তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। সেই মুহূর্তে সে যদি আমাকে উদ্ধার না করতো, তাহলে আমার বাঁচার কোনা আশা ছিল না।
শংকর রাও কথাগুলো বলতে বেশ হাঁপিয়ে পড়ছিলেন। তিনি পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ বের করে, মিঃ হারুনের হাতে দিলেন–দস্যু বনহুর চলে যাওয়ার সময় এই কাগজখানা আমাকে দিয়ে গেছে।
মিঃ হারুন কাগজখানা তুলে ধরলেন চোখের সামনে, তাতে লেখা রয়েছে মাত্র দুটি শব্দ–দস্যু বনহুর।
মিঃ হারুন জিজ্ঞাসা করলেন–আপনি তার পরিচয় জানতে চাননি?
চেয়েছিলাম, সে নিজের নাম মিঃ প্রিন্স বলেছিল। সত্যি মিঃ হারুন দস্যু বনহুরকে যুবরাজের মতই দেখাচ্ছিল।
হ্যাঁ, সে প্রিন্সের মতই দেখতে। কথাটা বলেন মিঃ হারুন। তারপর একটু ভেবে বলেন– তাহলে যে দস্যু বা ডাকু আপনাকে উধাও করেছিল সে বনহুরের দলের নয়?
না মিঃ হারুন, আমি এ কদিনে বেশ উপলব্দি করেছি যারা আমাকে পাকড়াও করেছিল তারা শুধু দস্যুই নয়, নারী হরণকারী দলও আমার মনে হয়, চৌধুরী কন্যাও তাদের হাতে বন্দী রয়েছে।
অনুমানে কিছু বলা যায় না, মিঃ রাও। চৌধুরী কন্যাকে কেউ পাকড়াও করে নিয়ে গেছে, না সে নিজেই গেছে তার সঠিক সন্ধান এখনও হয়নি।
মিঃ রাও বলেন– আমি যেসব প্রমাণ পেয়েছিলাম তাতে নিঃসন্দেহে বলতে পারি মিস মনিরাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাছাড়া তাদের বাড়ির পুরোন দারোয়ান খুন হওয়ার। পেছনে রয়েছে একমাত্র ঐ কারণ।
মিঃ রাও এমনও তো হতে পারে-বনহুর নিজে না এসে লোক দিয়ে কার্য সিদ্ধি করেছে এবং দারোয়ানকে খুন করিয়েছে। যাক সে সব কথা-এখন আপনি পূর্ণমাত্রায় বিশ্রাম গ্রহণ করুন। সুস্থ হলে কাজের কথা হবে।
শংকর রাও বলেন–বিশ্রাম নেবার সময় কই আমার মিঃ হারুন, আমি এই অবস্থাতেই কাজে নামতে চাই।
এই অসুস্থ শরীরে?
হ্যাঁ, মিঃ হারুন আমার সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ওরা সেখানে অপেক্ষা করবে না।
সেই শয়তানের কথা বলছেন।
হাঁ, যারা আমাকে এই এক সপ্তাহ তিলে তিলে শুকিয়ে মেরেছে। মিঃ হারুন আমি আর এক। মুহূর্ত বিলম্ব করতে চাই না। আপনারা আমাকে সাহায্য করলে আমি ওদের আস্তানা খুঁজে বের করতে পারবো।
আনন্দভরা কণ্ঠে বলেন মিঃ হারুন–আমরা আপনাকে সানন্দে সাহায্য করবো, কারণ এটা আমাদেরও ডিউটি।
তাহলে এক্ষুণি পুলিশ ফোর্সকে তৈরি হতে বলুন, আমি পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে পারব। কিন্তু মিঃ হারুন, আপনার সঙ্গে গোপনে একটা কথা আছে।
বেশ চলুন।
পাশের কক্ষে গিয়ে দাঁড়ালেন ওরা দুজন মুখোমুখি। মিঃ রাও বললেন– শয়তানদের পাকড়াও করার পর আমি ডক্টর জয়ন্ত সেনকে গ্রেপ্তার করতে চাই। কারণ, তিনি তাদের সঙ্গে জড়িত আছেন।
মিঃ হারুন বলেন– আমিও অনেক দিন থেকে ঐ রকম সন্দেহ করে আসছি কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে কিছু করতে পারিনি।
আমি হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছি মিঃ হারুন, শুনুন তবে।
বেশ বলুন।
রাও স্ত্রীর ঔষুধ আনবার সময় যে ঘটনা ঘটেছিল এবং যে কারণে ডক্টর সেনকে সন্দেহ করে তিনি তার পেছনে ধাওয়া করেছিলেন– সব খুলে বলেন।
মিঃ হারুন বলেন– ডক্টর সেন শুধু সেই বদমাইশদের সঙ্গেই জড়িত নেই, সে দস্যু বনহুরের সঙ্গেও জড়িত রয়েছে, নইলে এত ডাক্তার থাকতে দস্যু বনহুর আসে তার কাছে।
এসব আলোচনা পরে হবে মিঃ হারুন, আপনি তৈরি হয়ে নিন।
আমি তৈরি হয়েই এসেছি মিঃ রাও চলুন কোথায় যেতে হবে।
তারপর মিঃ হারুন মিঃ হোসেনকে ডেকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে দুটি মোটর ভ্যানকে তৈরি হতে বলেন।
কিন্তু যখন শংকর রাও এবং পুলিশ ফোর্স সেই পুরানো বাড়িটায় গিয়ে পৌঁছলেন, তখন সে বাড়ি শূন্য হয়ে গেছে। সারাটা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও কিছু পাওয়া গেলনা। তবে এটা বুঝা গেল–সকাল হবার পূর্বেও এ বাড়িখানাতে মানুষ ছিল।
