না, আমি এই খুনের রহস্য ভেদ না করে ফিরে যাব না। কে তুমি আমাকে জানতে হবে।
হাঃ হাঃ হাঃ, ছায়ামূর্তির আসল রূপ তুমি দেখবে? কিন্তু তুমি আমার আসল চেহারা দেখলে শিউরে উঠবে। ওপরের খোলসের চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর আমার ভেতরের চেহারা।
যত ভয়ঙ্করই হউক না কেন, ভয় পাই না আমি। জাফরী কোনদিন ভয়ঙ্কর দেখে ভয় পায়। না। কথার ফাঁকে মিঃ জাফরী পুনরায় তার রিভলভারে হাত দিতে যান।
কিন্তু তার পূর্বেই ছায়ামূর্তি মিঃ জাফরীর রিভলভারখানা হাতে তুলে নিয়েছে। এবার বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে ছায়ামূর্তি গর্জে ওঠে– আলেয়ার পেছনে ছুটাছুটি না করে সত্যের সন্ধান কর। তাহলেই সব জানতে পারবে।
মিঃ জাফরী কিছু বলার পূর্বেই ছায়ামূর্তি খোলা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়লো বাইরে।
মিঃ জাফরী চিৎকার করে ডাকলেন– দারোয়ান, দারোয়ান– সঙ্গে সঙ্গে রিসিভার তুলে নিলেন হাতে–হ্যালো! হ্যালো পুলিশ অফিস? আমি মিঃ জাফরী, ডাকবাংলো থেকে বলছি। আপনি মিঃ হারেস?– এই মাত্র আমার কক্ষে ছায়ামূর্তি এসেছিল– মিঃ হারুন অফিসে নেই?ওপাশ থেকে ভেসে আসে মিঃ হারেসের ভীত কণ্ঠস্বর–আমি ইন্সপেক্টার সাহেবকে ফোন করছি। তাকে সঙ্গে করে কি ডাকবাংলোয় আসব?
আসতে আর হবে না। ছায়ামূর্তি ভেগেছে।
কি করবো তাহলে স্যার?
আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আচ্ছা, আপনি তাঁকে ফোন করে দিন। এক্ষুণি এখানে আসতে বলুন তাকে, আপনিও কয়েকজন পুলিশ নিয়ে চলে আসুন।
মিঃ হারুন সংবাদটা শোনামাত্র উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন– মিঃ জাফরীর কক্ষে ছায়ামূর্তি!
তৎক্ষণাৎ পুলিশ ফোর্সসহ মিঃ জাফরীর বাংলোয় ছুটলেন মিঃ হারুন।
বাংলোর চারপাশে তন্ন তন্ন করে অনুসন্ধান চালিয়েও ছায়ামূর্তির কোন খোঁজ বা চিহ্ন পাওয়া গেল না।
গোটা রাত অনিদ্রায় কাটালেন মিঃ জাফরী। সঙ্গে মিঃ হারুন ও তাঁর দলবলসহ জেগে রইলেন।
মিঃ জাফরী একসময় মিঃ হারুনকে লক্ষ্য করে বললেন– দেখুন মিঃ হারুন, এই ছায়ামূর্তি রহস্যটা ক্রমেই চক্ৰজাল বিস্তার করছে। আপনি গোপনে সমস্ত শহরের আনাচে কানাচে সি. আই. ডি. পুলিশ নিযুক্ত করে দিন।
স্যার, আপনার কথামত সি. আই. ডি. পুলিশ শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা আজও এই ছায়ামূর্তি সম্বন্ধে কোন রকম রিপোর্ট পেশ করতে সক্ষম হন নি।
আশ্চর্য সাহস এই ছায়ামূর্তির–আপনার কক্ষে যে নিঃসঙ্কোচে প্রবেশ করতে পারে। তাছাড়া বাংলোর চারপাশে কড়া পাহারা থাকা সত্ত্বেও সে কেমন করেই বা প্রবেশ করল! কথাগুলো বললেন মিঃ জাহেদ।
প্রায় ভোর হয়ে এসেছে। ঠিক এমন সময় হঠাৎ পুলিশ অফিস থেকে বড় দারোগা মিঃ জসীম ফোন করলেন।
টেবিলের ফোনটা ক্রিং ক্রিং করে বেজে উঠতেই মিঃ হারুন হাই তুলে উঠে দাঁড়ালেন, রিসিভার তুলে নিলেন হাতে– হ্যালো, স্পিকিং মিঃ হারুন। কি বলেন, ছায়ামূর্তি পুলিশ অফিসে …
কক্ষে সকলেই বিস্ময়ভরা দৃষ্টি নিয়ে তাকালেন মিঃ হারুনের দিকে। মিঃ জাফরী অস্কুট ধ্বনি করে উঠলেন– পুলিশ অফিসে ছায়ামূর্তি….. ছায়ামূর্তি পুলিশ অফিসে গিয়েছিল। এই নিন স্যার রিসিভারখানা মিঃ জাফরীর হাতে দেন মিঃ হারুন।
মিঃ জাফরী ফোনে মুখ রেখে গুরু গম্ভীর কণ্ঠে বলে ওঠেন–কি বলছেন আপনি! ছায়ামূর্তি পুলিশ অফিসে প্রবেশ করেছিল?
ওপাশ থেকে ভেসে আসে মিঃ জসীমের ভয়ার্ত কণ্ঠস্বর-হাঁ স্যার। আমি ও আর দু’জন পুলিশ ছিলাম, কিন্তু ছায়ামূর্তির দু’হাতে দুটো রিভলভার ছিল।
সে কি করেছে? পুলিশ অফিসে তার কি প্রয়োজন ছিল?
সে ডায়েরীখানা নিয়ে কি যেন সব দেখল। দু’খানা ছবিও সে নিয়ে গেছে।
ছবি! কিসের ছবি? কার ছবি? মিঃ জাফরী গর্জে ওঠেন।
মিঃ জসীমের ব্যস্ত কণ্ঠস্বর– স্যার, দাগীর ছবি। দুটো দাগী বদমাইশের ছবি নিয়ে গেছে ছায়ামূর্তি।
বলেন কি!
হ্যাঁ স্যার, অদ্ভুত কাণ্ড।
মিঃ জাফরী হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলেন–এখন ভোর সাড়ে চারটা। আমরা এক্ষুণি পুলিশ অফিসে আসছি।
আসুন স্যার। অফিসে আমরা সবাই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।
মিঃ জাফরী রিসিভার রেখে উঠে পড়েন। মিঃ হারুনকে লক্ষ্য করে বলেন–এক্ষুণি পুলিশ অফিসে যেতে হবে।
অন্য সবাই মিঃ জাফরীর সঙ্গে উঠে পড়লেন।
.
পুলিশ অফিসে পৌঁছে মিঃ জাফরী এবং অন্যান্য অফিসার বিস্মিত ও হতবাক হলেন। ছায়ামূর্তি পুলিশ অফিসের সমস্ত খাতাপত্র তচনচ করে ডায়েরীর পাতা খুঁজে বের করেছে এবং দুটো ছবি নিয়ে গেছে।
ছায়ামূর্তির এই অদ্ভুত কাণ্ড দেখে সবাই অবাক হলেন। অফিসের ডায়েরী খাতায় সে কিসের সন্ধান করেছে? দাগীদের দু’খানা ফটোই বা সে কি করবে, ভেবে কেউ সঠিক জবাব খুঁজে পেলেন না।
ছায়ামূর্তিকে নিয়ে গভীর আলোচনা শুরু হল। সন্ধান নিয়ে দেখা গেল, যে দু’খানা ফটো অফিস থেকে হারিয়েছে তার একটা দস্যু নাথুরামের এবং অন্যটা শয়তান মুরাদের।
ব্যাপার ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
মিঃ জাফরী গভীর চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়লেন।
ইতোমধ্যে মিঃ শঙ্কর রাও এবং মিঃ আলম এসে পুলিশ অফিসে হাজির হয়েছেন। মিঃ আলমের চোখে মুখেও উৎকণ্ঠার ছাপ। পুলিশ অফিসে হানা দেয়া। এ কম কথা নয়! ছায়ামূর্তির দুঃসাহস ক্রমে বেড়েই চলেছে।
মিঃ জাফরী বহুক্ষণ নিশ্চুপ চিন্তা করার পর বললেন– ছায়ামূর্তি যেই হউক সে শিক্ষিত।
