শুভ্ৰ কেমন আছে?
জি ভালো আছেন।
ও এই ঘটনায় নার্ভাস হয় নি?
উনি এইসব ব্যাপারে এখনো কিছু জানেন না।
ওর চোখে কি চশমা দেখেছ?
জি।
ভেরি গুড। তুমি আরো কিছু বলবে, না টেলিফোন রেখে দেব?
আমাকে কিছু করতে বলছেন স্যার?
না, কিছু করতে বলছি না। তুমি শুধু লক্ষ রাখো।
জি আচ্ছা স্যার।
টেলিফোন তাহলে রাখি?
স্যার, আরেকটা খবর ছিল—বুফো কারের ম্যানেজার, তার নাম রশীদউদ্দিন ভূইয়া—সে রেলওয়ে পুলিশের কাছে এজাহার দিয়েছে—ছোট সাহেবের বিরুদ্ধে।
শোনো সুলেমান, তুমি সব কথা একবারে বলছি না কেন? ভেঙে ভেঙে কেন বলছ? রশীদউদ্দিন ভুইয়া শুভ্রর বিরুদ্ধে এজাহার কেন দেবে? শুভ্র কী করেছে?
উনি কিছু করেন নি।
কিছু করেন নি, শুধু শুধু এজাহার!
স্যার, ছোট সাহেব উনার গায়ে থুথু দিয়েছেন।
কী বললে? শুভ্র তার গায়ে থুথু দিয়েছে? শুভ্র?
জি স্যার।
সত্যি দিয়েছে?
জি স্যার, সত্যি?
কেন থুথু দিল?
চা চেয়েছিলেন, দিতে দেরি করেছিলেন, এই জন্যে থুথু।
চা দিতে দেরি করেছে, শুধু এই কারণে গায়ে থুথু দিয়েছে?
জি। তবে স্যার রশীদউদ্দিন অত্যন্ত বদ টাইপের লোক। সে লিখিত অভিযোগ করেছে মারপিটের।
আচ্ছা, ঠিক আছে।
ইয়াজউদ্দিন সাহেব টেলিফোন রাখলেন। রাহেলার ঘুম ভেঙে গেছে। তিনি ভীত গলায় বললেন, কার টেলিফোন? শুভ্রর?
না। সুলেমান টেলিফোন করছিল। শুভ্রর খবরাখবর দিল।
শুভ্ৰ ভালো আছে?
হ্যাঁ, ভালো আছে।
ওর চশমা? হ্যান্ডব্যাগের সাইড পকেটে যে চশমা, সেটা বলেছ?
না, বলিনি।
বিলোনি কেন?
সুলেমান বলল, ও দেখেছে শুভ্রের চোখে চশমা আছে, কাজেই চশমার কথা মনে করিয়ে দেবার প্রয়োজন মনে করি নি। রাহেলা, তুমি আমাকে খুব কড়া করে এক কাপ কফি করে দাও তো!
রাহেলা চিন্তিত গলায় বললেন, খালি পেটে হঠাৎ কফি চাচ্ছ কেন? কখনও তো খাও না!
ইয়াজউদ্দিন বিরক্ত স্বরে বললেন, কখনো খাই না বলে কোনো দিনও খাওয়া যাবে না তা তো না। এখন খেতে ইচ্ছা করছে। দুধ-চিনি কিছুই দেবে না। ‘র’ কফি।
রাহেলা কফি বানাতে গেলেন। ইয়াজউদ্দিন টেলিফোন করলেন রফিককে। রফিক তাঁর ঢাকা অসিফের জেনারেল ম্যানেজার। নির্ভর করার মতো একজন মানুষ। কোনো জটিল সমস্যাই রফিকের কাছে সমস্যা না।
হ্যালো রফিক।
স্লামালিকুম স্যার।
দুঃখিত যে এত সকালে তোমার ঘুম ভাঙালাম।
কোনো সমস্যা নেই তো স্যার? কী ব্যাপার?
তোমাকে একটু চিটাগাং যেতে হবে।
স্যার আমি ফার্স্ট ফ্লাইটে চলে যাব।
শুভ্ৰ বোধহয় কী-একটা সমস্যায় পড়েছে। তুমি দূর থেকে সমস্যাটা লক্ষ করবে। সমস্যাটা কি বলব?
আপনার বলার দরকার নেই স্যার, আমি জেনে নেব।
রাখি রফিক।
জি আচ্ছা। আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি দেখছি।
থ্যাংক য়্যু।
রাহেলা কফি নিয়ে এসে দেখেন সাহেব ঘুমিয়ে পড়েছেন। বেশ আরাম করে ঘুমুচ্ছেন।
ল্প-উপন্যাসের অ্যাডভেঞ্চার
গল্প-উপন্যাসের অ্যাডভেঞ্চার এবং বাস্তব জীবনের অ্যাডভেঞ্চার একরকমের হয়। না। গল্প-উপন্যাসের পুলিশরা সবসময়ই বোকা ধরনের থাকে। অল্প ধমক-ধামকে তারা ভড়কে যায়। হাস্যকর সব কাণ্ড করে। বাস্তবের পুলিশরা মোটেই সেরকমের নয়। ধমকি-ধামকে তারা অভ্যস্ত। এ নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায় না।
পুলিশের আইজি আনুশকার ছোটমামা শুনেও তারা তেমন ঘাবড়াল না। বিশ্বাস করল না, আবার অবিশ্বাসও করল না। রানা লক্ষ করল, এরা প্ল্যাটফর্মে আছে। শুধু একজন নেই। সে খুব সম্ভবত টেলিফোন করতে গেছে। সে ফিরে এলে কী হবে কে জানে? সবাইকে থানায় যেতে হলে কেলেঙ্কারি। রানা একবার বাথরুম করে এসেছে। আবার বাথরুম পেয়ে গেছে। শরীরের সব জলীয় পদার্থ বের হয়ে যাচ্ছে।
এরকম একটা টেনশনের ব্যাপার, কিন্তু দলের মধ্যে কোনো উদ্বেগ নেই। অবশ্যি আনুশকা ছাড়া আর কেউ কিছু জানে না। কাউকে বলা হয় নি। আনুশকার ভেতর খানিকটা ভয়-ভীতি থাকা উচিত। এবং আনুশকার উচিত সবাইকে জানানো। সে তা করছে না। বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্ল্যাটফর্মে মালপত্র নামাচ্ছে।
যাকে নিয়ে এত কাণ্ড সেই জরী খুব হাসি-খুশি। সে রানাকে এসে বলল, আমাকে একটা টুথব্রাশ এনে দিতে পারবে?
জরী বলল, খেলাব।
খেলিব মানে কি?
জরী বলল, টুথব্রাশ দিয়ে মানুষ কী করে তুমি জানো রানা। শুধু শুধু জিজ্ঞেস করলে কেন টুথব্রাশ দিয়ে কী করব? আমি কিছুই আনি নি, কাজেই আমার টুথব্রাশ লাগবে, পেস্ট লাগবে, আয়না লাগবে, চিরুনি লাগবে।
রাগে রানার গা জ্বলে যাচ্ছে। এত বড় বিপদ সামনে, অথচ মেয়েটা কিছুই বুঝতে পারছে না। বোঝার চেষ্টাও করছে না। চেষ্টা করলে রানার শুকনো মুখ থেকে এতক্ষণে ঘটনা আঁচ করে ফেলত। মেয়েরা যে আয়নায় নিজের মুখ ছাড়া অন্য কোনো মুখের দিকেই ভালোমতো তাকায় না। এটাই বোধহয় ঠিক। হোয়াট এ সেলফিস ক্রিয়েচার! হযরত আদম যে এত বড় শাস্তি পেলেন, এদের জন্যেই পেয়েছেন।
জরী বলল, কী হয়েছে? এমন পাথরের মতো মুখ করে দাঁড়িয়ে আছ কেন? টুথব্রাশ একটা দিনে নিয়ে এসো। দাঁত মেজে চা খাব। চা আনতে কেউ কি গেছে?
চা-ফার কথা ভুলে যাও। ফরগেট এবাউট টি। সামনে গজব।
গজব মানে?
আনুশকাকে জিজ্ঞেস করো সামনে গজব-এর মানে কী। সে তোমাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেবে। তখন আর দাঁত মাজতে ইচ্ছা হবে না। ইচ্ছা করবে সাঁড়াশি দিয়ে দাঁত টেনে তুলে ফেলতে।
জরী আনুশকার কাছে গিয়ে বলল, কোনো সমস্যা হয়েছে?
