ইংরেজরা এ কথা বুঝেছিল যে হিন্দু মুসলমানের একতা এবং সদ্ভাব ভাঙতে না পারলে তাদের পক্ষে ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাদের কূটবুদ্ধি থেকেই জন্ম নিল ডিভাইড এন্ড রুল নীতি। এরকম কি হতে পারে, সুধাময় ভাবেন, যেখানে শতকরা নব্বইজন চাষী মুসলমান, সেখানে নব্বই ভাগ জমি ছিল হিন্দুর, জমি থেকেই রুশ চীনে বিপ্লব, জমি থেকেই বাংলায় হিন্দু মুসলমান সংঘর্ষ। জমিঘটিত ব্যাপার ধর্মঘটিত হয়ে দাঁড়ায়। ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই বাংলাদেশেই ১৯০৬ সালে সাম্প্রদায়িক নীতির ওপর ভিত্তি করে মুসলিম লিগের জন্ম হয়েছিল। অবিভক্ত ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনকে সাম্প্রদায়িক বিষে কলুষিত করবার জন্য এই দলটিই দায়ী { অবশ্য কংগ্রেসকেও ছেড়ে দেওয়া যায় না। সাতচল্লিশের পর থেকে চব্বিশটি বছর সাম্রাজ্যবাদের সহযোগী পাকিস্তানের শাসকরা ইসলামি জিগির, ভারত বিরোধী ধ্বনি আর সাম্প্রদায়িকতার ধুয়ো তুলে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিল। একাত্তরে সেই অধিকার ফিরে পেয়ে সুধাময় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। কিন্তু এই নিঃশ্বাসটি তাঁর মাঝে মধ্যেই বন্ধ হয়ে আসে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর রাষ্ট্ৰীয় চার মূল নীতির একটি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানে স্থান দেওয়া হয়। এটি ছিল সাম্প্রদায়িকতার পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে এক দুৰ্জয় বর্ম। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের পর থেকেই সাম্প্রদায়িকতার নতুন আবির্ভাব ঘটল। সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে জোট বাঁধলা সহিংসতা, মৌলবাদ, ধমন্ধিতা, স্বৈরাচার। সাম্প্রদায়িক চিন্তাকে অভদ্রজন্যোচিত করবার জন্য দরকার হয় একটি আদর্শভিত্তিক তত্ত্ব। পাকিস্তান বানাবার আগে এই তত্ত্বের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব, আর বাংলাদেশে পঁচাত্তরের পর নাম হল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য ধুয়ে ‘বাংলাদেশি হতে হবে তাদের, বাংলাদেশি গরু গাধা ধান পাটের মত মানুষও এখন বাংলাদেশি! অষ্ট আশি সালে অষ্টম সংশোধনীর পর বাংলাদেশ সংবিধানে লেখা হল–The state religion of the Republic is Islam, but other religions may be practised in peace and harmony in the Republic. এখানে may be কথাটা বলা হল কেন? কেন shall be নয়? মৌলিক অধিকার-এর ক্ষেত্রে লেখা অবশ্য আছে। ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী শপুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনও নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।’ কিন্তু বৈষম্যের কথা স্বীকার না করলে হবে কী, বৈষম্য যদি বিরাজ না-ই করে তবে ‘মায়াকে কোন ধরে নিয়ে যাবে ওরা। কোন গাল দেবে ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে? গুণ্ডারা কি মালাউনের বাচ্চা বলে গাল দেয়? তা হলে এসব গুণ্ডামি নয়, অন্য কিছু। যা দিনদিন স্বাধন হয়ে আসছে, স্কুলের বদলে মাদ্রাসা বাড়ছে দেশে, মসজিদ বাড়ছে, ইসলামি জলসা বাড়ছে, মাইকে আজান বাড়ছে, এক মহল্লায় দু-তিন বাড়ি পর পর মসজিদ, চারদিকে তার মাইক। হিন্দুদের পুজোর সময় অবশ্য মাইক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যদি মাইক বাজেই, তবে মুসলমানের মাইকই কেন বাজবে শুধু? জাতিসংঘ মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ২৮ ধারায় আছে ‘প্রত্যেকের চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। নিজ ধর্ম অথবা-বিশ্বাস পরিবর্তনের স্বাধীনতা এবং একই অথবা অপরের সহিত যোগসাজশে ও প্রকাশে বা গোপনে নিজ ধৰ্ম বা বিশ্বাস শিক্ষাদান, প্রচার, উপাসনা ও পালনের মাধ্যমে প্রকাশ করবার স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।’ তাই যদি হয় তবে হিন্দুদের মন্দির ভাঙলে কেন, মন্দিরে যদিও বিশ্বাস নেই। সুধাময়ের, তবে ভাঙবার বেলায় কেবল মন্দির ভাঙবার পক্ষপাতী তিনি নন মোটেও। আর এই যে এত ভাঙা পোড়া হচ্ছে, কিছু কি শাস্তি কুরাদ নেই। এদের জন্য টু পেনাল কেড়ে শাস্তি লেখা এক বছরের জেল, বড়জোর দুই। খুব বেশি হলে তিন।
সুধাময়ের অসুস্থতা ছাপিয়ে আর সকল অসুস্থতা তাঁকে গ্রাস করে নেয়। একটি দেশ ক্ৰমে ক্ৰমে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ বছর সংগ্রামের পর পাকিস্তানের থাবা থেকে বাঙালি মুক্তি পেল, স্বাধীন একটি দেশের সংবিধান রচিত হল ‘we, the people of Bangadesh, having proclaimed our Independence on the 26th day of Marcu 1971 and through a historic struggle for national liberation, established the independent, sovereign People’s Republic of Bangladesh.
Pledging that the high ideals of nationalism, socialism, democracy, and secakrism, which inspired our heroic people to dedicate themselves to, and our rave martyrs to sacrifice their lives in, the national liberation strugie, shall be the fundamental principles of the constitution.
Suggle for national liberation বদলে ১৯৭৮-এ হয়ে গেল a historic war for natical independence. Oris Pat & …high ideals of absolute trust and faith in the Almighty Allah, nationalism, democracy and socialisFa mealing economic and social justice, তার ওপর liberation struggle হয়ে গেল independence.
