হাদীস নং ৩৯৮৭ – আওতাসের যুদ্ধ।
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইন যুদ্ধ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবসর হওয়ার পর তিনি আবু আমির রা.-কে একটি সৈন্যবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করে আওতাস গোত্রের প্রতি পাঠালেন। যুদ্ধে তিনি (আবু আমির) দুরায়দ ইবন সিম্মার সাথে মুকাবিলা করলে দুরাইদ নিহত হয় এবং আল্লাহ তার সহযোগী যোদ্ধাদেরকেও পরাজিত করেন। আবু মূসা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু আমির রা.-এর সাথে আমাকেও পাঠিয়েছিলেন। এ যুদ্ধে আবু আমির রা.-এর হাঁটুতে একটি তীর নিক্ষিপ্ত হয়। জুশাম গোত্রের এক লোক তীরটি নিক্ষেপ করে তাঁর হাঁটুর মধ্যে বসিয়ে দিয়েছিল। তখন আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, চাচাজান ! কে আপনার উপর তীর ছুঁড়েছে? তখন তিনি আবু মূসা রা.-কে ইশারার মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়ে বললেন, ঐ যে, ঐ ব্যক্তি আমাকে তীর মেরেছে। আমাকে হত্যা করেছে। আমি লোকটিকে লক্ষ্য করে তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম আর সে আমাকে দেখামাত্র ভাগতে শুরু করল। আমি এ কথা বলতে বলতে তার পশ্চাদ্ধাবন করলাম, (পালাচ্ছো কেন) বেহায়া দাঁড়াও না, দাঁড়াও। লোকটি থেমে গেল। এবার আমরা দুজনে তরবারি দিয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করলাম এবং শেষ পর্যন্ত আমি ওকে হত্যা করে ফেললাম। তারপর আমি আবু আমির রা-কে বললাম, আল্লাহ আপনার আঘাতকারীকে হত্যা করেছেন। তিনি বললেন, (ঠিক আছে, এবার তুমি আমার হাঁটু থেকে) তীরটি বের করে দাও। আমি তীরটি বের করে দিলাম। তখন ক্ষতস্থান থেকে কিছু পানিও বেরিয়ে আসল। তিনি আমাকে বললেন, হে জাতিজা ! (আমি হয়তো বাঁচাব না) তাই তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার সালাম জানাবে এবং আমার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে বলবে। আবু আমির রা. তাঁর স্থলে আমাকে সেনাবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করলেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ বেঁচেছিলেন, তারপর ইন্তিকাল করলেন। (যুদ্ধ শেষে) আমি ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাড়ি প্রবেশ করলাম। তিনি তখন পাকানো দড়ির তৈরী একটি খাটিয়ায় শায়িত ছিলেন। খাটিয়ার উপর (নামেমাত্র) একটি বিছানা ছিল। কাজেই তাঁর পিঠে এবং পার্শ্ব দেশে পাকানো দড়ির দাগ পড়ে গিয়েছিল। আমি তাকে আমাদের এবং আবু আমির রা.-এর সংবাদ জানালাম। (তাকে এ কথাও বললাম যে,) তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) বলে গিয়েছেন, তাকে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) আমার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে বলবে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনাতে বললেন এবং ওযু করলেন। তারপর তাঁর দুহাত উপরে তুলে তিনি দোয়া করে বললেন, হে আল্লাহ ! তোমার প্রিয় বান্দা আবু আমিরকে মাগফিরাত দান কর। (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়ার মুহূর্তে হাতদ্বয় এত উপরে তুললেন যে) আমি তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রাংশ পর্যন্ত দেখতে পেয়েছি। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ ! কিয়ামত দিবসে তুমি তাকে তোমার অনেক মাখলুকের উপর, অনেক মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করো। আমি বললাম, আমার জন্যও (দোয়া করুন)। তিনি দোয়া করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ ! আবদুল্লাহ ইবনে কায়সের গুনাহ ক্ষমা করে দাও এবং কিয়ামত দিবসে তুমি তাকে সম্মানিত স্থানে প্রবেশ করাও। রাবী আবু বুরদা রা. বলেন, দুটি দোয়ার একটি ছিল আবু আমির রা.-এর জন্য আর অপরটি ছিল আবু মূসা (আশআরী) রা.-এর জন্য।
হাদীস নং ৩৯৮৮ – তায়েফের যুদ্ধ।
হুমাইদী রহ…………উম্মে সালমা রা. থেকে থেকে বর্ণিত যে, আমার কাছে এক হিজড়া ব্যক্তি বসা ছিল, এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি শুনলাম, সে (হিজড়া ব্যক্তি) আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়া রা.-কে বলছে, হে আবদুল্লাহ ! কি বলো, আগামীকাল যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তায়েফের উপর বিজয় দান করেন তাহলে গায়লানের কন্যাকে অবশ্যই তুমি লুফে নেবে। কেননা সে (এতই স্থুল দেহ ও কোমল যে) সামনের দিকে আসার সময়ে তার পিঠে চারটি ভাঁজ পড়ে আবার পিঠ ফিরালে সেখানে আটটি ভাঁজ পড়ে। (উম্মে সালামা রা. বলেন) তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদেরকে (হিজড়াদেরকে) তোমাদের কাছে প্রবেশ করতে দিও না। ইবনে উয়াইনা রা. বর্ণনা করেন যে, ইবনে জুরাইজ রা. বলেছেন, হিজড়া লোকটির নাম ছিল হীত।
হাদীস নং ৩৯৮৯
মাহমুদ রহ…………হিশাম রহ. থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি এ হাদীসে এতটুকু বৃদ্ধি করেছেন যে, সেদিন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তায়েফ অবরোধ করা অবস্থায় ছিলেন।
হাদীস নং ৩৯৯০
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ অবরোধ করলেন। (এবং দীর্ঘ পনেরোরও অধিক দিন পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে গেলেন) কিন্তু তাদের কাছ থেকে কিছুই হাসিল করতে পারেননি। তাই তিনি বললেন, ইনশা আল্লাহ আমরা (অবরোধ উঠিয়ে মদীনার দিকে) ফিরে যাব। কথাটি সাহাবীদের মনে ভারী অনুভূত হল। তাঁরা বললেন, আমরা চলে যাব, তায়েফ বিজয় করব না? রাবী একবার কাফিলুন শব্দের স্থলে নাকফুলো (অর্থাৎ আমরা যুদ্ধবিহীন ফিরে যাব) বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঠিক আছে, সকালে গিয়ে লড়াই করো। তাঁরা (পরদিন) সকালে লড়াই করতে গেলেন, এতে তাদের অনেকেই আহত হলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনশা আল্লাহ আমরা আগামীকাল ফিরে চলে যাব। তখন সাহাবাদের কাছে কথাটি মনঃপূত হল। এ অবস্থা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। রাবী সুফিয়ান রহ. একবার বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুচকি হাসি হেসেছেন। হুমাইদী রহ. বলেন, সুফিয়ান আমাদিগকে এ হাদীসের পূর্ণ সূত্রটিতে ‘খবর’ শব্দ প্রয়োগ করে বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ কোথাও ‘আন’ শব্দ প্রয়োগ করেন নি)।
