হাদীস নং ৩৮৪২
হুদবা ইবনে খালিদ রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি উমরা পালন করেছেন। তিনি হজ্জের সাথে যে উমরাটি পালন করেছিলেন সেটি ব্যতীত সবকটিই যিলকাদাহ মাসে পালন করেছেন। হুদায়বিয়া নামক স্থানে তিনি যে উমরাটি পালন করেছিলেন তা ছিল যিলকাদাহ মাসে। হুদায়বিয়ার পরবর্তী বছর যে উমরাটি পালন করেছিলেন, সেটি ছিল যিলকাদাহ মাসে এবং হুনায়ইনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ যে জিঈরানা নামক স্থানে বন্টন করেছিলেন, সেখান থেকে যে উমরাটি করা হয়েছিল তাও ছিল যিলকাদাহ মাসে, আর তিনি হজ্জের সাথে একটি উমরা পালন করেন।
হাদীস নং ৩৮৪৩
সাঈদ ইবনে রাবী রহ…………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার যুদ্ধের বছর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা করেছিলাম। এ সময় তাঁর সাহাবীগণ ইহরাম বেঁধেছিলেন কিন্তু আমি ইহরাম বাঁধিনি।
হাদীস নং ৩৮৪৪
উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ…………বারা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মক্কা বিজয়কে তোমরা মৌল বিজয় বলে মনে করছ। অথচ মক্কা বিজয়ও একটি বিজয়। কিন্তু হুদায়বিয়ার দিনে অনুষ্ঠিত বায়আতে রিদওয়ানকে আমরা মৌল বিজয় বলে মনে করি। সে সময় আমরা চৌদ্দশ সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম। হুদায়বিয়া একটি কূপ। আমরা তা থেকে পানি উঠাতে উঠাতে তার মধ্যে এক বিন্দুও অবশিষ্ট রাখিনি। আর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে পৌঁছলে তিনি এসে সে কূপের পাড়ে বসলেন। এরপর এক পাত্র পানি আনিয়ে ওযু করলেন এবং কুল্লি করলেন। পরিশেষে দোয়া করে অবশিষ্ট পানি কূপের মধ্যে ফেলে দিলেন। আমরা অল্প কিছুক্ষণ পর্যন্ত কূপের পানি উঠানো বন্ধ রাখলাম। এরপর আমরা আমাদের নিজেদের ও আরোহী পশুর জন্য প্রচুর পানি কূপ থেকে বের করলাম।
হাদীস নং ৩৮৪৫
ফাযল ইবনে ইয়াকুব রহ………….আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে বারা ইবনে আযিব রা. সংবাদ দিয়েছেন যে, হুদায়বিয়ার যুদ্ধের দিন তাঁরা চৌদ্দশ কিংবা তার চেয়েও অধিক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। তখন তারা একটি কূপের পার্শ্বে অবতরণ করেন এবং তা থেকে পানি উত্তোলন করতে থাকেন। (এতে সব পানি নিঃশেষ হয়ে যায়) তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ সংবাদ জানালেন। তখন তিনি কূপটির কাছে এসে এর পাড়ে বসলেন। এরপর বললেন, আমার কাছে এই কূপের এক বালতি পানি নিয়ে আস। তখন তা নিয়ে দেয়া হল। তিনি এতে থুথু ফেললেন এবং দোয়া করলেন। এরপর তিনি বললেন, এ থেকে কিছুক্ষণের জন্য তোমরা পানি উঠানো বন্ধ রাখ। এরপর সকলেই নিজেদের ও আরোহী জীবসমূহের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি সংগ্রহ করলেন এবং পরে চলে গেলেন।
হাদীস নং ৩৮৪৬
ইউসুফ ইবনে ঈসা রহ…………জাবির রা. থেকে বর্ণিত ,তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার দিন লোকেরা পিপাসার্ত হয়ে পড়লেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি চর্ম পাত্র ভর্তি পানি ছিল মাত্র। তিনি তা দিয়ে ওযু করলেন। তখন লোকেরা তাঁর প্রতি এগিয়ে আসলে তিনি তাদেরকে বললেন, কি হয়েছে তোমাদের ? তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনার চর্ম পাত্রের পানি ব্যতীত আমাদের কাছে এমন কোন পানি নেই যার দ্বারা আমরা ওযু করব এবং যা আমরা পান করব। রাবী জাবির রা. বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুবারক হাতখানা ঐ চর্ম পাত্রে রাখলেন। অমনি তার আঙ্গুগুলোর মধ্যস্থল থেকে ঝরনাধারর মত পানি উথলিতে উঠতে লাগল। জাবির রা. বলেন, আমরা সে পানি পান করলাম এবং তা দিয়ে ওযু করলাম। (সালিম রহ. বলেন) আমি জাবির রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা সেদিন কত জন লোক ছিলেন? তিনি বললেন, আমাদের সংখ্যা এক লাখ হলেও এ পানিই আমাদের জন্য যথেষ্ট হত। আমরা ছিলাম তখন পনেরশ লোক মাত্র।
হাদীস নং ৩৮৪৭
সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ…………কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব রা.-কে বললাম, আমি শুনতে পেয়েছি যে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা বলতেন, তাঁরা (হুদায়বিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবাদের সংখ্যা) চৌদ্দশ ছিল। সাঈদ রা. আমাকে বললেন, জাবির রা. আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, হুদায়বিয়ার যুদ্ধে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন, তাদের সংখ্যা ছিল পনেরশ। আবু দাউদ কুররা রহ.-এর মাধ্যমে কাতাদা রহ. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ.-ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ রহ. (অন্য সনদে) শুবা রহ. থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ৩৮৪৮
আলী রহ………….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার যুদ্ধের দিন আমাদেরকে বলেছেন, পৃথিবীবাসীদের মধ্যে তোমরাই সর্বোত্তম। সেদিন আমরা ছিলাম চৌদ্দশ। আজ আমি যদি দেখতাম, তাহলে আমি তোমাদেরকে সে বৃক্ষ-স্থানটি দেখিয়ে দিতাম। আমাশ রহ. হাদীসটি সালিম রা.-এর মাধ্যমে জাবির রা. থেকে সুফয়ান রহ.-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ হুদায়বিয়ার সন্ধির দিন সাহাবীদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশ। উবায়দুল্লাহ ইবনে মুআয রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে আবু আউফারহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, গাছের নিচে বায়আত গ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল তেরশ। সৈন্যদের মধ্যে আসলাম গোত্রের সাহাবীগণের সংখ্যা ছিল মুহাজিরগণের মোট সংখ্যার-এ অষ্টমাংশ।
