হাদীস নং ৩৮৩৬
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, ওয়ালীদ ইবনে আবদুল মালিক রহ. আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার নিকট কি এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, আয়েশা রা.-এর প্রতি অপবাদ আরোপকারীদের মধ্যে আলী রা.-ও শামিল ছিলেন? আমি বললাম, না, তবে আবু সালমা ইবনে আবদুর রহমান ও আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হারিস নামক তোমার গোত্রের দুই ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছে যে আয়েশা রা. তাদের দু’জনকে বলেছেন যে, আলী রা. তার ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ ছিলেন।
হাদীস নং ৩৮৩৭
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………..আয়েশা রা.-এর মা উম্মে রুমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আয়েশা রা. বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় একজন আনসারী মহিলা প্রবেশ করে বলতে লাগল আল্লাহ অমুক অমুককে ধ্বংস করুন। এ কথা শুনে উম্মে রুমান রা. বললেন, তুমি কি বলছ? সে বলল, যারা অপবাদ রটিয়েছে তাদের মধ্যে আমার ছেলেও আছে। উম্মে রুমান রা. পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, কি অপবাদ রুটিয়েছে। আয়েশা রা. বললেন, (এ কথা কি) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনেছেন? সে বলল, হ্যাঁ। আয়েশা রা. বললেন, আবু বকরও কি শুনেছেন? সে বলল, হ্যাঁ। এ কথা শুনে আয়েশা রা. বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। হুঁশ ফিরে আসলে তাঁর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসল। এরপর আমি চাদর দিয়ে তাকে ঢেকে দিলাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁর কি অবস্থা? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তাঁর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হয়তো সে অপবাদের ঘটনার কারণে। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এ সময় আয়েশা রা. উঠে বসলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম ! (আমার পবিত্রতার ব্যাপারে) আমি যদি কসম করি, তাহলেও আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না, আর যদি আমি ওযর পেশ করি তবুও আমার ওযর আপনারা কবুল করবেন না, আমার এবং আপনাদের উদাহরণ নবী ইয়াকুব আ. এবং তাঁর ছেলেদের উদাহরণের মতই। তিনি বলেছিলেন, “তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র আমার সাহায্যস্থল”। উম্মে রুমান রা. বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু না বলেই চলে গেলেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা তাঁর (আয়েশা রা.) পবিত্রতা বর্ণনা করে আয়াত নাযিল করলেন। আয়েশা রা. বললেন, একমাত্র আল্লাহরই প্রশংসা করি আর কারো না, আপনারও না।
হাদীস নং ৩৮৩৮
ইয়াহইয়া রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আয়াতাংশ إذ تلقونه بألسنتكم পড়তেন এবং বলতেন الولق অর্থ الكذب । ইবনে আবু মুলায়কা রহ. বলেছেন, এ আয়াতের ব্যাখ্যা আয়েশা রা. অন্যদের চাইতে বেশী জানতেন। কেননা এ আয়াত তারই ব্যাপারে নাযিল হয়েছিল।
হাদীস নং ৩৮৩৯
উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ………..হিশামের পিতা (উরওয়া রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রা. -এর সম্মুখে হাসসান ইবনে সাবিত রা.-কে গালি দিতে আরম্ভ করলে তিনি বললেন, তাকে গালি দিও না। কেননা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ অবলম্বন করে কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন। আয়েশা রা. বলেছেন হাসসান ইবনে সাবিত রা. কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের নিন্দাবাদ করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি বললেন, তুমি কুরাইশদের নিন্দাসূচক কবিতা রচনা করলে আমার বংশকে কি করে রক্ষা করবে? তিনি বললেন, আমি আপনাকে তাদের থেকে এমনিভাবে পৃথক করে রাখব যেমনিভাবে আটার খামির থেকে চুলকে পৃথক করে রাখা হয়। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উসমান ইবনে ফারকাদ রহ. আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি হিশাম রহ.-কে তার পিতা উরওয়া রা. থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি হাসসান ইবনে সাবিত রা.-কে গালি দিয়েছি। কেননা তিনি ছিলেন আয়েশা রা.-এর প্রতি অপবাদ রটনাকারীদের অন্যতম।
হাদীস নং ৩৮৪০
বিশর ইবনে খালিদ রহ…………মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রা.-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর কাছে হাসসান ইবনে সাবিত রা. তাকে তাঁর নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনাচ্ছেন। তিনি আয়েশা রা.-এর প্রশংসা করে বলছেন, তিনি সতী, ব্যক্তিত্বসম্পন্না ও জ্ঞানবতী, তাঁর প্রতি কোন সন্দেহই আরোপ করা যায় না। তিনি অভুক্ত থাকেন, তবুও অনুপস্থিত লোকদের গোশত খান না অর্থাৎ গীবত করেন না। এ কথা শুনে আয়েশা রা. বললেন, কিন্তু আপনি তো এরূপ নন। মাসরূক রহ. বলেছেন যে, আমি আয়েশা রা. -কে বললাম যে, আপনি কেন তাকে আপনার কাছে আসতে অনুমতি দেন? অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি। আয়েশা রা. বলেন, অন্ধত্ব থেকে কঠিন শাস্তি আর কি হতে পারে? তিনি তাকে আরো বলেন যে, হাসসান ইবনে সাবিত রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে কাফেরদের সাথে মুকাবিলা করতেন অথবা কাফেরদের বিরুদ্ধে নিন্দাসূচক কবিতা রচনা করতেন।
হাদীস নং ৩৮৪১
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………..যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার যুদ্ধের বছর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম। এক রাতে খুব বৃষ্টি হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন। এরপরে আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমরা জান কি তোমাদের রব কি বলেছেন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলই অধিক জানেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন (এ বৃষ্টির কারণে) আমার কতিপয় বান্দা আমার প্রতি ঈমান এনে মুমিন হয়েছে, আবার কেউ কেউ আমাকে অমান্য করে কাফের হয়েছে। যারা বলেছে, আল্লাহর রহমত, আল্লাহর করুণা এবং আল্লাহর রিযিক প্রদানের পূর্বাভাস হিসাবে আমাদের প্রতি বৃষ্টি হয়েছে, তারা আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মুমিন এবং নক্ষত্রের প্রভাব অস্বীকারকারী (কাফের)। আর যারা বলেছে যে অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে, তারা তারকার প্রতি ঈমান আনয়নকারী এবং আমাকে অস্বীকারকারী কাফের।
