অধ্যায়ঃ ৭৭/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তওবার প্রতি আহবান ও তাদের সাথে যুদ্ধ (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬৪ | 6464 | ٦٤٦٤
পরিচ্ছদঃ ২৯০৪. যারা মনোরঞ্জনের নিমিত্ত খারিজীদের সাথে যুদ্ধ ত্যাগ করে এবং এজন্য যে যাতে করে লোকেরা তাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ না করে
৬৪৬৪। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কিছু বন্টন করছিলেন। ঘটনাক্রমে আবদুল্লাহ ইবনু যুল খুওয়ায়সিরা তামীমী এল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসুল! ইনসাফ করুন। তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য। আমি যদি ইনসাফ না করি তা হলে আর কে ইনসাফ করবে? উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, আমাকে অনুমতি দিন তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। তার জন্য সাথীবৃন্দ রয়েছে। যাদের সালাত (নামায/নামাজ) এর তুলনায় তোমরা তোমাদের সালাত (নামায/নামাজ) কে তুচ্ছ মনে করবে। যাদের সিয়ামের তুলনায় তোমরা তোমাদের সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা দ্বীন থেকে এরূপ বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তীরের পরে লক্ষ্য করলে তাতে কিছু পাওয়া যায় না। তীরের মুখের বেষ্টনীর প্রতি লক্ষ্য করলেও কিছু পাওয়া যায় না তীরের কাঠের অংশের দিকে তাকালেও তাতে কিছু পাওয়া যায় না। বরং তীর তীব্র গতিতে বেরিয়ে যাওয়ার কালে তাতে মল ও রক্তের দাগ পর্যন্ত লাগে না।
তাদের পরিচয় এই যে তাদের একটি লোকের একটি হাত অথবা বলেছেন, একটি স্তন্য হবে মহিলাদের স্তনের ন্যায়। অথবা বলেছেন, বাড়তি গোশতের টুকরার ন্যয়। লোকদের মধ্যে বিরোধের সময় তাদের আবির্ভাব হবে। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী (রাঃ) তাদেরকে হত্যা করেছিলেন। আমি তখন তাঁর সাথে ছিলাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত বর্ণনার অনুরূপ ব্যাক্তিকে আনা হয়েছিল। তিনি বলেনঃ ওর সম্পর্কেই নাযিল হয়েছেঃ ওদের মধ্যে এমন লোক আছে যে সাদকা সম্পর্কে তোমাকে দোষারোপ করে (৯ঃ ৫৮)।
অধ্যায়ঃ ৭৭/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তওবার প্রতি আহবান ও তাদের সাথে যুদ্ধ (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬৫ | 6465 | ٦٤٦۵
পরিচ্ছদঃ ২৯০৪. যারা মনোরঞ্জনের নিমিত্ত খারিজীদের সাথে যুদ্ধ ত্যাগ করে এবং এজন্য যে যাতে করে লোকেরা তাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ না করে
৬৪৬৫। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … ইউসায়ের ইবনু আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনু হুনায়েফ (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খারিজীদের সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি, আর তখন তিনি তাঁর হাত ইরাকের দিকে বাড়িয়ে ছিলেন যে, সেখান থেকে এমন একটি কাওম বের হবে যারা কুরআন পড়বে সত্য, কিন্তু তা তাদের গলদেশ অতিক্রম করবে না তারা ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
অধ্যায়ঃ ৭৭/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তওবার প্রতি আহবান ও তাদের সাথে যুদ্ধ (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬৬ | 6466 | ٦٤٦٦
পরিচ্ছদঃ ২৯০৫. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ কস্মিনকালেও কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না দু’টি দল পরস্পর লড়াই করবে, অথচ তাদের দাবি হবে অভিন্ন
৬৪৬৬। আলী (রাঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না এমন দুটি দল পরস্পর লড়াই করবে, যাদের দাবি হবে অভিন্ন।
অধ্যায়ঃ ৭৭/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তওবার প্রতি আহবান ও তাদের সাথে যুদ্ধ (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬৭ | 6467 | ٦٤٦۷
পরিচ্ছদঃ ২৯০৬. ব্যাখ্যা প্রদানকারীদের সম্পর্কে যা বর্ণনা করা হয়েছে
৬৪৬৭। আবু আবদুল্লাহ (রহঃ) … উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনু হাকীম (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় সূরা ফুরকান পড়তে শুনেছি। আমি তার পড়ার প্রতি কর্ণপাত করলাম, (আমি লক্ষ্য করলাম) যে, তিনি এর অনেক গুলো অক্ষর এমন পদ্ধতিতে পড়ছেন, যে পদ্ধতিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পড়ান নি। ফলে আমি তাকে সালাত (নামায/নামাজ) এর মাঝেই আক্রমন করতে উদ্যত হলাম। কিন্তু সালাম ফিরানো পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। সালাম ফিরানোর পর আমি তাকে তার চাঁদর দিয়ে অথবা বললেন, আমার চাঁদর দিয়ে জড়িয়ে নিলাম। আর বললাম, তোমাকে এ সুরা কে পড়িয়েছে? তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পড়িয়েছেন। আমি তাকে বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ। আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ সূরা পড়িয়েছেন যা তোমাকে পড়তে শুনেছি।
তারপর আমি তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট টেনে নিয়ে গেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি এ ব্যাক্তিকে সূরা ফুরকান এরূপ অক্ষর দিয়ে পড়তে শুনেছি যা আপনি আমাকে পড়াননি। আর আপনি তো আমাকে সূরা ফুরকান পড়িয়েছেন। তিনি বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমর! তাকে ছেড়ে দাও। (আর বললেন) হে হিশাম! তুমি পড় তো। হিশাম তার কাছে এভাবেই পড়লেন, যেভাবে তাকে তা পড়তে আমি শুনেছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবেই নাযিল করা হয়েছে এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমর! তুমিও পড়। আমি পড়লাম। তখন তিনি বললেনঃ এভাবেও নাযিল করা হয়েছে। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ কুরআন সাত (রকমে কিরাআতের দিক দিয়ে) ভাষায় নাযিল করা হয়েছে। তাই যে পদ্ধতিতেই সহজ হবে সে পদ্ধড়িতেই তোমরা তা পড়বে।
