আর যার কাউকে হত্যা করা হয় সে দু’প্রকার দণ্ডের যে কোন একটি প্রয়োগের ইখতিয়ার লাভ করবে। হয়ত রক্তপণ গ্রহণ করা হবে, নতুবা কিসাস নেওয়া হবে। এ সময় ইয়ামনবাসী এক ব্যাক্তি দাঁড়াল, যাকে আবূ শাহ বলা হয়। সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে লিখে দিন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। তারপর কুরাইশ গোত্রের এক ব্যাক্তি দাঁড়াল। আর বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইযখির ব্যতীত। কেননা, আমরা তা আমাদের ঘরে, আমাদের কবরে ব্যবহার করি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইযখির ব্যতীত।
উবায়দুল্লাহ (রহঃ) শায়বান (রহঃ) থেকে الْفِيلِ (হস্তী) এর ব্যাপারে হারব ইবনু শাদ্দাদ (রহঃ) এর অনুসরণ করেছেন। কেউ কেউ আবূ নুআয়ম (রহঃ) থেকে المقتل শব্দ নকল করেছেন। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) إِمَّا أَنْ يُقَادَ এর পরে أَهْلُ الْقَتِيلِ শব্দও বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়ঃ ৭৬/ রক্তপন (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪১৫ | 6415 | ٦٤۱۵
পরিচ্ছদঃ ২৮৭৩. কাউকে হত্যা করা হলে তার উত্তরাধিকারীগণ দু’রকমের শাস্তির যে কোন একটি প্রয়োগের ইখতিয়ার লাভ করে
৬৪১৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী ইসরাঈলদের মধ্যে কিসাসের বিধান বলবত ছিল। তাদের মধ্যে রক্তপনের বিধান ছিল না। তবে আল্লাহ এ উম্মাতকে বললেনঃ নর হত্যার ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হয়েছে …… কিন্তু তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছুটা ক্ষমা প্রদর্শন করা হলে পর্যন্ত (২ঃ ১৭৮)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ক্ষমা প্রদর্শনের অর্থ হল ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার ক্ষেত্রে রক্তপণ গ্রহণ করা। তিনি বলেন, আর প্রচলিত প্রথার অনুসরণ করার অর্থ হচ্ছে, যুক্তি সঙ্গত দাবি ও সদয়ভাবে দীয়ত আদায় করা।
অধ্যায়ঃ ৭৬/ রক্তপন (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪১৬ | 6416 | ٦٤۱٦
পরিচ্ছদঃ ২৮৭৪. যথার্থ কারণ ছাড়া রক্তপাত দাবি করা
৬৪১৬। আবুল ইয়ামান (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনঃ আল্লাহর কাছে সবচাইতে ঘৃণিত ব্যাক্তি হচ্ছে তিন জন। যে ব্যাক্তি হারাম শরীফে অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। যে ব্যাক্তি ইসলামী যুগে জাহিলী যুগের প্রথা তালাশ করে। যে ব্যাক্তি যথার্থ কারণ ব্যতীত কারো রক্তপাত দাবি করে।
অধ্যায়ঃ ৭৬/ রক্তপন (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪১৭ | 6417 | ٦٤۱۷
পরিচ্ছদঃ ২৮৭৫. ভুলক্রমে হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর ক্ষমা প্রদর্শন করা
৬৪১৭। ফারওয়া ও মুহাম্মাদ ইবনু হারব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন ইবলীস লোকদের মাঝে চিৎকার করে বলল, হে আল্লাহর বান্দারা! পিছনের দলের ওপর আক্রমণ কর। ফলে তাদের সম্মুখভাগ পশ্চাত ভাগের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এমন কি তারা ইয়ামানকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, আমার পিতা! আমার পিতা! কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। রাবী বলেন, মুশরিকদের একটি দল পরাজিত হয়ে তায়েফ চলে গিয়েছিল।
অধ্যায়ঃ ৭৬/ রক্তপন (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪১৮ | 6418 | ٦٤۱۸
পরিচ্ছদঃ ২৮৭৭. একবার হত্যার স্বীকারোক্তি করলে তাকে হত্যা করা হবে
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلاَّ خَطَأً الاية
২৮৭৬. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ কোন মু’মিন ব্যক্তির অন্য মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয়। তবে ভুলবশত করলে তা স্বতন্ত্র … আয়াতের শেষ পর্যন্ত (৪ঃ ৯২)
৬৪১৮। ইসহাক (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ইহুদী একটি বালিকার মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে চূর্ণ করে দিল। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কে তোমার সাথে এমন আচরণ করেছে? অমুক? না অমুক? অবশেষে ইহুদী লোকটির নাম উল্লেখ করা হল। তখন সে তার মাথা দিয়ে (হ্যাঁ-সূচক) ইশারা করল। তখন ইহুদী লোকটিকে আনা হল এবং সে স্বীকার করল। ফলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে নির্দেশ করলেন, তাই তার মাথা একটি পাথর দিয়ে চূর্ণ করা হল এবং হাম্মাম (রহঃ) বলেন, দুটি পাথর দিয়ে।
অধ্যায়ঃ ৭৬/ রক্তপন (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪১৯ | 6419 | ٦٤۱۹
পরিচ্ছদঃ ২৮৭৮. মহিলার বদলে পুরুষকে হত্যা করা
৬৪১৯। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ইহুদীকে একজন বালিকার বদলে হত্যা করেছেন। সে রৌপ্যালংকারের লোভে ওকে হত্যা করেছিল।
অধ্যায়ঃ ৭৬/ রক্তপন (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৪২০ | 6420 | ٦٤۲۰
পরিচ্ছদঃ ২৮৭৯. আহত হওয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষদের মধ্যে কিসাস। আলিমগণ বলেন, নারীর বদলে পুরুষকে হত্যা করা হবে। আর উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করা হয় যে, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যেক হত্যা বা আহত কারার ক্ষেত্রে নারীর বদলে পুরুষকে কিসাসের বিধানানুসারে শাস্তি দেওয়া হবে। ইহাই উমর ইবনু আবদুল আযীয (র), ইবরাহীম (র) এবং আবূয যিনাদ (র)-এর অভিমত তাদের আসহাব থেকে। রুবায়-এর বোন কোন এক ব্যক্তিকে আহত করলে নবী (সাঃ) বলেন, এ ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান হল ‘কিসাস’
৬৪২০। আমর ইবনু আলী (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুখের সময় তার মুখের এক কিনারায় ঔষধ ঢেলে দিলাম। তিনি বলেন, তোমরা আমার মুখের কিনারায় ঔষধ দিও না। আমরা মনে করলাম, রোগী ঔষধ সেবন অপছন্দ করেই থাকে। যখন তাঁর হুশ ফিরে এলো, তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যেন এমন কেউ থাকে না, যার মুখের কিনারায় জোর পুর্বক ঔষধ ঢেলে দেয়া না হয় শুধুমাত্র আব্বাস ব্যতীত। কেননা, সে তোমাদের কাছে হাযির ছিল না।
