অধ্যায়ঃ ৭৩/ উত্তরাধিকার (كتاب الفرائض)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৯১ | 6291 | ٦۲۹۱
পরিচ্ছদঃ ২৮০৫. যাবিল আরহাম
৬২৯১। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ} {وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ এ আয়াত সম্পর্কে বলেন যে, মুহাজিরগণ যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির ও আনসারগগের মাঝে যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন, সে প্রেক্ষিতে আনসারগণের সাথে যাদের যাবিল আরহাম এর সম্পর্ক ছিল তা বাদ দিয়ে মুহাজিরগগ আনসারগণের সম্পতির উত্তরাধিকার হতেন। এরপর যখন وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ এর আয়াত নাযিল হয়, তখন وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ আয়াতের বিধানটি রহিত হয়ে যায়।
অধ্যায়ঃ ৭৩/ উত্তরাধিকার (كتاب الفرائض)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৯২ | 6292 | ٦۲۹۲
পরিচ্ছদঃ ২৮০৬. লি’আনকারীদের উত্তরাধিকার
৬২৯২। ইয়াহইয়া ইবনু কাযাআ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় তার স্ত্রীর সঙ্গে লি-আন করেছিল। এবং তার সন্তানটিকেও অস্বীকার করল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনের মাঝে (বিবাহ) বিচ্ছেদ করে দিলেন এবং সন্তানটি মহিলাকে দিয়ে দিলেন।
অধ্যায়ঃ ৭৩/ উত্তরাধিকার (كتاب الفرائض)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৯৩ | 6293 | ٦۲۹۳
পরিচ্ছদঃ ২৮০৭. শয্যাসঙ্গিনী আযাদ হোক বা বাঁদী, সন্তান শয্যাধিপতির
৬২৯৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, উতবা তার ভাই সা’দকে ওসীয়াত করল যে, যামাআ নামক বাদীর সন্তানটি আমার। তাই তুমি তাকে তোমার হস্তগত করে নাও। মক্কা বিজয়ের বছর সা’দ তাকে হস্তগত করলেন এবং বললেন যে, এ আমার ভ্রাতুষ্পুত্র। আমার ভাই এর সম্পর্কে ওসীয়্যত করে গিয়েছিলেন। তখন আবদ ইবনু যামআ দাঁড়িয়ে বললেন, এ তো আমার ভাই। কেননা, এ হচ্ছে আমার পিতার বাঁদীর পুত্র। এবং সে আমার পিতার শয্যাসঙ্গিনীর গর্ভে জন্ম নিয়েছে। উভয়েই তাঁদের মুকদ্দমা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পেশ করলেন।
তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদ ইবনু যামআ, এ ছেলে তুমিই পাবে। কেননা, সন্তান সে-ই পেয়ে থাকে যার শয্যাসঙ্গিনীর গর্ভে জন্ম নেয়। আর ব্যভিচারকারীর জন্য হল পাথর। এরপর তিনি সাওদা বিনত যামআকে বললেনঃ তুমি এ ছেলে থেকে পর্দা পালন করবে। কেননা, তিনি তার মাঝে উতবার সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন। সুতরাং সাওদা (রাঃ) সে ছেলেটিকে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ (মৃত্যু) পর্যন্ত আর দেখেননি।
অধ্যায়ঃ ৭৩/ উত্তরাধিকার (كتاب الفرائض)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৯৪ | 6294 | ٦۲۹٤
পরিচ্ছদঃ ২৮০৭. শয্যাসঙ্গিনী আযাদ হোক বা বাঁদী, সন্তান শয্যাধিপতির
৬২৯৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সন্তান হল শয্যাধিপতির।
অধ্যায়ঃ ৭৩/ উত্তরাধিকার (كتاب الفرائض)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৯৫ | 6295 | ٦۲۹۵
পরিচ্ছদঃ ২৮০৮. অভিভাকত্ব ঐ ব্যক্তির জন্য যে আযাদ করবে। আর লাকিত এর উত্তরাধিকার। ‘উমার (রাঃ) বলেন, লাকীত (কুড়িয়ে পাওয়া) ব্যক্তি আযাদ
৬২৯৫। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারীরা (নামী বাঁদী) কে ক্রয় করতে চাইলাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করতে পার। কেননা, অভিভাবকত্ব তো ঐ ব্যাক্তির জন্য, যে আযাদ করে। বারীরাকে একদা একটি বকরী সাদাকা দেওয়া হল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি তার জন্য সাদাকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া। হাকাম বলেন, বারীরার স্বামী একজন আযাদ ব্যাক্তি ছিল। আবূ আবদুল্লাহ [বুখারী (রহঃ)] বলেনঃ হাকামের বর্ণনা সনদ হিসাবে মুরসাল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আমি তাকে (বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি।
অধ্যায়ঃ ৭৩/ উত্তরাধিকার (كتاب الفرائض)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৯৬ | 6296 | ٦۲۹٦
পরিচ্ছদঃ ২৮০৮. অভিভাকত্ব ঐ ব্যক্তির জন্য যে আযাদ করবে। আর লাকিত এর উত্তরাধিকার। ‘উমার (রাঃ) বলেন, লাকীত (কুড়িয়ে পাওয়া) ব্যক্তি আযাদ
৬২৯৬। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ নিশ্চয়ই অভিভাবকত্ব ঐ ব্যাক্তির জন্য যে আযাদ করবে।
অধ্যায়ঃ ৭৩/ উত্তরাধিকার (كتاب الفرائض)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৯৭ | 6297 | ٦۲۹۷
পরিচ্ছদঃ ২৮০৯. সায়বার উত্তরাধিকার
৬২৯৭। কাবীসা ইবনু উকবা (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে ইসলাম (মুসলমানগণ) সায়বা বানায় না। তবে জাহেলী যামানার লোকেরা সায়বা বানাত।
অধ্যায়ঃ ৭৩/ উত্তরাধিকার (كتاب الفرائض)
হাদিস নম্বরঃ ৬২৯৮ | 6298 | ٦۲۹۸
পরিচ্ছদঃ ২৮০৯. সায়বার উত্তরাধিকার
৬২৯৮। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা সিদ্দিকা (রাঃ) বারীরা বাদীকে আযাদ করার উদ্দেশ্যে ক্রয় করতে চাইলেন। আর তার মনিব তার ওয়ালার (অভিভাবকত্বের) শর্ত করল (নিজেদের জন্য)। তখন আয়িশা (রাঃ) আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি বারীরাকে আযাদ করার উদ্দেশ্যে ক্রয় করতে চাই। অথচ তার মনিবরা তার ওয়ালার শর্ত করছে। তিনি বললেনঃ তাকে (ক্রয় করে) আযাদ কর। কেননা, অভিভাবকত্ব ঐ ব্যাক্তির জন্যই হয়ে থাকে, যে ব্যাক্তি আযাদ করে। অথবা তিনি বললেনঃ তার মূল্য দিয়ে দাও। তিনি বলেনঃ তখন তিনি তাকে ক্রয় করলেন এবং আযাদ করে দিলেন। তিনি আরও বললেন, তাকে তার (স্বামীর সাথে) যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপারে ইখতিয়ার দেওয়া হল। সে নিজেকে ইখতিয়ার করল এবং বলল, আমাকে যদি এরূপ এরূপ কিছু দেওয়াও হয় তবুও আমি তার সাথী হব না। আসওয়াদ (রহঃ) বলেনঃ তার স্বামী আযাদ ছিল। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেনঃ আসওয়াদ এর বক্তব্য বিচ্ছিন্ন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর বক্তব্য ‘আমি (বারীরার স্বামীকে) তাকে গোলামরূপে দেখেছি’ বিশুদ্ধতর।
