হাদিস নম্বরঃ ৬৯১০ | 6910 | ٦۹۱۰
পরিচ্ছদঃ ৩১২১. মহান আল্লাহ্র বাণীঃ যাকে আমি নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি
৬৯১০। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাবদের থেকে জনৈক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আবুল কাসিম! (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ তা’আলা আসমানসমূহকে এক আঙ্গুলের ওপর, যমীনগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, গাছ ও কাদামাটিকে এক আঙ্গুলের ওপর এবং বাকি সৃষ্টিরাজিকে এক আঙ্গুলের ওপর তুলে বলবেন, বাদশাহ একমাত্র আমিই, বাদশাহ একমাত্র আমিই। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি দেখতে পেলাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ফেললেন। এমনকি তার মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে ওঠলো। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ আর তারা আল্লাহ পাকের মহানত্বের যথোচিত মর্যাদা উপলব্ধি করেনি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৯১১ | 6911 | ٦۹۱۱
পরিচ্ছদঃ ৩১২২. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ আল্লাহ্ অপেক্ষা বেশি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কেউই নয়
৬৯১১। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) বললেন, আমি আমরে স্ত্রীর সাথে অন্য কোন পুরুষকে যদি দেখি, তাকে তরবারি দ্বারা হত্যা করব। এই উক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি সা’দের আত্নমর্যাদাবোধ দেখে আাশ্চার্যান্বিত হচ্ছ? আল্লাহর কসম! আমি তার চেয়েও বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন। আর আল্লাহ আমার চেয়েও বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন। আল্লাহ আত্নমর্যাদাবোধ সস্পন্ন হওয়ার কারণে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য (সর্বপ্রকার) অশ্লীলতাকে হারাম করে দিয়েছেন। অক্ষমতা প্রকাশকে আল্লাহর চাইতে বেশি পছন্দ করেন এমন কেউই নেই। আর এই জন্য তিনি ভীতি প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতাদেরকে পাঠিয়েছেন। আত্মস্তুতি আল্লাহর চেয়ে বেশি কারো কাছে প্রিয় নয়। তাই তিনি জান্নাতের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৯১২ | 6912 | ٦۹۱۲
পরিচ্ছদঃ ৩১২৩. মহান আল্লাহ্র বাণীঃ বল, সাক্ষ্য প্রদানে সর্বশ্রেষ্ঠ কে? বল, আল্লাহ্। এখানে আল্লাহ্ তা‘আলা নিজেকে ‘শাইউন’ (বস্তু) বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবার নবী (সাঃ) কুরআনকে বস্তু আখ্যায়িত করেছেন। অথচ এটি আল্লাহ্র গুণাবলির মধ্যে একটি গুন। মহান আল্লাহ্ বলেছেনঃ আল্লাহ্র সত্তা ব্যতীত সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল
৬৯১২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … সাহাল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে (সাহাবী) বললেনঃ তোমার কাছে কুরআনের কোন বস্তু আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, অমুক সূরা অমুক সূরা। তিনি সূরাগুলোর নাম উল্লেখ করেছিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৯১৩ | 6913 | ٦۹۱۳
পরিচ্ছদঃ ৩১২৪. মহান আল্লাহ্র বাণীঃ তখন তাঁর আরশ পানির ওপর ছিল। তিনি আরশে আযীমের প্রতিপালক। আবুল আলীয়া (রহঃ) বলেন, اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ এর মমার্থ হচ্ছে আসমানকে উড্ডীন করেছেন। فَسَوَّاهُنَّ এর মর্মার্থ হচ্ছে, তিনি আসমানরাজিকে সৃষ্টি করেছেন। মুজাহিদ (র) বলেছেন, اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ এর মর্মাথ হল, আরশের উপর অধিষ্ঠিত হলেন। আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, مَجِيد অর্থ সম্মানতি, الوَدُود অর্থ প্রিয়। বলা হয়ে থাকে, حَمِيدٌ مَجِيدٌ মূলত প্রশংসনীয় ও পবিত্র। বস্তুত এটি مَاجِدٍ থেকে فَعِيلٌ এর ওযনে এসেছে। আর مَحْمُودٌ (প্রশংসনীয়) এসেছে حمد থেকে
৬৯১৩। আবদান (রহঃ) … ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে বনূ তামীম এর কাওমটি এল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে বনূ তামীম। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। প্রতি উত্তরে তারা বলল, আপনি আমাদেরকে শুভ সংবাদ যখন প্রদান করেছেন, তাহলে কিছু দান করুন। এ সময় ইয়ামানবাসী কতিপয় লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেখানে উপস্থিত হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে বললেনঃ হে ইয়ামানবাসী! তোমাদের জন্য সুসংবাদ। বনূ তামীম তা গ্রহন করল না। তারা বলে উঠল, আমরা গ্রহণ করলাম শুভ সংবাদ। যেহেতু আমরা আপনার কাছে এসেছি দ্বীনী জ্ঞান হাসিল করার উদ্দেশ্যে এবং জিজ্ঞাসা করার জন্য এসেছি যে, এ দুনিয়া সৃষ্টির আগে কি ছিল? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তখন ছিলেন, তাঁর আগে আর কিছু ছিল না। তার আরশ তখন পানির ওপর ছিল। এরপর তিনি আসমান সমুহ ও যমীন সৃষ্টি করলেন। এবং লাওহে মাফফুযে সব বস্তু সম্পর্কে লিখে রাখলেন। রাবী বলেন, এরপর আমার কাছে এক ব্যাক্তি এসে বলল, হে ইমরান! তোমার উষ্ট্রী পালিয়ে গিয়েছে, তার খবর নাও। আমি উষ্ট্রীর সন্ধানে চললাম। দেখলাম, উষ্ট্রী মরীচিকার আড়ালে আছে। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি! আমার মন চাচ্ছিল উষ্ট্রী চলে যায় যাক তবুও আমি মজলিস ছেড়ে যেন না উঠি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৯১৪ | 6914 | ٦۹۱٤
পরিচ্ছদঃ ৩১২৪. মহান আল্লাহ্র বাণীঃ তখন তাঁর আরশ পানির ওপর ছিল। তিনি আরশে আযীমের প্রতিপালক। আবুল আলীয়া (রহঃ) বলেন, اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ এর মমার্থ হচ্ছে আসমানকে উড্ডীন করেছেন। فَسَوَّاهُنَّ এর মর্মার্থ হচ্ছে, তিনি আসমানরাজিকে সৃষ্টি করেছেন। মুজাহিদ (র) বলেছেন, اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ এর মর্মাথ হল, আরশের উপর অধিষ্ঠিত হলেন। আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, مَجِيد অর্থ সম্মানতি, الوَدُود অর্থ প্রিয়। বলা হয়ে থাকে, حَمِيدٌ مَجِيدٌ মূলত প্রশংসনীয় ও পবিত্র। বস্তুত এটি مَاجِدٍ থেকে فَعِيلٌ এর ওযনে এসেছে। আর مَحْمُودٌ (প্রশংসনীয়) এসেছে حمد থেকে
৬৯১৪। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর ডান হাত পরিপূর্ণ, রাত দিনের খরচেও তা কমে না। তোমরা ভেবে দেখেছ কি? আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টিলগ্ন থেকে তিনি কত খরচ করে চলেছেন। তবুও তাঁর ডান হাতের কিছুই কমেনি। তার আরশ পানির ওপর অবস্থান করছে। তাঁর অপর হাতটিতে রয়েছে দেওয়া এবং নেওয়া। তা তিনি উঠান ও নামান।
