হাদিস নম্বরঃ ৬৮৪২ | 6842 | ٦۸٤۲
পরিচ্ছদঃ ৩০৯০. নবী (সাঃ) যা বলেছেন এবং আলেমদেরকে ঐক্যের প্রতি যে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর যেসব বিষয়ে হারামাঈন মক্কা ও মদীনার আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। মদীনায় নবী করীম (সাঃ) মুহাজির ও আনসারদের স্মৃতিচিহ্ন এবং নবী (সাঃ) এর নামাযের স্থান, মিন্বর ও কবর সম্পর্কে
৬৮৪২। সাঈদ ইবনু রাবী (রহঃ) … উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ আকীক নামক স্থানে অবস্থানকালে এক রাতে আমার পরওয়ারদিগারের নিকট থেকে একজন আগন্তুক (ফেরেশতা) আমার কাছে এলেন। তিন বললেন, এই বরকতময় প্রান্তরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করুন এবং বলুন উমরা ও হাজ্জের নিয়ত করছি। এদিকে হারুন ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) বলেন, আলী (রাঃ) আমার কাছে হজ্জের সাথে ‘উমরার নিয়ত করুন’ শব্দ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৪৩ | 6843 | ٦۸٤۳
পরিচ্ছদঃ ৩০৯০. নবী (সাঃ) যা বলেছেন এবং আলেমদেরকে ঐক্যের প্রতি যে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর যেসব বিষয়ে হারামাঈন মক্কা ও মদীনার আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। মদীনায় নবী করীম (সাঃ) মুহাজির ও আনসারদের স্মৃতিচিহ্ন এবং নবী (সাঃ) এর নামাযের স্থান, মিন্বর ও কবর সম্পর্কে
৬৮৪৩। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মীকাত নির্ধারণ করেছেন নজদবাসীদের জন্য কারনকে, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফাকে এবং মদিনাবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফাকে ইবনু উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি এগুলো (স্বয়ং) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমার কাছে আরো সংবাদ পৌছেছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীদের মীকাত হচ্ছে ইয়ালামলাম এবং ইরাকের কথা উল্লেখ করা হলে ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, তখন তো ইরাক ছিল না।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৪৪ | 6844 | ٦۸٤٤
পরিচ্ছদঃ ৩০৯০. নবী (সাঃ) যা বলেছেন এবং আলেমদেরকে ঐক্যের প্রতি যে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর যেসব বিষয়ে হারামাঈন মক্কা ও মদীনার আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। মদীনায় নবী করীম (সাঃ) মুহাজির ও আনসারদের স্মৃতিচিহ্ন এবং নবী (সাঃ) এর নামাযের স্থান, মিন্বর ও কবর সম্পর্কে
৬৮৪৪। আবদুর রহমান ইবনু মুবারাক (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি যুল হুলায়ফা নামক স্থানে রাতের শেষ প্রহরে অবস্থানকালে তাকে বলা হলো আপনি একটি বরকতময় স্থানে রয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৪৫ | 6845 | ٦۸٤۵
পরিচ্ছদঃ ৩০৯১. মহান আল্লাহর বাণীঃ (হে আমার হাবীব!) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনের দায়িত্ব আপনার নয়
৬৮৪৫। আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) এর শেযে রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় বলতে শুনেছেন, اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ الخ (হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনারই জন্য। তিনি আরো বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি অমুক অমুক ব্যাক্তির প্রতি লানত করুন। এরপর আল্লাহ নিম্নোক্ত আয়াতখানা অবতীর্ন করেনঃ (হে নাবী) চুড়ান্তভাবে কোন কিছুর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দারিত্ব আপনার হাতে নেই। আল্লাহ হয়ত তাদেরকে তাওবার তাওফীক দিবেন নয়ত তাদেরকে শান্তি দিবেন। কেননা তারা সীমালংঘনকারী।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৪৬ | 6846 | ٦۸٤٦
পরিচ্ছদঃ ৩০৯২. মহান আল্লাহর বাণীঃ মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্কপ্রিয় (১৮ঃ ৫৪)। মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কিতাবীদের সাথে বিতর্ক করবে না………. (২৯ঃ ৪৬)
৬৮৪৬। আবুল ইয়ামান ও মুহাম্মাদ ইবনু সালাম (রহঃ) … আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এর নিকট আসলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছ কি? আলী (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের জীবন তো আল্লাহর হাতে। তিনি আমাদেরকে যখন (সালাত (নামায/নামাজ) এর জন্য ঘুম থেকে) জাগিয়ে দিতে চান, জাগিয়ে দেন। আলী (রাঃ) এর এ কথা বলার সাথে সাথেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন, আলীর কথার কোন প্রতিউত্তর তিনি আর দিলেন না। আলী (রাঃ) বলেন, আমি শুনতে পেলাম, তিনি চলে যাচ্ছে, আর ঊরুতে হাত মেরে মেরে বললেনঃ মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়।
আবূ আবদুল্লাহ (বুখারী) (রহঃ) বলেনঃ তোমার কাছে রাতে যে আগন্তুক আসে তাকে ‘তাবিক’ বা নৈশ অতিথি বলে। ‘তারিক’ একটি নক্ষত্রকেও বলা হয়। আর ‘ছাকিব’ অর্থ হল জ্যোতিষ্মান। এইজন্যই আগুন যে জালায় তাকে লক্ষ্য করে সাধারণত বলা হয়ে থাকে, তুমি আগুন জ্বালিয়ে তোল।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৪৭ | 6847 | ٦۸٤۷
পরিচ্ছদঃ ৩০৯২. মহান আল্লাহর বাণীঃ মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্কপ্রিয় (১৮ঃ ৫৪)। মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কিতাবীদের সাথে বিতর্ক করবে না………. (২৯ঃ ৪৬)
৬৮৪৭। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মসজিদে নববীতে ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা চলো ইহুদীদের সেখানে যাই। আমরা তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে এলাম। অবশেষে আমরা বায়তুল মিদরাসে (তাদের শিক্ষাগারে) পৌছলাম। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে ইহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবুল কর, এতে তোমরা নিরাপদে থাকবে। ইহুদীরা বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ আমার ইচ্ছা তোমরা ইসলাম কবুল কর এবং শান্তিতে থাক। তারাও আবার বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ আমি এরূপই ইচ্ছা রাখি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে উচ্ছেদ করে দিতে চাই। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের অস্থাবর সম্পত্তি আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। অন্যথায় জেনে রেখো যমীন আল্লাহ ও তার রাসুলের।
