হাদিস নম্বরঃ ৬৮০৩ | 6803 | ٦۸۰۳
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৯. দীনের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন, তর্ক-বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া, বাড়িবাড়ি করা এবং বিদ্আত অপছন্দীয়। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ হে কিতাবীরা! তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ্ সম্পর্কে সত্য ব্যতীত বলো না ……. (৪ঃ ১৭১)।
৬৮০৩। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে একটি কাজ করলেন এবং তাতে তিনি অবকাশ দিলেন। তবে কিছু লোক এর থেকে বিরত রইল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সংবাদ পৌছল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করলেন, তারপর বললেন, লোকদের কি হল যে, তারা এমন কাজ থেকে বিরত থাকে যা আমি নিজে করি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহ সম্পর্কে তাদের থেকে অধিক জানি এবং আমি তাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮০৪ | 6804 | ٦۸۰٤
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৯. দীনের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন, তর্ক-বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া, বাড়িবাড়ি করা এবং বিদ্আত অপছন্দীয়। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ হে কিতাবীরা! তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ্ সম্পর্কে সত্য ব্যতীত বলো না ……. (৪ঃ ১৭১)।
৬৮০৪। মুহাম্মাদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … ইবনু আবূ মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুইজন অতি ভাল লোক ধ্বংসের কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিলেন। তারা হলেন আবূ বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)। বনী তামীমের প্রতিনিধি দল যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল, তখন তাদের একজন [উমর (রাঃ)] আকরা ইবনু হাবিস হানযালী নামে বনী মুজাশে গোত্রের ভ্রাতা জনৈক ব্যাক্তির দিকে ইশারা করলেন, অপরজন [আবূ বকর (রাঃ)] অন্য আর একজনের প্রতি ইশারা করলেন। এতে আবূ বকর (রাঃ) উমর (রাঃ) কে বললেন, আপনার ইচ্ছা হল আমার বিরোধিতা করা। উমর (রাঃ) বললেন, আমি আপনার বিরোধিতার ইচ্ছা করিনি।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে তাঁদের দু’জনেরই আওয়াজ বুলন্দ হয়ে যায়। ফলে (নিন্নোক্ত আয়াতটি) নাযিল হয়ঃ হে মুমিনগগ! তোমরা নাবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উচু করবে না (৪৯ঃ ২)। ইবনু আবূ মুলায়কা বলেনঃ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, এরপরে উমর (রাঃ) যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কোন কথা বলতেন, তখন গোপন বিষয়ের আলাপকারীর ন্যায় চুপেচুপে বলতেন, এমন কি তা শোনা যেত না, যতক্ষন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে পুনরায় জিজ্ঞাসা না করতেন। এ হাদীসের রাবী ইবনু যুবায়র তার পিতা অর্থাৎ নানা আবূ বকর (রাঃ) থেকে উল্লেখ করেননি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮০৫ | 6805 | ٦۸۰۵
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৯. দীনের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন, তর্ক-বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া, বাড়িবাড়ি করা এবং বিদ্আত অপছন্দীয়। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ হে কিতাবীরা! তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ্ সম্পর্কে সত্য ব্যতীত বলো না ……. (৪ঃ ১৭১)।
৬৮০৫। ইসমাঈল (রহঃ) … উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুস্থতার সময় বললেন, তোমরা আবূ বকরকে বল, লোকদের নিয়ে যেন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম যে, আবূ বকর (রাঃ) যদি আপনার স্থানে দাঁড়ান তাহলে কান্নার কারনে মানুষকে তার আওয়াজ শুনতে পারবেন না। সুতরাং আপনি উমর (রাঃ) কে নির্দেশ দিন, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। তিনি পুনরায় বললেনঃ তোমরা আবূ বকরকে বল, যেন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি হাফসা (রাঃ) কে বললাম, তুমি বল যে, আবূ বকর আপনার জায়গায় দাঁড়ালে কান্নার কারনে লোকদের তার আওয়াজ শোনাতে পারবেন না। সুতরাং আপনি উমর (রাঃ) কে নির্দেশ দিন। তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। হাফসা (রাঃ) তাই করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তো ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর (বিভ্রান্তকারিণী) মহিলাদের ন্যায়। আবূ বকরকে বল, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। হাফসা (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) কে বললেন, আমি আপনার কাছ থেকে কখনই ভাল কিছু পাওয়ার মত নই।
হাদিস নম্বরঃ ৬৮০৬ | 6806 | ٦۸۰٦
পরিচ্ছদঃ ৩০৭৯. দীনের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন, তর্ক-বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া, বাড়িবাড়ি করা এবং বিদ্আত অপছন্দীয়। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ হে কিতাবীরা! তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ্ সম্পর্কে সত্য ব্যতীত বলো না ……. (৪ঃ ১৭১)।
৬৮০৬। আদম (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উওয়ায়মির (রাঃ) আসিম ইবনু আদীর কাছে এসে বলল, আচ্ছা বলুন তো, যদি কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য কাউকে পায় এবং তাকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে এর জন্য (কিসাস হিসাবে) আপনারা কি তাকে হত্যা করবেন? হে আসিম! আপনি আমার জন্য এ বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করুন। তিনি জিজ্ঞাসা করলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এহেন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাকে অপছন্দ করলেন এবং দূষণীয় মনে করলেন। আসিম (রাঃ) ফিরে এসে তাকে জানাল যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টিকে খারাপ মনে করেছেন। উওয়ায়মির (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি নিজেই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাব। তারপর তিনি আসলেন। আসিম (রাঃ) চলে যাওয়ার পরেই আল্লাহ তা’আলা কুরআন নাযিল করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা কুরআনের আয়াত নাযিল করেছেন।
