তখন আমি আমার ছেলের মুক্তিপণ হিসাবে সেই মহিলাকে) একশ বকরী ও একটি দাসী দেই। এরপর আমি আলেমদের নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। তাঁরা আমাকে বললেনঃ যে, তাঁর স্ত্রীর উপর ‘রজম’ এর হুকুম অবধারিত। আর আমার ছেলের জন্য রয়েছে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তরের হুকুম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, অবশ্যই আমি তোমাদের দু’জনের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করব। বকরী ও বাঁদী ফিরিয়ে নাও, আর তোমার ছেলের উপর একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তরের হুকুম কার্যকর হবে। এরপর তিনি আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যাক্তিকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে উনায়স! তুমি এর স্ত্রীর নিকট যাও, যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে ‘রজম’ করো। উনায়স সেই স্ত্রীলোকটির নিকট গেলেন, সে স্বীকার করল তখন তিনি তাকে রজম করলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৬৫ | 6765 | ٦۷٦۵
পরিচ্ছদঃ ৩০৬৯. নবী (সাঃ) একা যুবায়র (রা.)-কে শত্রুপক্ষের সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করেছিলেন।
৬৭৬৫। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, খন্দকের যুদ্ধে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে আহবান জানালেন। যুবায়র (রাঃ) তাঁর আহবানে সাড়া দিলেন। তিনি আবার আহবান জানালেন। এবারও যুবায়র (রাঃ) সাড়া দিলেন। তিনি পুনরায় আহবান জানালেন। এবারেও যুবায়র (রাঃ) সাড়া দিলেন। তিনবার এরূপ হওয়ার পর তিনি বললেনঃ প্রত্যেক নাবীর একজন হাওয়ারী (সাহায্যকারী) থাকে, আর যুবায়র হল আমার হাওয়ারী।
সুফিয়ান (রহঃ) বলেনঃ আমি এ হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদির থেকে হিফয করেছি। একবার আইউব তাকে বললেন, হে আবূ বকর (রাঃ), আপনি জাবির (রাঃ) এর হাদীস বর্ণনা করুন। কেননা, লোকদের নিকট জাবির (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস খুবই পছন্দনীয়। তখন তিনি সে মজলিসে বললেন, আমি জাবির (রাঃ) থেকে শুনেছি। এ বলে তিনি ধারাবাহিক অনেক হাদীস বর্ননা করলেন, যেগুলো আমিও জাবির (রাঃ) থেকে শুনছি। আমি সুফিয়ানকে বললাম যে, সাওরী বলেছেন যে, সেটা ছিল বনূ কুরায়যার যুদ্ধের দিন। তিনি বললেন, তুমি যেমন আমার কাছে বসা, ঠিক তেমনি কাছে বসে আমি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে হিফয করেছি যে, সেটি ছিল খন্দকের দিন। সুফিয়ান বলেন, এটা একই দিন। তারপর তিনি মুচকি হাসি দিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৬৬ | 6766 | ٦۷٦٦
পরিচ্ছদঃ ৩০৭০. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর গৃহে প্রবেশ করো না, যদি না তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়। …… (২৪ঃ ২৭) যদি একজন তাকে অনুমতি দেয় তাহলে প্রবেশ করা বৈধ
৬৭৬৬। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাগানে প্রবেশ করলেন এবং আমাকে দরজায় পাহাবাদারী করার জন্য নির্দেশ দিলেন। এক লোক এসে প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের খোশখবরী দাও। তিনি ছিলেন আবূ বকর (রাঃ)। তারপর উমর (রাঃ) আসলেন। তিনি বললেনঃ তাকেও অনুমতি দাও এবং জান্নাতের খোশখবরী দাও। তারপর উসমান (রাঃ) আসলেন। তিনি বললেনঃ তাকেও অনুমতি দাও এবং জান্নাতের খোশখবরী দাও।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৬৭ | 6767 | ٦۷٦۷
পরিচ্ছদঃ ৩০৭০. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর গৃহে প্রবেশ করো না, যদি না তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়। …… (২৪ঃ ২৭) যদি একজন তাকে অনুমতি দেয় তাহলে প্রবেশ করা বৈধ
৬৭৬৭। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দ্বিতল কক্ষে অবস্থানরত ছিলেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কৃষ্ণকায় গোলামটি দরজার সন্মুখে দাঁড়ানো। আমি তাকে বললাম, তুমি বল এই উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এসেছে। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৬৮ | 6768 | ٦۷٦۸
পরিচ্ছদঃ ৩০৭১. নবী (সাঃ) আমীর ও দূতদেরকে পর্যায়ক্রমে একজনের পর একজন করে পাঠাতেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) দাহইয়া কালবী (রাঃ) কে তাঁর চিঠি দিয়ে বসরার গভর্নরের নিকট পাঠিয়েছিলেন, যেন সে তা (রোম সম্রাট) কায়সারের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়
৬৭৬৮। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পারস্য সম্রাট) কিসরার নিকট তার চিঠি পাঠালেন। তিনি ডেকে এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সে যেন এ চিঠি নিয়ে বাহরাইনের শাসনকর্তার নিকট দেয়। আর বাহরাইনের শাসনকর্তা যেন তা (সম্রাট) কায়সারের নিকট পৌছিয়ে দেয়। কায়সার এ চিঠি পাঠ করার পর তা টুকরা টুকরা করে ফেলল। ইবনু শিহাব বলেন আমার ধারণা ইবনু মূসাইয়্যেব বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি বদ দোয়া করেছিলেন, তাদেরকেও আল্লাহ তা’আলা পূর্ণরূপে টুকরা টুকরা করে দেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৬৯ | 6769 | ٦۷٦۹
পরিচ্ছদঃ ৩০৭১. নবী (সাঃ) আমীর ও দূতদেরকে পর্যায়ক্রমে একজনের পর একজন করে পাঠাতেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) দাহইয়া কালবী (রাঃ) কে তাঁর চিঠি দিয়ে বসরার গভর্নরের নিকট পাঠিয়েছিলেন, যেন সে তা (রোম সম্রাট) কায়সারের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়
৬৭৬৯। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন আসলাম কবীলার এক ব্যাক্তিকে বললেনঃ তোমার গোত্রে ঘোষনা কর কিংবা বলেছিলেনঃ লোকের মাঝে ঘোষণা কর যে, যারা আহার করে ফেলেছে তারা যেন অবশিষ্ট দিন পূর্ন করে, আর যারা আহার করেনি তারা যেন রোযা পালন করে।
