শোন! আমি কি তোমাদের নিকট পৌছিয়েছি? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাক।(অতঃপর বললেন) উপস্থিত ব্যাক্তি যেন (আমার বানী) অনুপস্থিতের নিকট পৌছিয়ে দেয়। কেননা অনেক প্রচারক এমন ব্যাক্তির নিকট (আমার বানী) পৌছাবে যারা তার চাইতে অধিক সংরক্ষণকারী হবে। বস্তুত ব্যাপারটি তাই। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার পরে একে অপরের গর্দান মেরে কুফরীর দিকে ফিরে যেয়ো না।
যে দিন জারিয়্যাহ ইবনু কুদামা কর্তৃক আলা ইবনু হাযরামীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, সেদিন জারিয়্যাহ তার বাহিনীকে বলেছিল, আবূ বাকরার খবর নাও। তারা বলেছিল এই তো আবূ বাকরা (রাঃ) আপনাকে দেখছেন। আবদুর রহমান বলেন, আমার মা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আবূ বাকরা (রাঃ) বলেছেন, (সেদিন) যদি তারা আমার গৃহে প্রবেশ করত, তাহলে আমি তাদেরকে একটি বাশের লাঠি নিক্ষেপ (প্রতিহত) করতাম না।
আবু আবদুল্লাহ বলেনঃ হাদীসে ব্যবহৃত بشهث শব্দের অর্থ رميت অর্থাৎ আমি নিক্ষেপ করেছি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৫৯৯ | 6599 | ٦۵۹۹
পরিচ্ছদঃ ২৯৮৪. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমার পর তোমরা পরস্পরে হানাহানি করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না
৬৫৯৯। আহমাদ ইবনু ইশকাব (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান মেরে কুফরীর দিকে ফিরে যেয়ো না।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬০০ | 6600 | ٦٦۰۰
পরিচ্ছদঃ ২৯৮৪. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমার পর তোমরা পরস্পরে হানাহানি করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না
৬৬০০। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … জারীর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন যে, বিদায় হাজ্জে (হজ্জ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ লোকদেরকে নীরব হতে বল। তারপর তিনি বললেনঃ আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান মেরে কুফরীর দিকে ফিরে যেয়ো না।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬০১ | 6601 | ٦٦۰۱
পরিচ্ছদঃ ২৯৮৫. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ ফিতনা ব্যাপক হারে হবে, তাতে দাঁড়ানো ব্যক্তির চাইতে উপবিষ্ট ব্যক্তি উত্তম হবে
৬৬০১। মুহাম্মদ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই অনেক ফিতনা দেখা দেবে। তখন উপবিষ্ট ব্যাক্তি দাঁড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম। দাঁড়ানো ব্যাক্তি পদাচারী ব্যাক্তির চাইতে উত্তম। পদাচারী ব্যাক্তি ধাবমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। যে ব্যাক্তি ফিতনার দিকে তাকাবে ফিতনা তাকে পেয়ে বসবে। তখন কেউ যদি কোন আশ্রয়স্থল কিংবা নিরাপদ জায়গা পায়, তাহলে সে যেন তথায় আত্নরক্ষা করে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬০২ | 6602 | ٦٦۰۲
পরিচ্ছদঃ ২৯৮৫. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ ফিতনা ব্যাপক হারে হবে, তাতে দাঁড়ানো ব্যক্তির চাইতে উপবিষ্ট ব্যক্তি উত্তম হবে
৬৬০২। আবুল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই ফিতনা দেখা দেবে। তখন উপবিষ্ট ব্যাক্তি-দাঁড়ানো ব্যাক্তির তুলনায় ভাল (ফিতনামুক্ত) থাকবে, দাঁড়ানো ব্যাক্তি চলমান ব্যাক্তির তুলনায় ভাল থাকবে, চলমান ব্যাক্তি ধাবমান ব্যাক্তির তুলনায় ভাল থাকবে। যে ব্যাক্তি সে ফিতনার দিকে তাকাবে, ফিতনা তাকে পেয়ে বসবে। সুতরাং তখন কেউ যদি (কোথাও) কোন নিরাপদ আশ্রয়স্থল কিংবা আত্নরক্ষার ঠিকানা পায়, তাহলে সে যেন সেখানে আশ্রয় নেয়।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬০৩ | 6603 | ٦٦۰۳
পরিচ্ছদঃ ২৯৮৬. দু’জন মুসলিম তরবারী নিয়ে পরস্পরে মারমুখী হলে
৬৬০৩। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহাব (রহঃ) … হাসান বসরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ফিতনা কবলিত রজনীতে (অর্থাৎ জঙ্গে জামাল কিংবা জঙ্গে সিফফীনে) আমি হাতিয়ার নিয়ে বের হলাম। হঠাৎ আবূ বাকরা (রাঃ) আমার সামনে পড়লেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় যাচ্ছ? আমি বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাত ভাইয়ের সাহায্যার্থে যাচ্ছি। তখন তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি দু’জন মুসলিম তরবারী নিয়ে পরস্পর সংঘর্যের জন্য মুখোমুখী হয়, তাহলে উভয়েই জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, হত্যাকারী তো জাহান্নামী। কিন্তু নিহত ব্যাক্তির কি অপরাধ? তিনি বললেনঃ সেও তার প্রতিপক্ষকে হত্যা করার সংকল্প করেছিল।
বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবনু যায়িদ বলেন, আমি এ হাদীসটি আইউব ও ইউনুস ইবনু আবদুল্লাহর কাছে পেশ করলাম। আমি চাচ্ছিলাম তাঁরা এ হাদীসটি আমাকে বর্ণনা করবেন। তারা বললেন, এ হাদীসটি হাসান বসরী (রহঃ) আহনাফ ইবনু কায়সের মধ্যস্থতায় আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬০৪ | 6604 | ٦٦۰٤
পরিচ্ছদঃ ২৯৮৬. দু’জন মুসলিম তরবারী নিয়ে পরস্পরে মারমুখী হলে
৬৬০৪। সুলায়মান ইবনু হারব ও মুআম্মাল (রহঃ) … আবূ বাকরা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়া মা’মার আইউব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। বাক্কার ইবনু আবদুল আযীয স্বীয় পিতার মধ্যস্থতায় আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে এটি বর্ননা করেছেন এবং গুনদারও আবূ বাকরা (রাঃ) এর বর্ণনায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) মানসুর থেকে (পূর্বোক্ত সনদে হাদীসটি বর্ননা করার সময়) মারফূ’ রূপে উল্লেখ করেন নি।
