আমর ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, মারওয়ান যখন সিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হল, তখন আমি আমার দাদার সঙ্গে তাদের সেখানে গেলাম। তিনি যখন তাদের অল্প বয়ষ্ক বালক দেখতে পেলেন তখন তিনি আমাদের বললেনঃ সম্ভবত এরা সেই দলেরই অন্তর্ভুক্ত। আমরা বললাম, এ বিষয়ে আপনই ভাল বোঝেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৫৮১ | 6581 | ٦۵۸۱
পরিচ্ছদঃ ২৯৮০. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ আরবরা অত্যাসন্ন এক দূর্যোগে হালাক হয়ে যাবে।
৬৫৮১। মালিক ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … যায়নাব বিরত জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তবর্ণ চেহারা নিয়ে নিদ্রা থেকে জাগলেন এবং বলতে লাগলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। অত্যাসন্ন এক দুর্যোগে আরব ধ্বংস হয়ে যাবে। ইয়াজুজ-মাজুজের (প্রতিরোধ) প্রাচীর আজ এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। সুফিয়ান নব্বই কিংবা একশতের রেখায় আঙ্গুল রেখে গিট বানিয়ে পরিমাণটুকু দেখালেন। জিজ্ঞাসা করা হল, আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব অথচ আমাদের মধ্যে নেককার লোকও থাকবে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৫৮২ | 6582 | ٦۵۸۲
পরিচ্ছদঃ ২৯৮০. নবী (সাঃ) এর বাণীঃ আরবরা অত্যাসন্ন এক দূর্যোগে হালাক হয়ে যাবে।
৬৫৮২। আবু নুআয়ম (রহঃ) ও মাহমুদ (রহঃ) … উসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার টিলাসমুহের একটির উপর উঠে বললেনঃ আমি যা দেখি তোমরা কি তা দেখতে পাও? উত্তরে সাহাবা-ই-কিরাম বললেন, না। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিঃসন্দেহে আমি দেখতে পাচ্ছি, তোমাদের ঘরগুলোর ফাঁকে ফাঁকে ফিতনা বৃষ্টিধারার মতো নিপতিত হচ্ছে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৫৮৩ | 6583 | ٦۵۸۳
পরিচ্ছদঃ ২৯৮১. ফিতনার প্রকাশ
৬৫৮৩। আইয়্যাস ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সময় নিকটবর্তী হতে থাকবে, আর আমল হ্রাস পেতে থাকবে, কার্পণ্য ছড়িয়ে দেওয়া হবে, ফিতনার বিকাশ ঘটরে এবং হারজ (هرج) ব্যাপকতর হবে। সাহাবা-ই-কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, সেটা (هرج) কি? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হত্যা, হত্যা। শুআয়ব, ইউনুস, লাইস এবং যুহরীর ভ্রাতুষ্পূত্র আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৫৮৪ | 6584 | ٦۵۸٤
পরিচ্ছদঃ ২৯৮১. ফিতনার প্রকাশ
৬৫৮৪। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) … শাকিক থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ও আবূ মূসা (রাঃ) এর সাথে ছিলাম। তাঁরা বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই কিয়ামতের পূর্বে এমন একটি সময় আসবে যখন সর্বত্র মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে এবং তাতে ইল্ম উঠিয়ে নেওযা হবে। সে সময় ‘হারজ’ ব্যাপকতর হবে। আর ‘হারজ’ হল (মানুষ) হত্যা।
হাদিস নম্বরঃ ৬৫৮৫ | 6585 | ٦۵۸۵
পরিচ্ছদঃ ২৯৮১. ফিতনার প্রকাশ
৬৫৮৫। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের পুর্বে এমন একটি সময় আসবে ইল্ম উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং সর্বত্র মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে, আর তখন হারজ ব্যাপকতর হবে। ‘হারজ’ হলো হত্যা।
হাদিস নম্বরঃ ৬৫৮৬ | 6586 | ٦۵۸٦
পরিচ্ছদঃ ২৯৮১. ফিতনার প্রকাশ
৬৫৮৬। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পূর্বোক্ত হাদীসের ন্যায় একটি হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। আর হাবশী ভাষায় হারজ অর্থ (মানুষ) হত্যা।
হাদিস নম্বরঃ ৬৫৮৭ | 6587 | ٦۵۸۷
পরিচ্ছদঃ ২৯৮১. ফিতনার প্রকাশ
৬৫৮৭। মুহাম্মাদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তার ব্যাপারে আমার ধারণা, তিনি হাদীসটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কিয়ামতের পূর্বে হারজ অর্থাৎ হত্যার যুগ শুরু হবে। তখন ইল্ম বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং মূর্খতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আবূ মূসা (রাঃ) বলেনঃ হাবশী ভাষায় হারজ অর্থ (মানুষ) হত্যা।।
আবূ আওয়ানা তাঁর বর্ননা সুত্রে আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, তিনি আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে যুগকে ‘হারজ’ এর যুগ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন সে যুগ সম্পর্কে আপনি কিছু জানেন কি? এর উত্তরে তিনি পূর্বোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামত যাদের জীবদ্দশায় কায়েম হবে তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক।
হাদিস নম্বরঃ ৬৫৮৮ | 6588 | ٦۵۸۸
পরিচ্ছদঃ ২৯৮২. প্রতিটি যুগের চেয়ে পরবর্তী যুগ আরও নিকৃষ্টতর হবে।
৬৫৮৮। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … যুবায়র ইবনু আদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর নিকট গেলাম এবং হাজ্জাজের পক্ষ থেকে মানুষ যে নির্যাতন ভোগ করছে সে সম্পর্কে অভিযোগ পেশ করলাম। তিনি বললেনঃ ধৈর্য ধারণ কর। কেননা, মহান প্রতিপালকের সহিত মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (অর্থাৎ মৃত্যুর পুর্বে) তোমাদের উপর এমন কোন যুগ অতিবাহিত হবে না, যার পরবর্তী যুগ তার চেয়েও নিকৃষ্টতর নয়। তিনি বলেনঃ এ কথাটি আমি তোমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ করেছি।
