হাদিস নম্বরঃ ৫৪১৭ | 5417 | ۵٤۱۷
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৪. পুরুষের জন্য রেশমী পোশাক পরা, রেশমী চাদর বিছানো এবং কী পরিমাণ রেশমী কাপড় ব্যবহার বৈধ
৫৪১৭। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … ইমরান ইবনু হিত্তান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট রেশম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকটে যাও এবং তাকে জিজ্ঞাস কর। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন। ইবনু উমরের নিকট জিজ্ঞেস কর। ইবনু উমরকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ আবূ হাফস অর্থাৎ উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনীয়ায় রেশমী কাপড় সে ব্যাক্তই পরবে, যার আখিরাতে কোন অংশ নেই। আমি বললামঃ তিনি সত্য বলেছেন। আবূ হাফস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর মিথ্যা আরোপ করেননি।
আবদুল্লাহ ইবনু রাজা (রহঃ) … ইমরানের সুত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৪১৮ | 5418 | ۵٤۱۸
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৫. পরিধান না করে রেশমী কাপড় স্পর্শ করা। এ সম্পর্কে যুবায়দীর সুত্রে আনাস (রাঃ) থেকে নবী (সাঃ) এর হাদিস বর্ণিত আছে
৫৪১৮। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) … বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একখানা রেশমী কাপড় হাদিয়া পাঠানো হয়। আমরা তা স্পর্শ করলাম এবং বিস্ময় প্রকাশ করলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এতে বিস্ময় প্রকাশ করছো? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ জান্নাতে সা’দ ইবনু মুআযের রুমাল এর চাইতে উত্তম হবে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৪১৯ | 5419 | ۵٤۱۹
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৬. রেশমী কাপড় বিছানো। আবীদা বলেন, এটা পরিধানের তুল্য
৫৪১৯। আলী (রহঃ) … হুয়ায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সোনা ও রুপার পাত্রে পানাহার করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি মোটা ও মিহিন রেশমী কাপড় পরিধান করতে ও তাতে বসতে বারণ করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৪২০ | 5420 | ۵٤۲۰
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৭. কাসসী পরিধান করা। আসিম আবূ বুরদাহ হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কাসসী’ কী? তিনি বললেন, এক প্রকার কাপড় –যা শাম (সিরিয়া) অথবা মিশর থেকে আমাদের দেশে আমদানী হয়ে থাকে। চওড়া দিক থেকে নকশা করা হয়, তাতে রেশম থাকে এবং উৎরুনজের মত তা কারুকার্যখচিত হয়। আর মীসারা এমন বস্র, যা স্ত্রী লোকেরা তাদের স্বামীদের জন্য প্রস্তুত করে, মখমলের চাদরের মত তা হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। জারীর ইয়াযীদ থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর বর্ণনায় আছে- কাসসী হল নকশীওয়ালা কাপড় যা মিশর থেকে আমদানী হয়, তাতে রেশম থাকে। আর মীছারা হলো হিংস্র জন্তুর চামড়া
৫৪২০। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … বারা ইবনু অযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের লাল রঙের মীছারা ও কাসসী পরতে নিষেধ করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৪২১ | 5421 | ۵٤۲۱
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৮. চর্মরোগের কারণে পুরুষের জন্য রেশমী কাপড়ের অনুমতি
৫৪২১। মুহাম্মদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়ের ও আবদুর রহমান (রাঃ) কে তাদের চর্মরোগের কারণে রেশমী কাপড় পরার অনুমতি দিয়েছিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৪২২ | 5422 | ۵٤۲۲
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৯. মহিলাদের রেশমী কাপড় পরিধান করা
৫৪২২। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি রেশমী হুল্লা পরতে দেন। আমি তা পরে বের হই। কিন্তু তাঁর (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) চেহারায় অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করি। সুতরাং আমি তা ফেঁড়ে আমার পরিবারের মহিলাদের মধ্যে বণ্টন করে দেই।
হাদিস নম্বরঃ ৫৪২৩ | 5423 | ۵٤۲۳
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৯. মহিলাদের রেশমী কাপড় পরিধান করা
৫৪২৩। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উমর (রাঃ) একটি রেশমী হুল্লা বিক্রী হতে দেখে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি যদি এটি খরীদ করে নিতেন, তা হলে যখন কোন প্রতিনিধি দল আপনার কাছে আসে তখন এবং জুমুআর দিনে পরিধান করতে পারতেন। তিনি বললেনঃ এটা সে ব্যক্তিই পরতে পারে যার আখিরাতে কোন অংশ নেই। পরবর্তী সময়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর (রাঃ) এর নিকট ডোরাকাটা রেশমী হুল্লা পাঠান। তিনি কেবল তাকেই পরতে দেন। উমর (রাঃ) বললেন আপনি এখনি আমাকে পরতে দিয়েছেন, অথচ এ সম্পর্কে যা বলার তা আমি আপনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বললেন আমি তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে তুমি এটি বিক্রি করে দিবে অথবা কাউকে পরতে দিবে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৪২৪ | 5424 | ۵٤۲٤
পরিচ্ছদঃ ২৩৫৯. মহিলাদের রেশমী কাপড় পরিধান করা
৫৪২৪। আবূল ইয়ামন (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা উম্মে কুলসুমের পরিধানে হালকা নকশা করা রেশমী চাদর দেখেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৪২৫ | 5425 | ۵٤۲۵
পরিচ্ছদঃ ২৩৬০. নাবী (সাঃ) কী ধরনের পোশাক ও বিছানা গ্রহণ করতেন
৫৪২৫। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি এক বছর যাবত অপেক্ষায় ছিলাম যে, উমর (রাঃ) এর কাছে সে দু’টি মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবো যারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে জোট বেঁধে ছিলো। কিন্তু আমি তাকে খুব ভয় করে চলতাম। একদিন তিনি কোন এক স্থানে নামলেন এবং (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) আরাক গাছের কাছে গেলেন। যখন তিনি বেরিয়ে এলেন, আমি তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ (তারা হলেন) আয়িশা (রাঃ) ও হাফস (রাঃ)। এরপর তিনি বললেনঃ জাহিলী যুগে আমরা নারীদের কোন কিছু বলে গন্যই করতাম না। যখন ইসলাম আবির্ভূত হলো এবং (কুরআনে) আল্লাহ তাদের (মর্যাদার কথা) উল্লেখ করলেন। তাতে আমরা দেখলাম যে, আমাদের উপর তাদের হক আছে এবং এতে আমাদের হস্তক্ষেপ করা চলবে না।
