যুহরী হাদীসটি আবূ সালামা ও সিনান ইবনু আবূ সিনান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩০৯ | 5309 | ۵۳۰۹
পরিচ্ছদঃ ২২৯৭. পাঁজরের ব্যথা
৫৩০৯। মুহাম্মদ (রহঃ) … উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে কায়স বিনত মিহসান তিনি ছিলেন প্রথম কালের হিজরতকারিণী উক্কাশা ইবনু মিহসান (রাঃ) এর বোন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়আত গ্রহণকারিণী মহিলা সাহাবী। তিনি বলেছেনঃ তিনি তাঁর এক ছেলেকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসেন। ছেলেটির আলাজিহ্বা ফুলে গিয়েছিল। তিনি তা দাবিয়ে দিয়েছিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহকে ভয় কর, কেন তোমরা তোমাদের সন্তানদের তালু দাবিয়ে কষ্ট দাও। তোমরা এই ভারতীয় চন্দন কাঠ ব্যবহার কর। কেননা, এতে রয়েছে সাত প্রকারের চিকিৎসা। তন্মধ্যে একটি হল পাঁজরের ব্যথা। কাঠ বলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদ্দেশ্য হল কোস্ত। قسط শব্দেও তার আভিধানিক ব্যবহার আছে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩১০ | 5310 | ۵۳۱۰
পরিচ্ছদঃ ২২৯৭. পাঁজরের ব্যথা
৫৩১০। আরিম (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ তালহা ও আনাস ইবনু নাযর (রাঃ) তাকে আগুন দিয়ে দাগ দিয়েছেন। আর আবূ তালহা তাকে নিজ হাতে দাগ দিয়েছেন। আব্বাদ ইবনু মানসূর বলেন, আইউব আবূ কিলাবা … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের জনৈক পরিবারের লোকদের বিষাক্ত দংশন ও কান ব্যথা জনিত কারণে ঝাঁড়ফুক গ্রহণ করার জন্য অনূমতি দেন। আনাস (রাঃ) বলেন আমাকে পাঁজর ব্যথা রোগের কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবিত থাকাকালে আগুন দিয়ে দাগ দেয়া হয়েছিল। তখন আমার নিকট উপস্থিত ছিলেন আবূ তালহা আনাস ইবনু নাযর এবং যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)। আর আবূ তালহা (রাঃ) আমাকে দাগ দিয়েছিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩১১ | 5311 | ۵۳۱۱
পরিচ্ছদঃ ২২৯৮. রক্ত বন্ধ করার জন্য চাটাই পুড়িয়ে ছাই লাগানো
৫৩১১। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথায় লৌহ শিরস্রান (হেলমেট) চুর্ন করে দেয়া হল আর তার মুখমন্ডল রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল এবং তাঁর রুবাঈ দাঁত ভেংগে গেল, তখন আলী (রাঃ) ঢাল ভর্তি করে পানি দিতে থাকলেন এবং ফাতিমা (রাঃ) এসে তার চেহারা মুবারক থেকে রক্ত ধুয়ে দিতে লাগলেন। ফাতিমা (রাঃ) যখন দেখলেন যে, পানি ঢালার পরেও অধিক পরিমাণ রক্ত ঝরে চলছে, তখন তিনি একটি চাটাই নিয়ে এসে তা পুড়ালেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখমের উপর ছাই লাগিয়ে দিলেন। ফলে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩১২ | 5312 | ۵۳۱۲
পরিচ্ছদঃ ২২৯৯. জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়
৫৩১২। ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) এর সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে সৃষ্টি হয়। কাজেই তা পানির সাহায্যে নিভিয়ে দাও। নাফি (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) তখন বলতেন আমাদের উপর থেকে শাস্তিকে হালকা কর।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩১৩ | 5313 | ۵۳۱۳
পরিচ্ছদঃ ২২৯৯. জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়
৫৩১৩। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … ফাতিমা বিনত মুনযির (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট যখন কোন জ্বরাক্রান্ত মহিলাকে দু’আর জন্য আনা হত, তখন তিনি পানি হাতে নিয়ে সেই মহিলার জামার ফাঁক দিয়ে তার গায়ে ছিটিয়ে দিতেন এবং বলতেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ দিতেন, আমরা যেন পানি দিয়ে জ্বর ঠাণ্ডা করে দেই।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩১৪ | 5314 | ۵۳۱٤
পরিচ্ছদঃ ২২৯৯. জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়
৫৩১৪। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়। কাজেই তোমরা পানির দ্বারা তা ঠান্ডা করো।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩১৫ | 5315 | ۵۳۱۵
পরিচ্ছদঃ ২২৯৯. জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়
৫৩১৫। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে সৃষ্টি হয়। কাজেই তোমরা তা পানির দ্বারা ঠাণ্ডা করে নিও।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩১৬ | 5316 | ۵۳۱٦
পরিচ্ছদঃ ২৩০০. অনুকূল নয় এমন এলাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়া
৫৩১৬। আবদুল আ’লা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উক্কাল ও উরায়না গোত্রের কতিপয় মানুষ কিংবা তিনি বলেছেন কতিপয় পুরুষ লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে ইসলাম সম্পর্কে আলাপ আলোচনা করল। এরপর তারা বলল হে আল্লাহর নাবী! আমরা ছিলাম পশু পালন অঞ্চলের অধিবাসী। আমরা কখনো চাষাবাদকারী ছিলাম না। অতএব মদিনায় বসবাস করা তাদের জন্য অনুপযোগী হল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য কিছু উট ও একজন রাখাল দেওয়ার আদেশ দিলেন এবং তাদের হুকুম দিলেন যেন এগুলো নিয়ে যায় এবং এগুলোর দুধ ও পেশাব পান করে। এরপর তারা রওয়ানা হয়ে যখন হারবা এলাকার কাছাকাছি গিয়ে পৌছল তখন তারা ইসলাম ত্যাগ করে কুফরী অবলম্বন করল এবং তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাখালটিকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ খবর পৌছল। তিনি তাদের পেছনে অনুসন্ধানকারী দল পাঠালেন। (ধরে আনার পর) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে চুড়ান্ত আদেশ দিলেন। সে মতে সাহাবায়ে কেরাম তাদের চক্ষুগুলো ফুঁড়ে দিলেন। তাদের হাতগুলো কেটে দিলেন এবং তাদের হাররা এলাকায় ফেলে রাখা হল। অবশেষে তারা সেই অবস্থায় মারা গেল।
