হাদিস নম্বরঃ ৫৩০০ | 5300 | ۵۳۰۰
পরিচ্ছদঃ ২২৮৮. যে ব্যক্তি আগুনের দ্বারা দাগ দেয় কিংবা অন্যকে দাগ লাগিয়ে দেয় এবং যে ব্যক্তি এভাবে দাগ দেয়নি তার ফাযীলাত
৫৩০০। ইমরান ইবনু মায়সারা (রহঃ) … ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বদ-নযর কিংবা বিষাক্ত দংশন ব্যতিরেকে অন্য কোন ব্যাপারে ঝাড়ফুঁক নেই। বর্ননাকারী বলেন, এরপর এ হাদীস আমি সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ আমাদের নিকট ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সামনে সকল উম্মাতকে পেশ করা হয়েছিল। (তখন আমি দেখেছি) দু’একজন নবী পথ অতিক্রম করতে লাগলেন এমতাবস্থায় যে, তাদের সংগে রয়েছে লোকজনের ছোট ছোট দল। কোন কোন নবী এমনও রয়েছেন যার সঙ্গে একজনও নেই। অবশেষে আমার সামনে তুলে ধরা হল বিশাল সমাবেশ। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ এটা কি? এ কি-আমার উম্মত? উত্তর দেয়া হলঃ না, ইনি মূসা (আলাইহিস সালাম) এর সঙ্গে তার কাওম। আমাকে বলা হলঃ আপনি ঊর্ধাকাশের দিকে তাকান। তখন দেখলামঃ বিশাল একটি দল যা দিগন্তকে ঢেকে রখেছে। তারপর আমাকে বলা হলঃ আকাশের দিগন্তের এদিক ওদিক দৃষ্টিপাত করুন। তখন দেখলাম বিশাল একটি দল, যা আকাশের দিগন্তসমূহ ঢেকে দিয়েছে। তখন বলা হল এরা হলঃ আপনার উম্মত। আর তাদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যাক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে চলে গেলেন। উপস্থিতদের কাছে কথাটির কোন ব্যাখ্যা প্রদান করলেন না। (যে বিনা হিসাবের লোক কারা হবে?) ফলে উপস্থিত লোকদের মধ্যে তারা বিতর্ক শুরু হল। তারা বললঃ আমরা আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছি এবং তার রাসুলের অনুসরণ করে থাকি, সুতরাং আমরাই তাদের অন্তর্ভুক্ত। কিংবা তারা হল আমাদের সে সকল সন্তান-সন্ততি যারা ইসলামের যুগে জন্মগ্রহন করেছে। আর আমাদের জন্ম হয়েছে জাহেলী যুগে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সংবাদ পৌছলে তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তারা হল সে সব লোক যারা মন্ত্র পাঠ করে না, বদফালী (শুভ অশুভ) গ্রহন করে না এবং আগুনের সাহায্যে দাগ লাগায় না। বরং তারা তো তাদের রবের উপরই ভরসা করে থাকে। তখন উক্কাসা ইবনু মিহসান (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাদের মধ্যে কি আমি আছি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আরেকজন দাঁড়িয়ে বললঃ তাদের মধ্যে কি আমিও আছি? তিনি বললেনঃ উক্কাসা এ সুযোগ তোমার আগেই নিয়ে গেছে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩০১ | 5301 | ۵۳۰۱
পরিচ্ছদঃ ২২৮৯. চোখের রোগের কারনে সুরমা ব্যবহার করা। উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকেও বর্ণনা রয়েছে
৫৩০১। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈকা মহিলার স্বামী মারা গেলে তার চোখে অসুখ দেখা দেয়। লোকজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মহিলার কথা উল্লেখ করে সুরমা ব্যবহারের কথা আলোচনা করল এবং তার চোখ আশংকাগ্রস্ত বলে জানাল। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের এক একটি মহিলার অবস্থাতো এরুপ ছিল যে, তার ঘরে তার সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাপড়ে আচ্ছাদিত হয়ে থাকত কিংবা তিনি বলেছেনঃ সে তার কাপড়ের দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে তার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঘরে (বছরের পর বছর ধরে) অবস্থান করতে থাকতো। এরপর যখন কোন কুকুর হেঁটে যেত, তখন সে কুকুরটির দিকে উটের বিষ্টা নিক্ষেপ করে (বেরিয়ে আসার অনুমতি লাভ করতো)। কাজেই, সে চোখে সুরমা লাগাবে না বরং চার মাস দশ দিন পর্যন্ত সে অপেক্ষা করবে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩০২ | 5302 | ۵۳۰۲
পরিচ্ছদঃ ২২৯১. জমাট শিশির চোখের জন্য শেফা
باب الْجُذَامِ
وَقَالَ عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ، وَفِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ
২২৯০. পরিচ্ছেদঃ কুষ্ঠ রোগ। ‘আফফান (রহঃ) বলেন, সালিম ইবনু হায়য়ান, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোগের কোন সংক্রমণই নেই, কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের প্রতিক নয়, সফর মাসের কোন অশুভ নেই। কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি দূরে থাক তুমি বাঘ থেকে।
৫৩০২। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … সাঈদ ইবনু যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ছত্রাক এক জাতীয় শিশির থেকে হয়ে থাকে। আর এর রস চোখের জন্য শেফা। শুবা (রহঃ) বলেনঃ হাকাম ইবনু উতায়বা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার কাছে এরূপ বর্ণনা করেছেন। শুবা (রহঃ) বলেনঃ হাকাম যখন আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করেন তখন আবদুল মালিক বর্ণিত হাদীসকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন নি।
হাদিস নম্বরঃ ৫৩০৩ | 5303 | ۵۳۰۳
পরিচ্ছদঃ ২২৯২. রোগীর মুখের ভিতর ঔষধ ঢেলে দেয়া
৫৩০৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, আবূ বকর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃতদেহ মুবারকে চুমু নিয়েছেন। বর্ননাকারী বলেন আয়িশা (রাঃ) আরো বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুখের সময় আমরা তার মুখে ঔষধ ঢেলে দিলাম। তখন তিনি আমাদের ইশারা দিতে থাকলেন যে, তোমরা আমার মুখে ঔষধ ঢেল না। আমরা মনে করলাম এটা ঔষধের প্রতি একজন রোগীর অরুচির প্রকাশ মাত্র এরপর তিনি যখন সুস্থবোধ করলেন তখন বললেনঃ আমি কি তোমাদের আমার মুখে ঔষধ ঢেলে দিতে নিষেধ করিনি? আমরা বললামঃ আমরাতো ঔষধের প্রতি রোগীর সাধারণ অনীহা মনে করেছিলাম। তখন তিনি বললেন আমি এখন যাদের এ ঘরে দেখতে পাচ্ছি তাদের সকলের মুখেই ঔষুধ ঢালা হবে। আব্বাস (রাঃ) ছাড়া কেউ বাদ যাবে না। কেননা, তিনি তোমাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন না।
