হাদিস নম্বরঃ ৫১৬৬ | 5166 | ۵۱٦٦
পরিচ্ছদঃ ২২১৭. যবাহের পশুর পার্শ্বদেশ পা দিয়ে চেপে ধরা
৫১৬৬। হাজাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি শিং বিশিষ্ট সাদা-কালো রং এর ভেড়া কুরবানী করতেন। তিনি পশুগুলোর পার্শ্বদেশ তার পা দিয়ে চেপে ধরে সেগুলোকে নিজ হাতে যবাহ করতেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫১৬৭ | 5167 | ۵۱٦۷
পরিচ্ছদঃ ২২১৮. যবাহ করার সময় “আল্লাহু আকবার” বলা
৫১৬৭। কুতায়বা (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি সাদা-কালো বর্ণের শিংবিশিষ্ট ভেড়া কুরবানী করেন। তিনি ভেড়া দুটির পার্শ্বদেশে তার কদম মুবারক স্থাপন করে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে নিজ হাতেই সেই দুটিকে যবাহ করেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫১৬৮ | 5168 | ۵۱٦۸
পরিচ্ছদঃ ২২১৯. যবাহ করার জন্য কেউ যদি হারামে কুরবানীর পশু পঠিয়ে দেয়, তাহলে তার উপর ইহরামের বিধান থাকে না
৫১৬৮। আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … মাসরুক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন হে উম্মুল মুমিনীন! কোন ব্যাক্তি যদি কাবার উদ্দেশ্যে হাদী (কুরুবানীর পশু) পাঠিয়ে দেয় এবং নিজে আপন শহরে অবস্থান করে নির্দেশ দেয় যে, তার হাদীকে যেন মালা পরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে সে দিন থেকে লোকদের হালাল হওয়া পর্যন্ত কি সেই ব্যাক্তির ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে? মাসরুক বলেনঃ তখন আমি পর্দার আড়াল থেকে তার [আয়িশা (রাঃ)] হাতের উপর হাত মারার আওয়াজ শুনলাম। তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীর (কুরবানীর পশু) গলায় রশি পাকিয়ে পরিয়ে দিতাম। এরপর তিনি হাদীকে কাবার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিতেন। তখন স্বামী-স্ত্রীর বৈধ কাজ লোকেরা ফিরে আসা পর্যন্ত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ইহা হারাম হতো না।
হাদিস নম্বরঃ ৫১৬৯ | 5169 | ۵۱٦۹
পরিচ্ছদঃ ২২২০. কুরবানীর গোশত থেকে কতটুকু পরিমাণ আহার করা যাবে, আর কতটুকু পরিমান সঞ্চিত রাখা যাবে
৫১৬৯। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলে আমরা মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত কুরবানীর গোশত জমা করে রাখতাম। রাবী সুফিয়ান ইবনু উয়ায়না একাধিকবার لُحُومَ الأَضَاحِيِّ এর স্থলে لُحُومَ الْهَدْىِ বলেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫১৭০ | 5170 | ۵۱۷۰
পরিচ্ছদঃ ২২২০. কুরবানীর গোশত থেকে কতটুকু পরিমাণ আহার করা যাবে, আর কতটুকু পরিমান সঞ্চিত রাখা যাবে
৫১৭০। ইসমাঈল (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি (দীর্ঘ দিন) বাইরে ছিলেন, পরে ফিরে আসলে তার সামনে গোশত পরিবেশন করা হল। তিনি বললেনঃ এটি কি আমাদের কুরবানীর গোশত? এরপর তিনি বললেনঃ এটি সরিয়ে নাও, আমি তা খাব না। তিনি বলেন এরপর আমি উঠে গেলাম এবং ঘর থেকে বেরিয়ে আমার ভাই আবূ কাতাদা ইবনু নুমান এর নিকট এলাম। আবূ কাতাদা (রাঃ) ছিলেন তার বৈপিত্রেয় ভাই এবং তিনি ছিলেন বদরী সাহাবী। তিনি বলেন, এরপর আমি তার কাছে ব্যাপারটি উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তোমার অনুপহিস্থিতে এরুপ বিধান জারী হয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৫১৭১ | 5171 | ۵۱۷۱
পরিচ্ছদঃ ২২২০. কুরবানীর গোশত থেকে কতটুকু পরিমাণ আহার করা যাবে, আর কতটুকু পরিমান সঞ্চিত রাখা যাবে
৫১৭১। আবূ আসিম (রহঃ) … সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিবসে এমতাবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর গোশত কিছু পরিমান অবশ্যই থাকে। এরপর যখন পরবর্তী বছর আসল, তখন সাহাবীগন বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি সে রূপ করবো যে রূপ গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি বললেনঃ তোমরা নিজেরা খাও অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ কেননা, গত বছর তো মানুষের মধ্যে ছিল অভাব অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম যে, তোমরা তাতে সাহায্য কর।
হাদিস নম্বরঃ ৫১৭২ | 5172 | ۵۱۷۲
পরিচ্ছদঃ ২২২০. কুরবানীর গোশত থেকে কতটুকু পরিমাণ আহার করা যাবে, আর কতটুকু পরিমান সঞ্চিত রাখা যাবে
৫১৭২। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, মদিনায় অবস্থানের সময় আমরা কুররানীর গোশতের মধ্যে লবন মিশ্রিত করে রেখে দিতাম। এরপর তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে পেশ করতাম। তিনি বলতেনঃ তোমরা তিন দিনের পর খাবে না। তবে এটি জরুরী নয়। বরং তিনি চেয়েছেন যে, তা থেকে যেন অন্যদের খাওয়ান হয়। আল্লাহ অধিক অবগত।
হাদিস নম্বরঃ ৫১৭৩ | 5173 | ۵۱۷۳
পরিচ্ছদঃ ২২২০. কুরবানীর গোশত থেকে কতটুকু পরিমাণ আহার করা যাবে, আর কতটুকু পরিমান সঞ্চিত রাখা যাবে
৫১৭৩। হিব্বান ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু আযহাবের আযাদকৃত দাস আবূ উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এর সঙ্গে কুরবানীর ঈদের দিন ঈদগাহে হাযির ছিলেন। উমর (রাঃ) খুৎবার পুর্বে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। এরপর সমবেত জনতার সামনে খুৎবা দেন। তখন তিনি বলেন হে লোক সকল! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই ঈদের দিনে সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন। তন্মধ্যে একটি তো হল তোমাদের জন্য তোমাদের সিয়াম ভংগ করার দিন (অর্থাৎ ঈদুল ফিতর)। আর অপরটি হল এমন দিন যে দিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত আহার করবে।
