নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এমন কথা বলোনা। তুমি কি জানো না, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য লা-ইলাহা ইলাল্লাহ পড়েছে? লোকটি বললোঃ আল্লাহ ও তার রাসুল-ই ভাল জানেন। সে পূনরায় বললোঃ কিন্তু আমরা যে মুনাফিকদের সাথে তার সম্পর্ক ও তাদের প্রতি শুভ কামনা দেখতে পাই? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তো জাহান্নামকে ঐ ব্যাক্তির জন্য হারাম করে দিয়েছেন যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করলো। ইবনু শিহাব বলেনঃ এরপর আমি হুসায়ন ইবনু মুহাম্মদ আনসারী যিনি ছিলেন বানূ সালিমের একজন নেতৃস্থানীয় লোক তাকে মাহমুদের এ হাদীসের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি এর সত্যতা স্বীকার করলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫০১০ | 5010 | ۵۰۱۰
পরিচ্ছদঃ ২১২০. পনির প্রসঙ্গে। হুমায়ন (র) বলেন, আমি আনাস (রা) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাফিয়্যার সাথে বাসর যাপন করলেন। তারপর তিনি (দস্তরখানে) খেজুর, পনির এবং ঘি রাখলেন। আমর ইবন আবূ আমর আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (উক্ত তিনি বস্তুর সংযোগে) “হায়স” তৈরী করেন।
৫০১০। মুসলিম ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার খালা একটি দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) কিছু পনির এবং দুধ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হাদিয়া দিলেন এবং দস্তরখানে দব্ব রাখা হয়। যদি তা হারাম হতো তাঁর দস্তরখানে রাখা হতো না। তিনি (শুধু) দুধ পান করলেন এবং পনির খেলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫০১১ | 5011 | ۵۰۱۱
পরিচ্ছদঃ ২১২১. সিলক ও যব প্রসঙ্গে
৫০১১। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জুমআর দিন আসলে আমরা অত্যাধিক খুশী হতাম। এক বৃদ্ধা আমাদের জন্য সিলক (মূলা জাতীয় এক প্রকার সুস্বাদু সবজি) এর মূল তুলে তা তার ডেগে চড়িয়ে দিতেন। তারপর এতে সামান্য কিছু যব ছেড়ে দিতেন। সালাত (নামায/নামাজ) এর পর আমরা তাঁর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি এ খাবার আমাদের পরিবেশন করতেন। এ কারণেই জুমুআর দিন আসলে আমরা খুব খুশী হতাম। আমরা সকালের আহার এবং বিশ্রাম গ্রহণ করতাম না জুমুআর পর ছাড়া। আল্লাহর কসম! সে খাদ্যে কোন চর্বি বা চিকনাই থাকতো না।
হাদিস নম্বরঃ ৫০১২ | 5012 | ۵۰۱۲
পরিচ্ছদঃ ২১২২. গোশত দাঁত দিয়ে ছিড়ে এবং তুলে নিয়ে খাওয়া
৫০১২। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওহহাব (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি স্কন্ধের গোশত দাঁত দিয়ে ছিড়ে খেলেন। তারপর তিনি উঠে গিয়ে (নতুনভাবে) উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
অন্য সনদে আইমার ও আসিম (রহঃ) ই-করামার সুত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন। তিনি বলেছেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডেগ থেকে একটি গোশত যুক্ত হাড় বের করে তা খেলেন। তারপর (নতুন) উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫০১৩ | 5013 | ۵۰۱۳
পরিচ্ছদঃ ২১২৩. বাহুর গোশত খাওয়া
৫০১৩। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হলাম। অন্য সনদে আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সংখ্যক সাহাবীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামন্যই অবস্থান করছিলেন। আমি ছাড়া দলের সকলেই ছিলেন ইহরাম অবস্থায়। আমি আমার জুতা সেলাই এ করছিলাম। এমতাবস্থায় তারা একটি বন্য গাধা দেখতে পেল। কিন্তু আমাকে জানালো না। তবে তারা আশা করছিল, যদি আমি ওটা দেখতাম! তারপর আমি চোখ ফেরাতেই ওটা দেখে ফেরালাম। এরপর আমি ঘোড়ার কাছে গিয়ে তার জ্বীন লাগিয়ে তার উপর আরোহন করলাম। কিন্তু চাকু ও বর্শার কথা ভুলে গেলাম। কাজেই আমি তাদের বললাম, চাকু ও বর্শাটি আমাকে তুলে দাও। তারা বললোঃ না, আল্লাহর কসম! এ ব্যাপারে তোমাকে আমরা কিছুই সাহায্য করবো না।
এতে আমি ক্রুদ্ধ হলাম এবং নীচে পৌছে ওদুটি নিয়ে পুনরায় সাওয়ার হলাম। তারপর আমি গাধাটির পেছনে দ্রুত ধাওয়া করে তাকে ঘায়েল করে ফেললাম। তখন সেটি মরে গেল এবং আমি তা নিয়ে এলাম। (পাকানোর পর) তারা সকলে এটা খাওয়া শুরু করলো। তারপর ইহরাম অবস্থায় এটা খাওয়া নিয়ে তারা সন্দেহে পড়লো। আমি সমস্যার দিকে রওনা দিলাম এবং এর একটি বাহু লুকিয়ে রাখলাম। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম এবং তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কাছে এর কিছু আছে? একথা শুনে আমি বাহুটি তাঁর সামনে পেশ করলাম। তিনি মুহরিম অবস্থায় তা খেলেন, এমন কি এর হাঁড়ের সাথে জড়িত গোশতোও দাঁত দিয়ে ছিড়ে ছিড়ে খেলেন। ইবনু জাফর বলেছেনঃ যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) আতা ইবনু ইয়াসার এর সূত্রে আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
