হাদিস নম্বরঃ ৪৯৭৮ | 4978 | ٤۹۷۸
পরিচ্ছদঃ ২১০৫. ওয়ারিসের উপরেও অনুরূপ দায়িত্ব আছে। মহিলার উপরেও কি এমন কোন দায়িত্ব আছে ? আর আল্লাহ্ তা’আলা এমন দু’ব্যক্তির দৃষ্টান্ত দিয়েছেন, যাদের একজন বোবা, কিছুই করতে সমর্থ নয়। সে তার অভিভাবকের ওপর বোঝা স্বরূপ।
৪৯৭৮। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আবূ সালামার সন্তানদের জন্য ব্যয় করলে তাতে আমার কোন সাওয়াব হবে কি? আমি তাদের এ (অভাবী) অবস্থায় ত্যাগ করতে পারি না। তারা তো আমারই সন্তান। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাদের জন্য খরচ করলে তুমি সাওয়াব পাবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৭৯ | 4979 | ٤۹۷۹
পরিচ্ছদঃ ২১০৫. ওয়ারিসের উপরেও অনুরূপ দায়িত্ব আছে। মহিলার উপরেও কি এমন কোন দায়িত্ব আছে ? আর আল্লাহ্ তা’আলা এমন দু’ব্যক্তির দৃষ্টান্ত দিয়েছেন, যাদের একজন বোবা, কিছুই করতে সমর্থ নয়। সে তার অভিভাবকের ওপর বোঝা স্বরূপ।
৪৯৭৯। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিনদা এসে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ। আবূ সুফিয়ান কৃপন লোক। আমার ও সন্তানের প্রয়োজন মতো আমি যদি তার মাল থেকে কিছু গ্রহণ করি, তবে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বললেনঃ নিতে পার।
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৮০ | 4980 | ٤۹۸۰
পরিচ্ছদঃ ২১০৫. ওয়ারিসের উপরেও অনুরূপ দায়িত্ব আছে। মহিলার উপরেও কি এমন কোন দায়িত্ব আছে ? আর আল্লাহ্ তা’আলা এমন দু’ব্যক্তির দৃষ্টান্ত দিয়েছেন, যাদের একজন বোবা, কিছুই করতে সমর্থ নয়। সে তার অভিভাবকের ওপর বোঝা স্বরূপ।
৪৯৮০। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ঋণগ্রস্ত কোন মৃত ব্যাক্তিকে (জানাযার জন্য) আনা হলে, তিনি জিজ্ঞাসা করতেনঃ সে কি ঋণ পরিশোধ করার মত অতিরিক্ত কিছু রেখে গেছে? যদি বলা হত যে, সে ঝণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে গেছে, তাহলে তিনি তার জানাযা পড়তেন। অন্যথায় তিনি মুসলমানদের বলতেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়। তারপর আল্লাহ যখন তার জন্য অসংখ্য বিজয়ের দার খুলে দিলেন, তখন তিনি বললেনঃ আমি মুমিনদের নিজেদের চেয়েও বেশী ঘনিঠতর। সুতরাং মুমিনদের মধ্যে সে কেউ ঋণ রেখে মারা গেলে, তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমারই। আর যে ব্যাক্তি সম্পদ রেখে যাবে তা তার উত্তরাধিকারীবা পাবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৮১ | 4981 | ٤۹۸۱
পরিচ্ছদঃ ২১০৬. দাসী ও অন্যান্য মহিলা কর্তৃক দুধ পান করানো
৪৯৮১। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার বোন আবূ সুফইয়ানের মেয়েকে আপনি বিবাহ করুন। তিনি বললেনঃ তুমি কি তা পছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি তো আর আপনার সংসারে একা নই। আমার সঙ্গে এই সৌভাগ্যের অংশীদার, আমার বোনও তাদের অভভুক্ত হোক তাই আমি বেশী পছন্দ করি। তিনি বললেনঃ কিন্তু সে যে আমার জন্য হালাল হবে না? আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ আল্লাহর কসম! আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে আপনি নাকি উম্মে সালামার মেয়ে দুররাকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছেন? তিনি বললেনঃ উম্মে সালামার মেয়েকে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! সে যদি আমার কোলে পালিত, পূর্ব স্বামীর ঔরসে উম্মে সালামার গর্ভজাত সন্তান নাও-হতো, তবু সে আমার জন্য হালাল ছিল না। সে তো আমার দুধ-ভাইয়ের কন্যা। সুওয়াহাবা আমাকে ও আবূ সালামাকে দুধ পান করিয়েছেন। সুতরাং তোমাদের কন্যা ও বোনদের আমার সামণে পেশ করো না। শুয়াইব যুহরী থেকে বর্ননা করেছেন যে, উরওয়া বলেছেনঃ সুওয়ায়বাকে আবূ লাহাব মুক্ত করে দিয়েছিল।
আহার সংক্রান্ত অধ্যায় (৪৯৮২-৫০৭০)
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৮২ | 4982 | ٤۹۸۲
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আমি যে রিযিক তোমাদের দিয়েছি তা থেকে পবিত্রগুলো আহার কর। তিনি আরও বলেনঃ তোমাদের উপার্জিত পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর। তিনি আরও বলেনঃ পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎ কর্মশীল হও। তোমরা যা করছ আমি তা জানি।
৪৯৮২। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ক্ষুধার্থকে আহার করাও, রোগীর পরিচর্যা করো এবং বন্দীকে মুক্ত করো। সুফিয়ান বলেছেনঃ الْعَانِي অর্থঃ বন্দী।
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৮৩ | 4983 | ٤۹۸۳
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আমি যে রিযিক তোমাদের দিয়েছি তা থেকে পবিত্রগুলো আহার কর। তিনি আরও বলেনঃ তোমাদের উপার্জিত পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর। তিনি আরও বলেনঃ পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎ কর্মশীল হও। তোমরা যা করছ আমি তা জানি।
৪৯৮৩। ইউসুফ ইবনু ঈসা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার তার ইন্তেকাল অবধি একাধারে তিন দিন আহার করে পরিতৃপ্ত হন নি।
আরেকটি বর্ণনায় আবূ হাযিম আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একদা আমি প্রচণ্ড ক্ষুধার যন্ত্রনায় আক্রান্ত হই। তখন উমর ইবনু খাত্তারের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং মহান আল্লাহ (কুরআনের) একটি আয়াতের পাঠ তার থেকে শুনতে চাইলাম। তিনি আয়াতটি পাঠ করে নিজ গৃহে প্রবেশ করলেন। এদিকে আমি কিছু দূর চলার পর ক্ষুধার যন্ত্রনায় উপুড় হয়ে পড়ে গেলাম। একটু পরে দেখি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথার কাছে দাঁড়ানো। তিনি বললেনঃ হে আবূ হুরায়রা। আমি লাব্বাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ ওয়া সাদায়কা (আমি হাযীর! ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার সমীপে) বলে সাড়া দিলাম। তিনি আমার হাত ধরে তুললেন এবং আমার অবস্থা বুঝতে পারলেন।
