আল্লাহ আবূ বকরকে ওফাত দিলেন। আমি বললামঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ)-এর স্থলাভিষিক্ত এর পর আমি দুবছর এ মাল নিজ কবজায় রাখি। আমি এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকরের অনুসৃত নীতির-ই অনুসরণ করতে থাকি। তারপর তোমরা দুজন আসলে; তখন তোমরা উভয়ে, ঐক্যমত ছিলে এবং তোমাদের বিষয়ে সমন্বয় ছিল। তুমি আসলে ভ্রাতুষ্পুত্রের সম্পত্তিতে তোমার অংশ চাইতে। আর এ আসলো শশুরের সম্পত্তিতে স্ত্রীর অংশ চাইতে। আমি বলেছিলামঃ তোমরা যদি চাও, তবে আমি এ শর্তে তোমাদেরকে তা দিয়ে দিতে পারি, তোমরা আল্লাহর সহিত ওয়াদা ও অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে যে, এ ব্যাপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এবং এর কর্তৃত্ব হাতে পাওয়ার পর আমিও যে নীতির অনুসরণ করে এসেছি, সে তোমরা অনুসরন করবে। অন্যথায় এ ব্যাপারে আমার সাথে কোন কথা বলবে না। তখন তোমরা বলেছিলে এ শর্ত সাপেক্ষেই আমাদের কাছে দিয়ে দিন। তাই আমি এ শর্তেই তোমাদের তা দিয়েছিলাম।
তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের সকলকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আমি কি এ শর্তে এটি তাদের কাছে দেইনি? তারা বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি আলী ও আব্বাস (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করছি, আমি কি এ শর্তেই এটি তোমাদের কাছে দেইনি? তারা বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে এখন কি তোমরা আমার কাছে এ ছাড়া অন্য কোন ফয়সালা চাইছ? সেই সত্তার কসম! যার আদেশে আসমান-যযীন টিকে আছে আমি কিয়ামত পর্যন্ত এ ছাড়া অন্য কোন ফয়সালা দিতে প্রস্তুত নই। তোমরা যদি উল্লেখিত শর্ত পালন করতে অক্ষম হও, তাহলে তা আমার জিম্মায় ফিরিয়ে দাও তোমাদের পক্ষ থেকে আমিই এর পরিচালনা করব।
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৬৮ | 4968 | ٤۹٦۸
পরিচ্ছদঃ ২০৯৬. স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানের খরচ
২০৯৫. পরিচ্ছেদঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ মায়েরা যেন তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু‘বছর দুধ পান করায়, সেই পিতার জন্য যে পূর্ণ সময়কাল পর্যন্ত দুধ পান করাতে চায়; …….. তোমরা যা কর আল্লাহ্ তা দেখেন। তিনি আরো ইরশাদ করেনঃ তাকে গর্ভে ধারণ ও দুধ ছাড়ানোর সময় তিরিশ মাস। তিনি আরও বলেনঃ যদি তোমরা অসুবিধা রোধ কর, তাহলে অপর কোন মহিলা তাকে দুধ পান করাতে পারে। সচ্ছল ব্যক্তি স্বীয় সাধ্য অনুসারে খরচ করবে…. প্রাচুর্য দান করবেন। ইউনুস, যুহরী থেকে বর্ণনা করেন যে আল্লাহ্ নিষেধ করেছেন কোন মাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ করা হবে না। আর তা হলো এরূপ যে, মাতা একথা বলে বসলো, আমি একে দুধ পান করাব না। অথচ মায়ের দুধ শিশুর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য এবং অন্যান্য মহিলার তুলনায় মাতা সন্তানের জন্য অধিক স্নেহশীলা ও কোমল। কাজেই পিতা যথাসাধ্য নিজের পক্ষে থেকে কিছু দেওয়ার পরও মাতার জন্য দুধ পান করাতে অস্বীকার করা উচিত হবে না। এমনিভাবে সন্তানের পিতার জন্য উচিত নয় সে সন্তানের কারণে তার মাতাকে কষ্ট দেওয়া অর্থাৎ কষ্টে ফেলার উদ্দেশ্যে শিশু মাকে দুধ পান করাতে না দিয়ে অন্য মহিলাকে দুধ পান করাতে দেওয়া। হাঁ, মাতা পিতা খুশী হয়ে যদি কাউকে ধাত্রী নিযুক্ত করে, তবে তাতে কোন দোষ নেই। তেমনি যদি তারা উভয়ে দুধ ছাড়াতে চায়, তবে তাতেও তাদের কোন দোষ নেই, যদি তা পারস্পরিক সম্মতি ও পরামর্শের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। فِصَالُهُ দুধ ছাড়ানো।
৪৯৬৮। ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিনদা বিনত উতবা এসে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আবূ সুফিয়ান কঠিন লোক। আমি যদি তার মাল থেকে পরিবারের কাউকে কিছু দেই তাহলে আমার গুনাহ হবে কি? তিনি বললেন, না; তবে সঙ্গতভাবে ব্যয় করবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৬৯ | 4969 | ٤۹٦۹
পরিচ্ছদঃ ২০৯৬. স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানের খরচ
৪৯৬৯। ইয়াহইয়া (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন মহিলা স্বামীর উপার্জন থেকে বিনা হুকুমে দান করে, তবে সে তার অর্ধেক সাওয়াব পাবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৭০ | 4970 | ٤۹۷۰
পরিচ্ছদঃ ২০৯৭. স্বামীর গৃহে স্ত্রীর কাজ কর্ম করা
৪৯৭০। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আলী (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, একদা ফাতিমা (রাঃ) যাতা ব্যবহারে তার হাতে যে কষ্ট পেতেন তার অভিযোগ নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। তার কাছে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দাস আসার খবর পৌছেছিল। কিন্তু তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পেলেন না। তখন তিনি তার অভিযোগ আয়িশার কাছে বললেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে আসলে আয়িশা (রাঃ) তাকে জানালেন। আলী (রাঃ) বলেনঃ রাতে আমরা যখন শুয়ে পড়েছিলাম, তখন তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা উঠতে চাইলাম, কিন্তু তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়ে নিজ স্থানে থাক। তিনি এসে আমার ও ফাতিমার মাঝখানে বসলেন। এমনকি আমি আমার পেটে তার পায়ের শীতলতা অনুভব করেছিলাম। তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা যা চেয়েছ তার চেয়ে কল্যাণকর বিষয় সম্বন্ধে তোমাদের অবহিত করব না? তোমরা যখন তোমাদের শয্যাস্থানে যাবে, অথবা বললেনঃ তোমরা যখন তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তেত্রিশবার সূবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ এবং চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবর পাঠ করবে। খাদেম অপেক্ষা ইহা তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর।
