হাদিস নম্বরঃ ৫৮৭২ | 5872 | ۵۸۷۲
পরিচ্ছদঃ ২৬১৯. পবিত্র অবস্থায় রাত কাটানো এবং তার ফযীলত
৫৮৭২। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … বারা’আ ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ যখন তুমি শোয়ার বিছানায় যেতে চাও, তখন তুমি সালাত (নামায/নামাজ) এর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে। এরপর ডান পাশের উপর কাত হয়ে শুয়ে পড়বে। আর এ দুআ পড়বে, হে আল্লাহ! আমি আমার চেহারাকে (অর্থাৎ যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে) তোমার হাতে সঁপে দিলাম। আর আমার সকল বিষয় তোমারই নিকট সমর্পন করলাম এবং আমার পিঠখানা তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। আমি তোমার গযবের ভয়ে ভীত ও তোমার রহমতের আশায় আশান্নিত। তোমার নিকট ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল নেই এবং নেই মুক্তি পাওয়ার স্থান। তুমি যে কিতাব নাযিল করেছ, আমি তার উপর ঈমান এনেছি এবং তুমি যে নাবী পাঠিয়েছ আমি তার উপর ঈমান এনেছি। যদি তুমি এ রাতেই মরে যাও, তোমার সে মওত স্বভাবধর্ম ইসলামের উপরই হবে। অতএব তোমার এ দুআ যেন তোমার এ রাতের সর্বশেষ কথা হয়। রাবী বারা’আ বলেন, আমি বললামঃ আমি এ কথা মনে রাখবো। তবে وَبِرَسُولِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ সহ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না ওভাবে নয়, তুমি বলবে, وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৭৩ | 5873 | ۵۸۷۳
পরিচ্ছদঃ ২৬২০. ঘুমাবার সময় কি দু’আ পড়বে
৫৮৭৩। কাবীসা (রহঃ) … হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করতে যেতেন, তখন তিনি এ দু’আ পড়তেনঃ হে আল্লাহ! আপনারই নাম নিয়ে মরি আর আপনার নাম নিয়েই জীবিত হই। আর তিনি যখন জেগে উঠতেন তখন পড়তেনঃ যাবতীয় প্রশংসা সে আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের (নিদ্রা জাতীয়) মৃত্যুদানের পর আবার আমাদের পুনজীবিত করেছেন। (অবশেষে) আমাদের তারই নিকটে মিলিত হতে হবে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৭৪ | 5874 | ۵۸۷٤
পরিচ্ছদঃ ২৬২০. ঘুমাবার সময় কি দু’আ পড়বে
৫৮৭৪। সাঈদ ইবনু রাবী ও মুহাম্মাদ ইবনু আর’আরা (রহঃ) … বারা’আ ইবনু আযিব (রাঃ) বর্ণনা করেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক ব্যাক্তিকে নির্দেশ দিলেন, অন্য সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে অসিয়ত করলেন যে, যখন তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাবে, তখন তুমি এ দু’আ পড়বে, ইয়া আল্লাহ! আমি আমার প্রাণকে আপনার কাছে সোপর্দ করলাম-আর আমার বিষয় ন্যাস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রহমতের আশায় এবং আপনার গযবের ভয়ে। আপনার নিকট ছাড়া আপনার গযব থেকে পালিয়ে যাওয়ার এবং আপনার আযাব থেকে বেঁচে যাওয়ার আর কোন জায়গা নেই। আপনি যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তার উপর দৃঢ় বিশ্বাস করছি এবং আপনি যে নাবী পাঠিয়েছেন, আমি তার উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছি। যদি তুমি এ অবস্থায়ই মরে যাও, তবে তুমি স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৭৫ | 5875 | ۵۸۷۵
পরিচ্ছদঃ ২৬২১. ডান গালের নীচে ডান হাত রেখে ঘুমানো
৫৮৭৫। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নিজ বিছানায় শোয়ার সময় নিজ হাতখানা গালের নীচে রাখতেন, তারপর বলতেন ইয়া আল্লাহ! আপনার নামেই মরি। আপনার নামেই জীবিত হই। আর যখণি জাগতেন তখন বলতেনঃ সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা, তিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তারই দিকে আমাদের পুনরুত্থান।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৭৬ | 5876 | ۵۸۷٦
পরিচ্ছদঃ ২৬২২. ডান পাশের উপর ঘুমানো
৫৮৭৬। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজ বিছানায় বিশ্রাম নিতে যেতেন, তখন তিনি ডান পাশের উপর ঘুমাতেন এবং বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি আমার সত্তাকে আপনার কাছে সোপর্দ করলাম এবং আমার চেহারা আপনারই দিকে ফিরিয়ে দিন। আর আমার বিষয় ন্যাস্ত করলাম আপনার দিকে আপনার রহমতের আশায়। আপনি ছাড়া কারো আশ্রয় নেই আর নেই কোন গন্তব্য। আপনার নাযিলকৃত কিতাবে ঈমান আনলাম এবং আপনার প্রেরিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতিও। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি শোয়ার সময় এ দু’আগুলো পড়বে, আর সে রাতেই তার মৃত্যু হবে সে স্বভাব ধর্ম ইসলামের উপরই মরবে।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৭৭ | 5877 | ۵۸۷۷
পরিচ্ছদঃ ২৬২৩. রাতে ঘুম থেকে জাগার পর দু’আ
৫৮৭৭। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি মায়মুনা (রাঃ) এর ঘরে রাত কাটালাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে তার প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শুইয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার জেগে উঠে পানির মাশকের নিকট গিয়ে এর মুখ খুললেন। এরপর মাঝারি রকমের এমন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন যে; তাতে বেশী পানি লাগালেন না। অথচ পুরা উযূ (ওজু/অজু/অযু)ই করলেন। তারপর তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে গাগলেন। তখন আমিও জেগে উঠলাম। তবে আমি কিছু দেরী করে উঠলাম। এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন। যা হোক আমি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলাম। তখনও তিনি দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। সুতরাং আমি গিয়ে তাঁর বাম দিকে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তার ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন।
