হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৪ | 5844 | ۵۸٤٤
পরিচ্ছদঃ ২৫৯৯. জুমু’আর সালাত শেষে কায়লুলা (দুপুরের বিশ্রাম গ্রহন)
৫৮৪৪। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমরা জুমুআর সালাত (নামায/নামাজ) এর পরেই কায়লুলা করতাম এবং দুপূরের খাবার খেতাম।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৫ | 5845 | ۵۸٤۵
পরিচ্ছদঃ ২৬০০. মসজিদে কাইলুলা করা
৫৮৪৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাঃ) এর কাছে আবূ তুরাব এর চাইতে প্রিয়তর কোন নাম ছিল না। এ নামে ডাকা হলে তিনি অতান্ত খুশী হতেন। কারণ একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রাঃ) এর ঘরে আসলেন। তখন আলী (রাঃ) কে ঘরে পেলেন না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার চাচাতো ভাই কোথায়? তিনি বললেনঃ আমার ও তার মধ্যে কিছু ঘটায় তিনি আমার সঙ্গে রাগারাগি করে বেরিয়ে গেছেন। আমার কাছে কায়লুলা করেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে বললেনঃ দেখতো সে কোথায়? সে লোকটি এসে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি তো মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দেখতে পেলেন যে, তিনি কাত হয়ে শুয়ে আছেন, আর তার চাঁদরখানা পাশ থেকে পড়ে গেছে। ফলে তার সাথে মাটি লেগে গেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গায়ের মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেনঃ ওঠো, আবূ তুরাব (মাটির বাবা) ওঠো, আবূ তুরাব! একথাটা তিনি দু’বার বললেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৬ | 5846 | ۵۸٤٦
পরিচ্ছদঃ ২৬০১. যিনি কোন কাওমের সাথে দেখা করতে যান এবং সেখানে ‘কাইলুলা’ করেন
৫৮৪৬। কুতায়বা (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে সুলায়ম (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি সেখানেই ঐ চামড়ার বিছানার উপর কায়লুলা করতেন। এরপর তিনি যখন ঘুম থেকে উঠতেন তখন তিনি তার শরীরের কিছুটা ঘাম ও চুল সংগ্রহ করতেন এবং তা একটা শিশির মধ্যে জমাতেন এবং তাকে ‘সুক্ক’ নামক সুগন্ধির মধ্যে মিশাতেন। রাবী বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনু মালিক এর ওফাতের সময় ঘনিয়ে আসলে, তিনি আমাকে অসিয়ত করলেনঃ যেন ঐ ‘সুক্ক’ থেকে কিছুটা তার সুগন্ধির মধ্যে মিশিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং তা তার সুগন্ধির মধ্যে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৭ | 5847 | ۵۸٤۷
পরিচ্ছদঃ ২৬০১. যিনি কোন কাওমের সাথে দেখা করতে যান এবং সেখানে ‘কাইলুলা’ করেন
৫৮৪৭। ইসমাঈল (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কুবা’ এর দিকে যখন যেতেন তখন প্রায়ই উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করতেন এবং তিনি তাঁকে খানা খাওয়াতেন। তিনি উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। একদিন তিনি তার ঘরে গেলে তাকে খাবার খাওয়ালেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানেই ঘুমালেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি সজাগ হয়ে হাসতে লাগলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে কিসে হাসাচ্ছে? তিনি বললেনঃ স্বপ্নের মধ্যে আমাকে আমার উম্মাতের মধ্য হতে আল্লাহর পথে জিহাদকারী কিছু সংখ্যক মুজাহিদ দেখানো হয়েছে, যারা এই বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে বাদশাহদের মত সিংহাসনের উপর সমাসীন। তখন তিনি বললেনঃ আপনি দু’আ করুন সেন আল্লাহ তা’আলা আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। তিনি সে দু’আ করলেন এবং বিছানায় মাথা রেখে আবার শুয়ে পড়লেন।
কিছুক্ষণ পর তিনি আবার হাসতে হাসতে সজাগ হলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে কিসে হাসাচ্ছে? তিনি বললেন (স্বপ্নের মধ্যে) আমাকে আমার উম্মতের মধ্য থেকে আল্লাহর পথে জিহাদকারী কিছু সংখ্যক লোক দেখানো হয়েছে, যারা এই বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে বাদশাহদের মত সিংহাসলের উপর সমাসীন। তখন আবার আমি বললামঃ আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম বাহিনীদেরই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সুতরাং তিনি মুআবিয়া (রাঃ) এর আমলে সামুদ্রিক অভিযানে রওয়ানা হন এবং সমুদ্রাভিযান থেকে ফিরে এসে তার নিজেরই সাওয়ারী থেকে পড়ে গিয়ে (আল্লাহর পথেই) শাহাদাত বরণ করেন।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৮ | 5848 | ۵۸٤۸
পরিচ্ছদঃ ২৬০২. যার জন্য যেভাবে সহজ হয়, সেভাবেই বসা
৫৮৪৮। আলা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রকমের লেবাস এবং দু’ধরনের বিক্রয় নিষেধ করেছেন। পেচিয়ে কাপড় পরিধান করা থেকে এবং এক কাপড় পরে এহতেবা করা থেকে, যাতে মানুষের লজ্জাস্থানের উপর কোন কাপড় না থাকে এবং “মুলামাসা ও মুনাবাযা” বেচা-কেনা থেকেও।
হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৯ | 5849 | ۵۸٤۹
পরিচ্ছদঃ ২৬০৩. যিনি মানুষের সামনে কারো সঙ্গে কানে কানে কথা বলেন। আর যিনি আপন বন্ধুর গোপনীয় কথা কারো কাছে প্রকাশ করেন নি। অবশ্য তার মৃত্যুর পর তা প্রকাশ করেন
৫৮৪৯। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) বর্ণণা করেন, একবার আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সব সহধর্মিণী তাঁর নিকট জমায়েত হয়েছিলাম। আমাদের একজনও অনুপস্থিত ছিলাম না। এমন সময় ফাতিমা (রাঃ) পায়ে হেঁটে আসছিলেন। আল্লাহর কসম! তাঁর হাঁটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাঁটার অনুরূপই ছিল। তিনি যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি আমার মেয়ের আগমন শুভ হোক বলে তাঁকে সম্বর্ধনা জানালেন। এরপর যখন তিনি তাঁকে নিজের ডান পাশে অথবা (রাবী বলেন) বাম পাশে বসালেন। তারপর তিনি তাঁর সঙ্গে কানে কানে কিছুক্ষণ কথা বললেন, তিনি (ফাতেমা) খুব বেশী কাঁদতে লাগলেন। এরপর তাঁর বিষন্ন অবস্থা দেখে দ্বিতীয়বার তাঁর সঙ্গে তিনি কানে কানে আরো কিছু কথা বললেন, তখন ফাতিমা (রাঃ) হাসতে লাগলেন।
