হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭২ | 5772 | ۵۷۷۲
পরিচ্ছদঃ ২৫৪৬. আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত নাম
৫৭৭২। আবূল ইয়ামন (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিকট কিয়ামত দিবসে এ ব্যাক্তির নাম সব চাইতে ঘৃণিত, যে তার নাম ধারণ করেছে রাজাধিরাজ।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭৩ | 5773 | ۵۷۷۳
পরিচ্ছদঃ ২৫৪৬. আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত নাম
৫৭৭৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিকট সর্বাধিক নিকৃষ্ট নামধারী অথবা বলেছেন, সব নামের মধ্যে ঘৃণিত নাম হল সে ব্যাক্তি, যে রাজাধিরাজ নাম ধারণ করেছে। সুফিয়ান বলেন যে, অন্যেরা এর ব্যখ্যা করেছেন, শাহান শাহ।
হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭৪ | 5774 | ۵۷۷٤
পরিচ্ছদঃ ২৫৪৭. মুশরিকের কুনিয়াত। মিসওয়ার (রাঃ) বলেন যে, আমি নাবী (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, কিন্তু যদি ইবনু আবূ ত্বালিব চায়
৫৭৭৪। আবূল ইয়ামান ও ইসমাঈল (রহঃ) … উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার উপর সাওয়ার ছিলেন। তখন তার গায়ে একখানা ফাদাকী চাদর ছিল এবং তার পেছনে উসামা বসাছিলেন। তিনি বদরের যুদ্ধের পূর্বে সা’দ ইবনু উবাদাহ (রাঃ) এর শুশ্রুষা করার উদ্দেশ্যে হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্র অভিমুখে রওয়ানা হচ্ছিলেন। তারা চলতে চলতে এক মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল ছিল। এটা আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এর (প্রকাশ্যে) ইসলাম গ্রহনের আগের ঘটনা। মজলিসটি ছিল মিশ্রিত। এতে ছিলেন মুসলমান মুশরিক, মূর্তিপূজক ও ইয়াহুদী। মুসলমানদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) ও ছিলেন।
সাওয়ারীর চলার কারনে যখন উড়ন্ত ধুলাবালি মজলিসকে ঢেকে ফেলেছিল, তখন ইবনু উবাই তার চাদর দিয়ে তার নাক ঢেকে নিয়ে বললঃ তোমরা আমাদের উপর ধূলি উড়িওনা। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সালাম করলেন এবং সাওয়ারী থামিয়ে নামলেন। তারপর তিনি তাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়ে কুরআন পড়ে শোনালেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল তাকে বললঃ হে ব্যাক্তি! আপনি যা বলছেন যদি তা ঠিক হয়ে থাকে তবে তার চেয়ে উত্তম কথা আর কিছুই নেই। তবে আপনি আমাদের মজলিসসমূহে এসে আমাদের কষ্ট দিয়েন না। যে আপনার কাছে যায়, তাকেই আপনি উপদেশ দিবেন।
তখন আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বললেন না। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাদের মজলিস সমূহে আসবেন। আমরা আপনার এ বক্তব্য পছন্দ করি। তখন মজলিসের মুসলমান, মুশরিক ও ইয়াহুদীরা পরস্পর গালমন্দ করতে লাগল।
এমনকি তাদের মধ্যে হাঙ্গামা হওয়ার উপক্রম হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থামাতে লাগলেন অবশেষে তারা নীরব হল। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সাওয়ারীর উপর সাওয়ার হয়ে রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং সাদ ইবনু উবাদা (রাঃ) এর নিকট পৌছলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সা’দ! আবূ হুবার অর্থাৎআবদুল্লাহ ইবনু উবাই আমাকে যা বলেছেনঃ তা কি তুমি শোননি? সে এমন এমন কথা বলেছে।
তখন সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা আপনার প্রতি কুরবান আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার কথা ছেড়ে দিন। সেই সত্তার কসম! যিনি আপনার উপর কুরআন নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার তরফ থেকে আপনার প্রতি হক এমন সময় নাযিল করেছেন, যখন এই শহরের অধিবাসীরা পরস্পর পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, তারা তাকে রাজ মুকুট পরাবে এবং (রাজকীয়) পাগড়ী তার মাথায় বাঁধবে। কিন্তু যখন আল্লাহ আপনাকে যে সত্য দিয়েছেন তা দিয়ে সেই সিদ্ধান্তকে নস্যাৎ করে দিলেন, তখন সে এতে রাগান্বিত হয়ে পড়েছে। এজন্যই সে আপনার সাথে এ ধরনের আচরণ করেছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করলেন। তারপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন, আর আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তো এমনই মুশরিক ও কিতাবীদের ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের নির্যাতনে ধৈর্য ধারণ করতেন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বানীঃ তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল তোমরা তাদের থেকে নিশ্চয়ই আগের কথা শুনতে পাবে …… শেষ পর্যন্ত। আল্লাহ আরো বলেছেন কিতাবীরা অনেকেই কামনা করে……। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাদের ক্ষমা করতে থাকেন। অবশেষে তাকে তাদের সহিত জিহাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়।
তারপর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর অভিযান চালালেন তখন এর মাধ্যমে আল্লাহ কাফির বীর পুরুষদের এবং কুরাইশদের সরদারদের মধ্যে যারা নিহত হওয়ার তাদের হত্যা করেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগন বিজয় বেশে গনীমত নিয়ে ফিরলেন। তাদের সাথে কাফিরদের অলেক বাহাদুর ও কুরাইশদের অনেক নেতাও বন্দী হয়ে আসে। সে সময় ইবনু উবাই ইবনু সালুল ও তার সঙ্গী মূর্তিপূজক মুশরিকরা বললঃ এ ব্যাপারে অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম তো প্রবল হয়ে পড়ছে। সুতরাং এখন তোমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে ইসলামের বায়আত কর। তারপর তারা সবাই ইসলাম গ্রহণ করল।
