৩৪৭৫। উপরে ইসলামের মর্মার্থের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে এই মূলনীতির উপরে ভিত্তি করে যুগে যুগে প্রত্যাদেশ আল্লাহ্র নিকট থেকে আগত। আল্লাহ্ এক এবং অদ্বিতীয়। সুতারাং স্থান ভেদে এবং সময়ের পরিবর্তনে এক আল্লাহ্র বাণী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাসুলের নিকট প্রেরিত হতে পারে , কিন্তু তার মূলনীতির কোনও পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ্ এক জনই এবং তিনি স্থান, কাল ও পাত্রের উর্দ্ধে। বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়,তা যুগের দাবীর সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে যুগের প্রয়োজনে যুগোপযোগী করা হয়েছে মাত্র।
৩৪৭৬। ধর্মপ্রাণ ইহুদী এবং খৃষ্টানেরা তাদের ধর্মগ্রন্থের বর্ণনা থেকে রসুলকে [ সা ] এবং তাঁর প্রচারিত ধর্মকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলো। সেই প্রেক্ষিতে কোন কোন ইহুদী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমানে রূপান্তরিত হয়। সূরা [ ২৬ : ১৯৭ ] আয়াতে এবং টিকা ৩২২৭ এ এদের বর্ণনা আছে। খৃষ্টানদের মধ্যেও ইসলামের বাণী প্রসার লাভ করতে থাকে। রাসুল [সা ] ৬ষ্ঠ বা ৭ম হিজরীতে আরবের চর্তুদ্দিকে প্রধান প্রধান দেশগুলিতে রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করেনঃ যেমন বাইজানটাইন সাম্রাজ্যে [ কনস্টান্টিনেপ্লস ] , পারস্য সাম্রাজ্যের রাজধানীতে[ মাদাইন] , সাসানিয়ানের [Sasanian] রাজধানীতে, যাকে পশ্চিমা বিশ্ব গ্রীক নাম টেসিফোন [Ctesi phone] নামে চেনে, [ এর অবস্থান বর্তমান বাগদাদের ত্রিশ মাইল দক্ষিণে ] , সিরিয়া , আবেসিনিয়া, এবং মিশর দেশ। পারস্য ব্যতীত অন্য সকল দেশই ছিলো খৃষ্টান ধর্মালম্বী। একই সময়ে আরবের ইয়ামামাতে রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করা হয়; যেখানে খৃষ্টধর্মালম্বী বানু হানিফা গোত্র বসবাস করতো। ইয়ামামার অবস্থান হিজাজের পূর্বে। আবেসিনিয়া ব্যতীত অন্য সমস্ত দেশই শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করে। আবেসিনিয়াতে বর্তমানে বহু মুসলমান বাস করে। সাধারণ ভাবে এ কথা সত্য যে, ৭ম হিজরীতে খৃষ্টান অধ্যুষিত দেশসমূহ সম্পূর্ণরূপে ইসলামের পতাকাতলে আশ্রয় গ্রহণ করে। খৃষ্টানদের মাঝে অল্প কিছু যারা ইসলাম গ্রহণে বিরত থাকে তারা নূতন দেশে তাদের কার্যকলাপ বিস্তৃত করে। রোমান ক্যাথলিক চার্চ উত্তরের [Germanic] প্যাগানদের ধর্মান্তরিত করে। বাইজেনটাইন চার্চ পূর্বের [Slavonic] প্যাগানদের ধর্মান্তরিত করে। ১৬শ শতাব্দীতে প্রোটেস্টান চার্চ খৃষ্টান ধর্মকে নূতন ভাবে সংস্কার করে যার সাথে ইসলামের রীতিনীতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যেমন , পৌরহিত্য প্রথার বিলোপ সাধন, ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব , ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা হ্রাসকরণ, জীবনের প্রাত্যহিক কর্তব্য কর্মকে সহজ রূপে রূপান্তরিত করার উপরে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
৩৪৭৭। আরব প্যাগান বা মুশরেকরা ধীরে ধীরে ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়। কেউ কেউ বলতে আরব মুশরেকদের বোঝানো হয়েছে।
আয়াতঃ 029.048
আপনি তো এর পূর্বে কোন কিতাব পাঠ করেননি এবং স্বীয় দক্ষিণ হস্ত দ্বারা কোন কিতাব লিখেননি। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।
Neither did you (O Muhammad SAW) read any book before it (this Qur’ân), nor did you write any book (whatsoever) with your right hand. In that case, indeed, the followers of falsehood might have doubted.
وَمَا كُنتَ تَتْلُو مِن قَبْلِهِ مِن كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذًا لَّارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ
Wama kunta tatloo min qablihi min kitabin wala takhuttuhu biyameenika ithan lairtaba almubtiloona
YUSUFALI: And thou wast not (able) to recite a Book before this (Book came), nor art thou (able) to transcribe it with thy right hand: In that case, indeed, would the talkers of vanities have doubted.
PICKTHAL: And thou (O Muhammad) wast not a reader of any scripture before it, nor didst thou write it with thy right hand, for then might those have doubted, who follow falsehood.
SHAKIR: And you did not recite before it any book, nor did you transcribe one with your right hand, for then could those who say untrue things have doubted.
KHALIFA: You did not read the previous scriptures, nor did you write them with your hand. In that case, the rejectors would have had reason to harbor doubts.
৪৮। এবং [ এই কিতাবের ] পূর্বে তুমি তো কোন কিতাব পড়তে [ সক্ষম ছিলে না ]। তোমার ডান হাত দ্বারা ইহা নকল করতেও [ সক্ষম ] নও ৩৪৭৮। সেক্ষেত্রেও মিথ্যুক দাম্ভিকেরা [ এতে ] সন্দেহ পোষণ করছে।
৩৪৭৮। নবী করিম ছিলেন অক্ষর জ্ঞানহীন। কোরাণ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে, তিনি কখনও আল্লাহ্র তরফ থেকে প্রত্যাদেশ পাওয়ার দাবী করেন নাই। তিনি কখনও কোনও সত্য প্রচার করেন নাই। এ অভ্যেস তাঁর কোনও দিনও ছিলো না। তিনি লেখাপড়া জানতেন না। সুতারাং নিজ হাতে কিছু লেখার প্রশ্নই আসে না। যদি তিনি লেখাপড়া জানতেন তবে হট্কারী ব্যক্তিরা এ কথা দাবী করতো যে তিনি কোন প্রত্যাদেশ লাভ করেন নাই ; তিনি যা প্রচার করছেন তা কোন বই থেকে সংগ্রহ করা। অথবা তিনি স্বহস্তে কোরাণের সুন্দর আয়াতগুলি রচয়িতা এবং তিনি তা স্মৃতিতে ধরে রেখে প্রচার করে থাকেন। কিন্তু উম্মী নবীর [ সা ] পক্ষে এর কোনটাই সম্ভব নয়। সুতারাং উম্মী নবীর [ সা ] কাছে কোরাণের মত গ্রন্থ অবতীর্ণ হওয়াই হচ্ছে, আল্লাহ্র প্রত্যাদেশের শ্রেষ্ঠ জ্বলন্ত মোজেজা।
