হাদিস নম্বরঃ ৪৭১১ | 4711 | ٤۷۱۱
পরিচ্ছদঃ ২৪৩৭. কোন্ প্রকৃতির মেয়ে শাদী করা উচিত এবং কোন্ ধরনের মেয়ে উত্তম এবং নিজের ঔরসের জন্য কোন্ ধরনের মেয়ে পছন্দ করা মুস্তাহাব।
৪৭১১। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উষ্ট্রারোহী মহিলাদের মধ্যে কুরাইশ বংশীয় মহিলারা সর্বোত্তম। তারা শিশুদের প্রতি স্নেহশীলা এবং স্বামীর মর্যাদা রক্ষার্থে উত্তম হেফাজতকারিণী।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭১২ | 4712 | ٤۷۱۲
পরিচ্ছদঃ ২৪৩৮. দাসী গ্রহণ এবং আপন দাসীকে মুক্ত করে শাদী করা
৪৭১২। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে আপন ক্রীতদাসীকে উত্তম শিক্ষা দান করে এবং শিষ্টচার শিক্ষা দেয়। এরপর তাকে মুক্ত করে শাদী করে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব। ঐ আহলে কিতাব, যে তার নাবীর ওপর ঈমান আনে এবং আমার ওপর ঈমান এনেছে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। আর ঐ গোলাম, যে তার প্রভুর হক আদায় করে এবং আল্লাহরও হক আদায় করে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৩ | 4713 | ٤۷۱۳
পরিচ্ছদঃ ২৪৩৮. দাসী গ্রহণ এবং আপন দাসীকে মুক্ত করে শাদী করা
৪৭১৩। সাঈদ ইবনু তালীদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) তিনবার ব্যতীত কোন মিথ্যা কথা বলেন নি। [১] অত্যাচারী বাদশাহর দেশে তাকে যেতে হয়েছিল এবং তার সাথে ‘সারা’ (রাঃ) ছিলেন। এরপর রাবী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। (সেই বাদশাহ) হাজেরাকে তাঁর সেবার জন্য তাঁকে দান করেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, আল্লাহ কাফের থেকে আমাকে নিরাপত্তা দান করেছেন এবং আমার খেদমতের জন্য আজেরা (হাজেরা) কে দিয়েছেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ‘‘হে আকাশের পানির সন্তানগণ (কুরাইশ)! এ হাজেরাই তোমাদের মা।
[১] প্রকৃতপক্ষে . ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিথ্যা বলেননি’ বরং প্রয়োজনবশত দ্ব্যর্থবোধক বাক্য ব্যবহার করেছিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৪ | 4714 | ٤۷۱٤
পরিচ্ছদঃ ২৪৩৮. দাসী গ্রহণ এবং আপন দাসীকে মুক্ত করে শাদী করা
৪৭১৪। কুতায়বা (রাঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার এবং মদিনার মাঝখানে তিন দিন অবস্থান করলেন এবং হুয়ায়্যার কন্যা সাফীয়ার সাথে রাতে বাসর যাপনের ব্যবস্থা করলেন। আমি মুসলমানদের ওয়ালীমার দাওয়াত দিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দস্তরখানা বিছাবার নির্দেশ দিলেন এবং সেখানে গোশত ও রুটি ছিল না। খেজুর, পনির, মাখন ও ঘি রাখা হল। এটাই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ালীমা। উপস্থিত মুসলমানরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল। তিনি (সাফীয়া) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীদের মধ্যে গণ্য হবেন অথবা ক্রীতদাসীদের মধ্যে গণ্য হবেন। এরপর তাঁরা ধারণা করলেন যে, যদি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফীয়ার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন, তাহলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হিসাবে গণ্য করা হবে। আর যদি পর্দা না করা হয়, তাহলে তাঁর ক্রীতদাসী হিসাবে মনে করা হবে। যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে অন্যত্র যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন, তখন সাফীয়ার জন্য উটের পিছনে জায়গা করলেন এবং তাঁর লোকদের মাঝখানে পর্দার ব্যবস্থা করলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৫ | 4715 | ٤۷۱۵
পরিচ্ছদঃ ২৪৩৯. ক্রীতদাসীকে আযাদ করাকে মোহর হিসাবে গণ্য করা
৪৭১৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফীয়াকে আযাদ করলেন এবং এই আযাদীকে তার শাদীর মোহরানা হিসাবে ধার্য করলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭১৬ | 4716 | ٤۷۱٦
পরিচ্ছদঃ ২৪৪০. দরিদ্র ব্যক্তির শাদী করা বৈধ। যেহেতু আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন, যদি তারা দরিদ্র হয়, আল্লাহ্ তার মেহেরবানীতে সম্পদশালী করে দেবেন।
৪৭১৬। কুতায়বা (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মহিলা রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার জীবনকে আপনার হাতে সমর্পণ করতে এসেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং সতর্ক দৃষ্টিতে তার আপাদমস্তক লক্ষ্য করলেন। তারপর তিনি মাথা নিচু করলেন। যখন মহিলাটি দেখলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে কোন ফয়সালা দিচ্ছে না, তখন সে বসে পড়ল। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে একজন দাঁড়ালেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনার শাদীর কোন প্রয়োজন না থাকে, তবে আমার সাথে একে শাদী দিয়ে দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কি আছে? সে উত্তর করলো- না, আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কাছে কিছুই নেই। রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখ। কিছু পাও কিনা।
