হাদীস নং ৪৬৩৫
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….আলকামা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হিমস শহরে ছিলাম। এ সময় ইবনে মাসউদ রা. সূরা ইউসুফ তিলাওয়াত করলেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, এ সূরা এ ভাবে নাযিল হয়নি। এ কথা শুনে ইবনে মাসউদ রা. বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এ সূরা তিলাওয়াত করেছি। তিনি বলেছেন, তুমি সুন্দরভাবে পাঠ করেছ। এ সময় তিনি ঐ লোকটির মুখ থেকে মদের গন্ধ পেলেন। তাই তিনি তাকে বললেন, তুমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা এবং মদ পান করার মত জঘন্যতম অপরাধ এক সাথে করছ? এরপর তিনি তার উপর হদ জারি করলেন।
হাদীস নং ৪৬৩৬
উমর ইবনে হাফস রহ………..মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ রা. বলেন, আল্লাহর কসম ! যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহর কিতাবের অবতীর্ণ প্রতিটি সূরা সম্পর্কে আমি জানি যে, তা কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রতিটি আয়াত সম্পর্কে আমি জানি যে, তা কর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি যদি জানতাম যে, কোন ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চাইতে অধিক জ্ঞাত এবং সেখানে উট গিয়ে পৌঁছতে পারে, তাহলে সাওয়ার হয়ে আমি সেখানে গিয়ে পৌঁছতাম।
হাদীস নং ৪৬৩৭
হাফস ইবনে উমর রহ………কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় কে কে কুরআন সংগ্রহ করেছেন? তিনি বললেন, চারজন এবং তাঁরা চারজনই ছিলেন আনসারী সাহাবী। তাঁরা হলেন: উবায় ইবনে কাব রা., মুআয ইবনে জাবাল রা., যায়েদ ইবনে সাবিত রা. এবং আবু যায়েদ রা.। (অন্য সনদে) ফাদল রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করছেন।
হাদীস নং ৪৬৩৮
মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন। তখন চার ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ কুরআন সংগ্রহ করেননি। তাঁরা হলেন আবুদ দারদা রা., মুআয ইবনে জাবাল রা., যায়েদ ইবনে সাবিত রা. এবং আবু যায়েদ রা.। আনাস রা. বলেন, আমরা আবু যায়েদ রা.-এর উত্তরসুরি।
হাদীস নং ৪৬৩৯
সাদাকা ইবনে ফাদল রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. বলেছেন, আলী রা. আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম বিচারক এবং উবায় রা. আমাদের মাঝে সর্বোত্তম কারী। এতদসত্ত্বেও তিনি যা তিলাওয়াত করেছেন, আমরা তার কতিপয় অংশ বর্জন করছি, অথচ তিনি বলছেন, আমি তা আল্লাহর রাসূলের যবান মুবারক থেকে শুনেছি, কোন কিছুর বিনিময়ে আমি তা বর্জন করব না। আল্লাহ বলেছেন, “আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত হতে দিলে তা হতে উত্তম কিংবা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনয়ন করি”।
হাদীস নং ৪৬৪০ – সূরা ফাতিহার ফযীলত
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ ইবনে মুআল্লা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সালাতরত ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন; কিন্তু আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম না। পরে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি সালাতরত ছিলাম তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালা কি বলেননি, “হে মুমিনগণ, আল্লাহ ও রাসূল যখন তোমাদের কে আহবান করেন তখন আল্লাহ ও রাসূলের আহবানে সাড়া দাও”। (৮: ২৪) তারপর তিনি বললেন, তোমার মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমি কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা শিক্ষা দেব না? তখন তিনি আমার হাত ধরলেন। যখন আমরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি তো বলেছেন মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরার কথা বলবেন। তিনি বললেন, তা হল: “আল হামদুলিল্লাহ রাব্বিল আলামীন”। এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (সাবআ মাছানী) এবং কুরান আজীম যা আমাকে দেয়া হয়েছে।
হাদীস নং ৪৬৪১
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সফরে চলছিলাম। (পথিমধ্যে) অবতরণ করলাম। তখন একটি বালিকা এসে বলল, এখানকার গোত্রপ্রধানকে সাপে কেটেছে। আমাদের পুরুষগণ অনুপস্থিত। অতএব, আপনাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি ঝাড়-ফুঁক করতে পারেন? তখন আমাদের মধ্য থেকে একজন ঐ বালিকাটির সঙ্গে গেলেন। যদি আমরা ভাবিনি যে সে ঝাড়-ফুঁক জানে। এরপর সে ঝাড়-ফুঁক করল এবং গোত্রপ্রধান সুস্থ হয়ে উঠল। এতে সর্দার খুশী হয়ে তাকে ত্রিশটি বকরী দান করলেন এবং আমাদের সকলকে দুধ পান করালেন। ফিরে আসার পথে আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি ভালভাবে ঝাড়-ফুঁক করতে জান (অথবা বারীর সন্দেহ) তুমি কি ঝাড়-ফুঁক করতে পার? সে উত্তর করল, না, আমি তো কেবল উম্মুল কিতাব –সূরা ফাতিহা দিয়েই ঝাড়-ফুঁক করেছি। আমরা তখন বললাম, যতক্ষণ না আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কাছে পৌঁছে তাকে জিজ্ঞাসা করি ততক্ষণ কেউ কিছু বলবে না। এরপর আমরা মদীনায় পৌঁছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ঘটনাটি তুলে ধরলাম। তিনি বললেন, সে কেমন করে জানল যে, তা (সূরা ফাতিহা) চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পাবে ? তোমরা নিজেদের মধ্যে এগুলো বণ্টন করে নাও এবং আমার জন্যও একাংশ রেখ। আবু মামার……..আবু সাঈদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
