হাদিস নম্বরঃ ৪৫৮০ | 4580 | ٤۵۸۰
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ وما خلق الذكر والأنثى “এবং শপথ তার যিনি নর নারী সৃষ্টি করেছেন” (৯৩ঃ ২)
৪৫৮০. উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … ইবরাহিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর কিছু সাথী আবূ দারদা (রাঃ) এর কাছে আসলেন। তিনিও তাদের খোঁজ করে পেয়ে গেলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর কিরাআত অনুযায়ী কে কুর’আন তিলাওয়াত করতে পারে? তারা বললেন, আমরা সবাই। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হাফিয কে? সকলেই আলকামার দিকে ইঙ্গিত করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى কিভাবে পড়তে শুনেছেন? আলকামা (রাঃ) বললেন, আমি তাকে وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى পড়তে শুনেছি। এ কথা শুনে আবূ দারদা বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুরূপ তিলাওয়াত করতে শুনেছি। কিন্তু এসব (সিরিয়াবাসীরা) চায় আমি যেন তিলাওয়াত করি এভাবে- وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالأُنْثَى। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি তাদের কথা মানব না।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৮১ | 4581 | ٤۵۸۱
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ فأما من أعطى واتقى “সুতরাং কেউ দান করলে এবং মুত্তাকী হলে” (৯২ঃ ৫)
৪৫৮১। আবূ নু’আইম (রহঃ) … আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাকীউল গারকাদ নামক স্থানে এক জানাজায় আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। সেসময় তিনি বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। একথা শুনে সবাই বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা নিয়তির উপর নির্ভর করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা আমল করতে থাক। কেননা যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমল সহজ করা হয়েছে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ”।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৮২ | 4582 | ٤۵۸۲
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ وصدق بلحسنى “এবং যা উত্তম তা গ্রহন করলে” (৯২ঃ ৬)
৪৫৮২। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসে ছিলাম। তারপর তিনি উপরোক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৮৩ | 4583 | ٤۵۸۳
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ فسنيسره لليسرى “আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ” (৯২ঃ ৭)
৪৫৮৩। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) … আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কোন একটি জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর তিনি একটি কাঠি হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খোঁচাতে খোঁচাতে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। একথা শুনে সবাই বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা নিয়তির উপর নির্ভর করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা আমল করতে থাক। কেননা যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ”
শুবা (রহঃ) বলেন, উপরোক্ত হাদিস আমার কাছে মানসুর বর্ণনা করেছেন। তাকে আমি সুলায়মানের হাদিসের ব্যতিক্রম মনে করিনি।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৮৪ | 4584 | ٤۵۸٤
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ وأما من بخل واستغنى “এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজকে স্বয়ং সম্পূর্ণ মনে করলে” (৯২ঃ ৮)
৪৫৮৪। ইয়াহইয়া (রহঃ) … আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসে ছিলাম। এসময় তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। একথা শুনে আমরা সবাই বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা তাকদিরের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? তিনি বললেন, না, তোমরা আমল করতে থাক। কেননা যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ”।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৮৫ | 4585 | ٤۵۸۵
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ وكذب بالحسنى “এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে” (৯২ঃ ৯)
৪৫৮৫। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাকীউল গারকাদ নামক স্থানে এক জানাজায় আমরা অংশ নিয়েছিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বসলেন। আমরাও তাঁর চারপাশে গিয়ে বসলাম। এসময় তাঁর হাতে একটি কাঠি ছিল। তিনি তাঁর মাথা নিচু করে সেটি দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করলেন। এরপর বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি, কিংবা তাকে ভাগ্যবান বা হতভাগ্য লিখা হয়নি। একথা শুনে জনৈক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা আমল করা বাদ দিয়ে ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? আমাদের মধ্যে যে সৌভাগ্যবান সে তো সৌভাগ্যবান লোকদের মাঝেই শামিল হয়ে যাবে, আর আমাদের মধ্যে যে হতভাগা, সে তো হতভাগা লোকদের আমলের দিকেই এগিয়ে যাবে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সৌভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য সৌভাগ্য লাভ করার মত আমল সহজ করে দেয়া হবে। এবং দুর্ভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য দুর্ভাগ্য লাভ করার মত আমল সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে।
