৪৫৭৩। আদম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, কুর’আনের হাফেজ পাঠক লিপিকর সম্মানিত ফেরেশতার মত। অতি কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যাক্তি বারবার কুর’আন তিলাওয়াত করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৭৪ | 4574 | ٤۵۷٤
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা তাকবীর
انْكَدَرَتْ অর্থ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। হাসান (রহ.) বলেন, سُجِّرَتْ অর্থ পানি নিঃশেষ হয়ে যাবে, এক বিন্দু পানিও বাকী থাকবে না। মুহাজিদ (রহ.) বলেন, الْمَسْجُوْرُ অর্থ কানায় কানায় ভর্তি। মুজাহিদ ব্যতীত অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, سُجِرَتْ অর্থ একটি সমুদ্র আরেকটির সঙ্গে মিলিত হয়ে এক সমুদ্রে পরিণত হবে। وَالْخُنَّسُ অর্থ নিজের গতিপথে পশ্চাদপসরণকারী।تَكْنِسُ মানে সূর্যের আলোতে অদৃশ্য হয়ে যায়, যেমন হরিণ গা ঢাকা দেয়। تَنَفَّسَ অর্থ যখন দিনের আলো উদ্ভাসিত হয়। الظَّنِيْنُ অপবাদ দানকারী। الضَّنِيْنُ অর্থ বখিল, কৃপণ। ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, وَإِذَا النُّفُوْسُ زُوِّجَتْ অর্থ প্রত্যেককে তার মত চরিত্রের লোকের সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামে জুড়ে দেয়া হবে। পরে এ কথার সমর্থনে তিনি احْشُرُواالَّذِيْنَ ظَلَمُوْا وَأَزْوَاجَهُمْ عَسْعَسَ (একত্র করে যালিম ও তাদের সহচরগণকে) আয়াতংশটি পাঠ করলেন। عَسْعَسَ অর্থ অবসান হয়েছে, পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে।
সুরা ইনফিতার
রাবী ইবনু খুশাইম (রহঃ) বলেন, فُجِّرَتْ অর্থ-প্রবাহিত হবে, আ‘মাশ এবং ওয়াসিম (রহঃ) فَعَدَلَكَ তাখফীফ-এর সঙ্গে পড়তেন এবং হিজাযের অধিবাসী فَعَدَّلَكَ তাশদীদ-এর সঙ্গে পড়তেন। অর্থ তিনি তোমাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ সৃষ্টি করেছেন। যারা فَعَدَلَكَ তাখফীফ-এর সঙ্গে পড়তেন, তারা বলেন, এর অর্থ হল, তিনি তোমাকে সুন্দর বা কুৎসিৎ; লম্বা খাটো যে আকারে ইচ্ছে, সৃষ্টি করেছেন।
সুরা মুতাফ্ফিফীন
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, بَلْرَانَ অর্থ গুনাহের জন্য। ثُوِّبَ অর্থ প্রতিদান দেয়া হল। মুজাহিদ ছাড়া অপরাপর মুসাসসির বলেছেন, الْمُطَفِّفُ ঐ লোক যে অন্যকে মাপে পুরো দেয় না।
৪৫৭৪। ইবরাহিম ইবনু মুনযির (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ “যেদিন সকল মানুষ বিশ্বজগতের রবের সামনে দাঁড়াবে” (৮৩ঃ ৬) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, সেদিন প্রত্যেকের কানের লতি পর্যন্ত ঘামে ডুবে যাবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৭৫ | 4575 | ٤۵۷۵
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা ইন্শিকাক
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, كِتَابَهُ بِشِمَالِهٰ অর্থাৎ সে পেছন দিক হতে নিজের ‘আমালনামা গ্রহণ করবে। وَسَقَ অর্থ সে যেসব জীবজন্তুর সমাবেশ ঘটায়। ظَنَّ أَنْ لَّنْ يَّحُوْرَ অর্থ সে মনে করত যে, সে কখনই আমার কাছে ফিরে আসবে না।
৪৫৭৫। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) ও মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন যে ব্যাক্তিরই হিসাব নেয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আল্লাহ কি বলেননিঃ “যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব নিকাশ সহজ হবে” (৮৪ঃ ৭-৮)। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখানে তো কেবল আমলনামা কিভাবে দেয়া হবে তার উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যথায় যার চুলচেরা হিসাব নেয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৭৬ | 4576 | ٤۵۷٦
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ لتركبن طبقا عن طبق “নিশ্চয়ই তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করবে” (৮৪ঃ ১৯)
৪৫৭৬। সাঈদ ইবনু নাযর (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍ এর মর্মার্থ হচ্ছে, এক অবস্থার পর আরেক অবস্থা হওয়া। তোমাদের নাবী-ই এ অর্থ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৭৭ | 4577 | ٤۵۷۷
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা বুরুজ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, الْأُخْدُوْدِ মাটিতে ফাটল। فَتَنُوْا তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।
সুরা তারিক
মুজাহিদ বলেন, ذَاتِ الرَّجْعِ অর্থ ঐ মেঘ যা বৃষ্টি নিয়ে আসে। ذَاتِ الصَّدْعِ অর্থ ঐ যমীন যা উদ্ভিদ বের হওয়ার সময় বিদীর্ণ হয়ে যায়।
৪৫৭৭। আবদান (রহঃ) … বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে প্রথম যারা হিজরত করে আমাদের কাছে এসেছিলেন, তাঁরা হলেন মুসআব ইবনু উমাইর (রাঃ) ও ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ)। তাঁরা দুজন এসেই আমাদেরকে কুর’আন পড়াতে শুরু করেন। এরপর এলেন আম্মার, বিলাল ও সা’দ (রাঃ)। এরপর এলেন বিশজন সাহাবীসহ উমার ইবনু খত্তাব (রাঃ)। এরপর এলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনে মদিনাবাসীকে এত বেশি আনন্দিত হতে দেখেছি যে, অন্য কোন বিষয়ে তাদেরকে ততটা আনন্দিত হতে আর কখনো দেখিনি। এমনকি আমি দেখেছি, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত বলছিল যে, ইনই তো আল্লাহর সেই রাসূল, যিনি আমাদের মাঝে এসেছেন। বারা ইবনু আযিব (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার আগেই আমি سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى (সূরা আ’লা) অনুরূপ আরও কিছু সূরা শিখে নিয়েছিলাম।
