হাদিস নম্বরঃ ৪৫৬৫ | 4565 | ٤۵٦۵
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা দাহর
هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ অর্থাৎ কালের প্রবাহে মানুষের উপর এক সময় এসেছিল। هَلْ শব্দটি কখনো নেতিবাচক, আবার কখনো ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে অবহিতকরণ তথা ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন, এক সময় মানুষের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোন বস্তু ছিল না। আর ঐ সময়টা হল মাটি থেকে সৃষ্টি করা হতে তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা পর্যন্ত। أَمْشَاجٍ সংমিশ্রণ। অর্থাৎ মাতৃগর্ভে পুরুষ ও মহিলার বীর্যের সংমিশ্রণে রক্ত এবং পরে জমাট বাঁধা রক্ত সৃষ্টি হওয়াকে أَمْشَاجٍ বলা হয়েছে। এক বস্তুর অপর বস্তুর সঙ্গে মিশ্রিত হলে তাকে مَشِيْجٌ বলে। তাকে خَلِيْطٌ ও বলা হয়। আর مَمْشُوْجٌ ও مَخْلُوْطٍ এর অর্থ একই। কেউ কেউ سَلَاسِلًا وَأَغْلَالًا পড়ে থাকেন। কিন্তু কেউ কেউ এভাবে পড়াকে জায়িয মনে করেন না। مُسْتَطِيْرًا দীর্ঘস্থায়ী বিপদ। الْقَمْطَرِيْرُ ভয়ংকর ও কঠিন। সুতরাং يَوْمٌ قَمْطَرِيْرٌ এবং يَوْمٌ قُمَاطِرٌ উভয়ই ব্যবহৃত হয়। الْعَبُوْسُ، الْقَمْطَرِيْرُ، الْقُمَاطِرُ، এবং الْعَصِيْبُ বিপদের সবচেয়ে কঠিনতম দিনকে বলা হয়। হাসান (রহ.) বলেন, النُّضْرَةُ চেহারায় সজীবতা ও হৃদয়ে আনন্দ। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, الْأَرَآئِكِ খাট-পালঙ্ক। আর বারা (রাঃ) বলেন, وَذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا তাদের ইচ্ছেমাফিক ফল পাড়বে। মা‘মার (রহঃ) বলেন, أَسْرَهُمْ সুদৃঢ় গঠন। উটের গদির সঙ্গে শক্ত করে যে জিনিস বাঁধা থাকে তাকে مَأْسُوْرٌ বলা হয়।
সুরা মুরসালাত
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, جِمَالَاتٌ উটের সারি। ارْكَعُوْا সালাত আদায় কর। لَا يَرْكَعُوْنَ তারা সালাত আদায় করে না। لَايَنْطِقُوْنَ (তার কথা বলতে সক্ষম হবে না), وَاللهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِيْنَ (আল্লাহর শপথ! আমরা কখনো মুশরিক ছিলাম না) এবং الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٓٓى أَفْوَاهِهِمْ (আমি আজ মোহর লাগিয়ে দেব) এ আয়াত সম্বন্ধে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন, ক্বিয়ামাতের দিন বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের বিভিন্ন অবস্থা ঘটবে। কখনো সে কথা বলতে পারবে এবং নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, আবার কখনো তার মুখে মোহর লাগিয়ে দেয়া হবে। তখন সে আর কোন কথা বলতে সক্ষম হবে না।
৪৫৬৫। মাহমুদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এসময় তাঁর প্রতি সূরা মুরসালাত নাযিল হল। আমরা তাঁর মুখে শুনে সেটি শিখছিলাম। তখন একটি সাপ বেরিয়ে এল। আমরা ওদিকে দৌড়ে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের থেকে দ্রুত পালিয়েগিয়ে গর্তে ঢুকে পড়ল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যেমন তার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেলে, তেমনি সেও তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৬৬ | 4566 | ٤۵٦٦
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৪৫৬৬। আবদা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। ইসরাইল সুত্রে আসওয়াদ ইবনু আমির পূর্বের হাদিসটির অনুসরন করেছেন। (অন্য সনদে) হাফস, আবূ মুআবিয়া এবং সুলায়মান ইবনু কারম (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (অপর এক সনদে) ইবনু ইসহাক (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে ঠিক এমনি বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৬৭ | 4567 | ٤۵٦۷
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৪৫৬৭। কুতায়বা (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক গুহার মধ্যে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এসময় তাঁর প্রতি সূরা মুরসালাত নাযিল হল। আমরা যত জলদি সম্ভব তাঁর মুখ থেকে শুনে সেটি শিখছিলাম। হঠাৎ একটি সাপ বেরিয়ে এলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ওটাকে মেরে ফেল। আমরা সেদিকে ছুটে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের আগে চলে গেল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যেমন তার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেলে, তেমনি সেও তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৬৮ | 4568 | ٤۵٦۸
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ إنها ترمي بشرر كالقصر “তা উৎক্ষেপ করবে বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ অট্রালিকা তুল্য।” (৭৭ঃ ৩২)
৪৫৬৮। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- আমি ঐ আয়াতের (“নিশ্চয়ই তা উৎক্ষেপ করবে বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ অট্টালিকার মত”-সূরা মুরসালাত আয়াত ৩২) ব্যাখ্যায় ইবনু আমির (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা তিন গজ বা এর চেয়ে ছোট কাঠের কাণ্ড সংগ্রহ করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রেখে দিতাম। আর আমরা একেই قصر বলতাম।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৬৯ | 4569 | ٤۵٦۹
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ كأنه جمالات صفر “তা পীতবর্ণ উষ্ট্রশ্রেনী সদৃশ” (৭৭ঃ ৩৩)
৪৫৬৯। আমর ইবনু আলী (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন আমি আয়াতের (সূরা মুরসালাত, আয়াত ৩২) ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা তিন গজ বা এর চেয়ে লম্বা কাঠ সংগ্রহ করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রেখে দিতাম। আর আমরা একেই قصر বলতাম। جِمَالاَتٌ صُفْرٌ অর্থ জাহাজের রশি, যা জমা করে রাখা হত। এমনকি তা মধ্যম দেহী মানুষের সমান উঁচু হয়ে যেত।
