হাদিস নম্বরঃ ৪৫১৭ | 4517 | ٤۵۱۷
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা হাদীদ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, جَعَلَكُمْ مُّسْتَخْلَفِيْنَ আমি তোমাদেরকে তাতে আবাদকারী বানিয়েছি। مِنْ الظُّلُمٰتِ إِلَى النُّوْرِ ভ্রান্তি থেকে হিদায়াতের দিকে। وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ ঢাল ও অস্ত্রশস্ত্র। مَوْلَاكُمْ তিনিই তোমাদের জন্য যোগ্য। لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ যাতে কিতাবী লোকেরা জানতে পারে। বলা হয়, বস্তুর বাহ্যিক বিষয়ের উপরও عِلْمٍ ব্যবহৃত হয়। এমনিভাবে বস্তুর অভ্যন্তরীণ বিষয়ের উপরও عِلْم ব্যবহৃত হয়। أَنْظِرُوْنَا তোমরা আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা কর।
সুরা মুজাদালা
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, يُحَادُّوْنَ তারা (আল্লাহর) বিরোধিতা করছে। كُبِتُوْا তাদেরকে অপদস্থ করা হবে। الْخِزْيِ ধাতু হতে উক্ত শব্দটির উৎপত্তি। اسْتَحْوَذَ সে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।
সুরা হাশর
الْجَلَاءَ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নির্বাসিত করা।
৪৫১৭। মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহীম (রহঃ) … সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে সূরা তাওবা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটি তো লাঞ্ছনাকারী সূরা। وَمِنْهُمْ وَمِنْهُمْ অর্থাৎ “তাদের একদল এই করছে, আরেক দল ঐ করছে”, এই বলে একাধারে এ সূরা নাযিল হতে থাকলে লোকজন ধারণা করতে লাগলো যে, তাদের মধ্যে এমন কেউ আর বাকী থাকবেনা, যাকে এই সূরায় উল্লেখ করা হবে না। বর্ণনাকারী বলেন- আমি তাঁকে সূরা আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এই সূরাটি বদর যুদ্ধের সময় নাযিল হয়েছে। আমি তাঁকে সূরা হাশর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এই সূরাটি বনী নাযীর সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫১৮ | 4518 | ٤۵۱۸
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৪৫১৮। হাসান ইবনু মুদরিক (রহঃ) … সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে ‘সূরা হাশর’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটিকে ‘সূরা বনী নাযীর’ বল।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫১৯ | 4519 | ٤۵۱۹
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ما قطعتم من لينة أو تركتموها قائمة على أصولها فبإذن الله وليخزي الفاسقين “তোমরা যে খেজুর বৃক্ষগুলো কর্তন করেছ বা যেগুলোর কান্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এ তো এ জন্য যে, আল্লাহ্ পাপাচারিদের লাঞ্ছিত করবেন” (৫৯ঃ৫) لينة এবং برنية ব্যতীত সকল খেজুরকেই لينة বলা হয়।
৪৫১৯। কুতায়বা (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী নাযীর গোত্রের খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কেটে ফেলেছিলেন, যা ‘বুওয়াইরা’ নমক স্থানে (মদিনার নিকটে) ছিল। এরপর আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেনঃ “তোমরা যে খেজুর গাছ কেটেছ বা যেগুলোকে কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিতে, যাতে আল্লাহ পাপীদের লাঞ্ছিত করবেন” (সূরা ৫৯, আয়াত ০৫)।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫২০ | 4520 | ٤۵۲۰
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ ما أفاء الله على رسوله “আল্লাহ্ এই জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসুল (সাঃ) কে যা কিছু দিয়েছে” (৫৯ঃ ৭)
৪৫২০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- বনী নাযীরের বিষয়-সম্পত্তি ঐ সকল বস্তুর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ‘ফাই’ হিসেবে দিয়েছেন, এ জন্য যে মুসলিমরা ঘোড়ায় বা উটে চড়ে যুদ্ধ করেনি। সুতরাং এটি খাস ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য। এর মধ্য থেকে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের খরচ দান করতেন। এরপর বাকিটা তিনি অস্ত্রশস্ত্র এবং ঘোড়া সংগ্রহের কাজে ব্যয় করতেন আল্লাহর পথে জিহাদের প্রস্তুতি হিসেবে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৫২১ | 4521 | ٤۵۲۱
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ ما آتاكم الرسول فخذوه “রাসুল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহন কর (এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক)” (৫৯ঃ ৭)
৪৫২১। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ লা’নত করেছেন ঐ সকল নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকন করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকন করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রূ উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। এরা আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি ঘটিয়েছে। এরপর বনী আসাদ গোত্রের উম্মে ইয়াকুব নামে এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে সে এসে বলল, আমি জানতে পারলাম, আপনি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি লানত করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি লা’নত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে যার প্রতি লানত করা হয়েছে, আমি তার প্রতি লা’নত করব না কেন? তখন মহিলা বলল, আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি।
আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, যদি তুমি কুর’আন পড়তে অবশ্যই তা পেতে, তুমি কি পড়নি? “রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক”। (সূরা ৫৯, আয়াত ০৭) মহিলা বলল, হ্যাঁ নিশ্চয়ই পড়েছি। আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজে নিষেধ করেছেন। তখন মহিলা বলল, আমার মনে হয় আপনার পরিবারও এ কাজ করে। তিনি বললেন, তুমি যাও এবং ভালোভাবে দেখে এসো। এরপর মহিলা গেল এবং ভালোভাবে দেখে এলো। কিন্তু তার প্রয়োজনীয় কিছুই দেখতে পেলো না। তখন আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমার স্ত্রী যদি এমন করত, তবে সে আমার সাথে একত্রে থাকতে পারত না।
