হাদিস নম্বরঃ ৪৪৮৬ | 4486 | ٤٤۸٦
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ وتقول هل من مزيد “এবং জাহান্নাম বলবে আরো আছে কি?”
৪৪৮৬। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হয়। জাহান্নাম বলে দাম্ভিক ও পরাক্রমশালীদের দ্বারা আমাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। জান্নাত বলে, আমার কি হল? আমাতে কেবল মাত্র দুর্বল এবং নিরীহ লোকেরাই প্রবেশ করছে। তখন আল্লাহ্ তা’আলা জান্নাতকে বলবেন, তুমি আমার রহমত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা আমি অনুগ্রহ করব। আর তিনি জাহান্নামকে বলবেন, তুমি হলে আযাব। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেব। জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে পরিপূর্ণতা। তবে জাহান্নাম পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তিনি তাঁর কদম মুবারক তাতে রাখবেন। তখন সে বলবে, বস, বস, বস। তখন জাহান্নাম ভরে যাবে এবং এর এক অংশ অপর অংশের সাথে মুড়িয়ে দেয়া হবে। আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টির কারো প্রতি জুলুম করবেন না। অবশ্য আল্লাহ্ তা’আলা জান্নাতের জন্য অন্য মাখলুক পয়দা করবেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৪৮৭ | 4487 | ٤٤۸۷
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل الغروب “এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা-পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে” (৫০ঃ ৩৯)
৪৪৮৭। ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) … জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন তিনি চৌদ্দ তারিখের রজনীর চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা যেমন এ চাঁদটি দেখতে পাচ্ছ, অনুরূপভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে এবং তাঁকে দেখার ব্যাপারে (তোমরা একে অন্যের কারণে) বাধাপ্রাপ্ত হবে না। তাই তোমাদের সামর্থ্য থাকলে সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের সালাত (নামায/নামাজ)-এর ব্যাপারে প্রভাবিত হবে না। তারপর তিনি পাঠ করলেন, “আপনার রবের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।” (৫০ঃ ৩৯)
হাদিস নম্বরঃ ৪৪৮৮ | 4488 | ٤٤۸۸
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل الغروب “এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা-পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে” (৫০ঃ ৩৯)
৪৪৮৮। আদম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর তাঁর পবিত্রতা বর্ণনার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ وَأَدْبَارَ السُّجُودِ এর দ্বারা তিনি এ অর্থ করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৪৮৯ | 4489 | ٤٤۸۹
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা যারিয়াত
‘আলী (রাঃ) বলেছেন, الرِّيَاحُ বায়ুরাশি। অন্যদের হতে বর্ণিত। تَذْرُوْهُ মানে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। وَفِيْٓ أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُوْنَ তোমাদের মধ্যেও নিদর্শন রয়েছে, (‘‘তোমরা কি অনুধাবন করবে না?) অর্থাৎ তোমরা খানাপিনা কর এক পথে এবং তা বের হয় দু’পথ দিয়ে। فَرَاغَ মানে সে ফিরে এল। فَصَكَّتْ সে মুষ্টি বন্ধ করে নিজ কপালে মারল। الرَّمِيْمُ যমীনের উদ্ভিদ যখন শুকায় এবং তা মাড়াই করা হয়। لَمُوْسِعُوْنَ অবশ্য সম্প্রসারণকারী। এমনিভাবে عَلَى الْمُوْسِعِ قَدَرَهُ অর্থাৎ সামর্থ্যবান। زَوْجَيْنِ নারী-পুরুষ, আলাদা আলাদা বর্ণের এবং মিষ্টি ও টক উভয়কেই زَوْجَانِ বলা হয়। فَفِرُّوْآ إِلَى اللهِ আল্লাহর নাফরমানী ত্যাগ করে তোমরা আল্লাহর আনুগত্যের পানে এসো। إِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ মানুষ ও জিন উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা ভাগ্যবান, তাদেরই আমার তাওহীদের উপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্য সৃষ্টি করেছি। কোন কোন মুফাসসির বলেছেন, এর অর্থ হচ্ছে, তাদের সকলকেই আল্লাহর বন্দেগীর জন্য সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু কেউ তা করেছে আর কেউ তা ত্যাগ করেছে। এ আয়াতে মুতাযিলাদের জন্য তাদের পক্ষে কোন প্রমাণ নেই। الذَّنُوْبُ বড় বালতি। মুজাহিদ বলেন, صَرَّةٍ চীৎকার। ذُنُوْبًا রাস্তা। الْعَقِيْمُ যে নারী সন্তান জন্ম দেয় না। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, الْحُبُكُ আকাশের সুবিন্যস্ততা ও তার সৌন্দর্য। فِيْغَمْرَةٍ নিজেদের ভুলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অন্য হতে বর্ণিত যে, تَوَاصَوْا একে অপরের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে আরও বলেছেন, مُسَوَّمَةً চিহ্নিত। مُسَوَّمَةً শব্দটি السِيِّمًا থেকে উদ্ভূত। قُتِلَ الْإِنْسَانُ অভিশপ্ত।
সুরা তূর
ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, مَسْطُوْرٍ লিখিত। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, সুরয়ানী ভাষায় পর্বতকে طُّوْرُ বলা হয়। رَقٍّمَّنْشُوْرٍ (উন্মুক্ত) সহীফা। السَّقْفِ الْمَرْفُوْعِ (সমুন্নত) আকাশ। الْمَسْجُوْرِ জ্বলন্ত। হাসান (রহ.) বলেন, (সমুদ্র) জ্বলে উঠবে। ফলে সমস্ত পানি ফুরিয়ে যাবে এবং এক ফোঁটা পানি থাকবে না। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, أَلَتْنَاهُمْ আমি হ্রাস করেছি। অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, تَمُوْرُ আন্দোলিত হবে। أَحْلَامُهُمْ বুদ্ধি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْبَرُّ দয়ালু। كِسْفًا খন্ড, الْمَنُوْنُ মৃত্যু। অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, يَتَنَازَعُوْنَ তারা আদান-প্রদান করবে।
