এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন তো ইয়াজুজ মাজুজ থেকে নেওয়া হবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন। আবার মানবকুলের মধ্যে তোমাদের তুলনা হবে যেমন, সাদা গরুর পার্শ্ব মধ্যে যেন একটি কালো পশম অথবা কালো গরুর পার্শ্ব মধ্যে যেন একটি সাদা পশম। আমি অবশ্য আশা রাখি যে জান্নাতবাসীদের মধ্যে তোমরাই হবে এক চতুর্থাংশ। (রাবি বলেন) আমরা সবাই খুশিতে বলে উঠলাম, আল্লাহু আকবর। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ। আমরা বলে উঠলাম, আল্লাহু আকবর। তারপর তিনি বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের অর্ধেক। আমরা বলে উঠলাম, আল্লাহু আকবর। আ’মাশ থেকে উসামার বর্ণনায় রয়েছে تَرَى النَّاسَ سُكَارٰى وَمَا هُمْ بِسُكَارٰى এবং তিনি (সন্দেহাতীতভাবে) বলেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন। জারীর, ঈসা, ইবনু ইউনুস ও আবূ মুয়াবিয়ার বর্ণনায় سُكَرٰى এবং وَمَا هُمْ بِسُكَارٰى রয়েছে।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৮৩ | 4383 | ٤۳۸۳
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ومن الناس من يعبد الله على حرف “মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে দ্বিধার সাথে”। حرف অর্থ দ্বিধা। فإن أصابه خير اطمأن به وإن أصابته فتنة انقلب على وجهه خسر الدنيا والآخرة إلى قوله ذلك هو الضلال البعيد “যখন তার কল্যাণ হয় তখন তার চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং যখন কোন বিপর্যয় ঘটে তখন সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুনিয়া ও আখিরাতে”……………… এ হল চরম বিভ্রান্তি বাক্য পর্যন্ত। أترفناهم অর্থ আমি তাদের প্রশস্ততা দান করলাম।
৪৩৮৩। ইব্রাহিম ইবনু হারিস (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ সম্পর্কে বলেন, কোন ব্যাক্তি মদিনায় আসার পর যদি তার স্ত্রী পুত্র-সন্তান প্রসব করত এবং তার ঘোড়ায় বাচ্চা দিত , তখন বলত এ দ্বীন ভাল। আর যদি তার স্ত্রী গর্ভে পুত্র সন্তান না হত এবং তার ঘোড়াও বাচ্চা না দিত, তখন বলত এ ধর্ম খারাপ।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৮৪ | 4384 | ٤۳۸٤
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ هذان خصمان اختصموا في ربهم “এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালকের ব্যপারে বিতর্ক করছে”।
৪৩৮৪। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এ আয়াত সম্পর্কে কসম খেয়ে বলেন, এ আয়াত هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ (এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালকের ব্যপারে বিতর্ক করছে)। হামযা এবং তার দুই সঙ্গী, এবং উতবা ও তার দুই সঙ্গীর ব্যপারে, নাযিল হয়েছে, যেদিন তারা বদরের যুদ্ধে প্রতিপক্ষের সাথে মোকাবেলা করেছিল। সুফিয়ান আবূ হাশিম সূত্রে এবং উসমান …… এ বক্তব্যটি আবূ মিজলাযের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৮৫ | 4385 | ٤۳۸۵
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ هذان خصمان اختصموا في ربهم “এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালকের ব্যপারে বিতর্ক করছে”।
৪৩৮৫। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) … আলি ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমিই সর্বপ্রথম কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে নতজানু হয়ে নালিশ নিয়ে দাঁড়াব। কায়েস বলেন, এ ব্যপারেই هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, এরাই বদরের যুদ্ধে সর্বপ্রথম প্রতিপক্ষের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। অর্থাৎ আলী, হামযা ও উবায়দা, শায়বা ইবনু রাবিয়া, উতবা ইবনু রাবিয়া এবং ওয়ালিদ ইবনু উতবা।
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৮৬ | 4386 | ٤۳۸٦
পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ والذين يرمون أزواجهم ولم يكن لهم شهداء إلا أنفسهم فشهادة أحدهم أربع شهادات بالله إنه لمن الصادقين “এবং যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ এ হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী”।
সুরা মু’মিনীন
ইবনু ‘উয়াইনাহ বলেন, سَبْعَ طَرَآئِقَ সাত আকাশ। لَهَا سَابِقُوْنَ সৌভাগ্য তাদের ওপর অগ্রগামী। قُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ তাদের অন্তর সব সময় ভীত ও সন্ত্রস্ত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ বহুদূর, বহুদূর। فَاسْأَلْ الْعَادِّيْنَ ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করুন। لَنَاكِبُوْنَ তারা (সরল পথ থেকে) বিচ্যুত। كَالِحُوْنَ বীভৎস হয়ে যাবে। مِنْ سُلَالَةٍ সন্তান। نُّطْفَةُ নির্গত বীর্য। وَالْجِنَّةُ وَالْجُنُوْنُ এ দু’টি একই অর্থে ব্যবহৃত (অর্থাৎ পাগল)। وَالْغُثَآءُ অর্থ ফেনা, যা পানির ওপরে ভাসে এবং তা কোন উপকারে আসে না।
সুরা নুর
مِنْ خِلَالِهٰ মেঘমালার মাঝ থেকে। বিদ্যুতের আলো। سَنَا بَرْقِهِ বিনীত হওয়া। مُذْعِنِيْنَ বিনীত হওয়া। বিনয়ী ব্যক্তিকে مُذْعِنٌ বলা হয়। أَشْتَاتًا (দলে দলে) شَتَاتٌ-شَتّٰى-وَ-شَتٌّ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। সা‘দ ইবনু আয়ায সুমালী বলেন, الْمِشْكَاةُ হাবশী ভাষায় ‘তাক’। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, سُوْرَةٌ أَنْزَلْنَاهَا (এমন একটি সূরা) যার বর্ণনা ও ব্যাখ্যা আমি প্রদান করেছি। অন্য হতে বর্ণিত। সূরার সমষ্টিকে কুরআন নাম দেয়া হয়েছে। সূরার নামকরণ করা হয়েছে একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন বলে। তারপর যখন পরস্পরকে একত্র করা হয়, তখন তাকে ‘কুরআন’ বলা হয়। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَه وَقُرْاٰنَهُ এর এক অংশকে অন্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করা। فَإِذَا قَرَأْنَاه فَاتَّبِعْ قُرْاٰنَهচতারপর যখন আমি তাকে একত্র করি ও সংযুক্ত করে দেই তখন তুমি অনুসরণ করবে সে কুরআনের অর্থাৎ যা একত্রিত করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন, সে কাজ করবে এবং যে কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকবে। বলা হয়, لَيْسَ لِشِعْرِهٰ قُرْاٰنٌ অর্থাৎ (তার কাব্যে সামঞ্জস্য) নেই। আর কুরআনকে ফুরকান এজন্য নাম দেয়া হয়েছে যে, তা হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করে। আর বলা হয়, স্ত্রীলোকের জন্য مَا قَرَأَتْ بِسَلًا قَطُّ অর্থাৎ তার পেটে সন্তান আসেনি। আর বলে, فَرَّضْنَا (তাশদীদ যুক্ত অবস্থায়) অর্থাৎ আমি তাতে বিভিন্ন ফরয অবতীর্ণ করেছি। আর যাঁরা فَرَّضْنَاهَا (তাশদীদবিহীন) পড়েন তিনি এর অর্থ করেন, আমি তোমাদের এবং তোমাদের পরবর্তীদের উপর ফরয করেছি। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, أَوِالطِّفْلِ الَّذِيْنَ لَمْ يَظْهَرُوْا এর অর্থ সে সব বালক যারা অল্প বয়স্ক হওয়ার কারণে নারীদের ব্যাপারে বুঝে না।
