হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬৭ | 4767 | ٤۷٦۷
পরিচ্ছদঃ ২৪৭১. কোন ব্যক্তির প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তার শাদী হবে অথবা আপন প্রস্তাব উঠিয়ে নেবে
৪৭৬৭। ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়ব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তোমরা কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করো না। কেননা, খারাপ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। একে অপরের ছিদ্রান্বেষণ করো না, একে অন্যের ব্যাপারে মন্দ কথায় কান দিও না এবং একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতা রোখো না’ বরং পরস্পর ভাই হয়ে যাও। এক মুসলিম ভাইয়ের প্রস্তাবিত মহিলার কাছে শাদীর প্রস্তাব করো না; বরং ঐ পর্যন্ত অপেক্ষা কর, যতক্ষণ না সে তাকে শাদী করে অথবা বাদ দেয়।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬৮ | 4768 | ٤۷٦۸
পরিচ্ছদঃ ২৪৭২. শাদীর প্রস্তাব বাতিলের ব্যাখ্যা
৪৭৬৮। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, উমর (রাঃ) বলেন, হাফসা (রাঃ) বিধবা হলে আমি আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাত করে তাকে বললাম, আপনি যদি চান তবে হাফসা বিনত উমরকে আপনার কাছে শাদী দিতে পারি। আমি কয়েকদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। তারপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শাদীর পয়গাম পাঠালেন। পরে আবূ বকর (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাত করে বললেন, আপনার প্রস্তাবে উত্তর দিতে কোন কিছুই আমাকে বাধা দেয়নি; তবে আমি জেনেছিলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং আমি কখনও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোপন প্রকাশ করতে পারি না। তিনি যদি তাকে বাদ দিতেন, তাহলে আমি তাকে গ্রহণ করতাম। ইউনুস, মূসা ইবনু উকবা এবং ইবনু আকিকে যুহরীর সূত্রে উক্ত হাদীসের সমর্থন ব্যক্ত করেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭৬৯ | 4769 | ٤۷٦۹
পরিচ্ছদঃ ২৪৭৩. শাদীর খুতবা
৪৭৬৯। কাবিস (রাঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, পূর্বাঞ্চল থেকে দু’ব্যাক্তি এসে বক্তৃতা দিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন কোন বক্তৃতা জাদুমন্ত্রের মতো।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭০ | 4770 | ٤۷۷۰
পরিচ্ছদঃ ২৪৭৪. বিবাহ অনুষ্ঠানে এবং বিবাহ ভোজে দফ বাজানো
৪৭৭০। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … রুবাই বিনত মুআব্বিয ইবনু আফরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বাসর রাতের পরের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং আমার চাঁদরের ওপর বসলেন, যেমন বর্তমানে তুমি আমার কাছে বসে আছ। সে সময় আমাদের কচি মেয়েরা দফ বাজাচ্ছিল এবং বদরের যুদ্ধে শাহাদাত প্রাপ্ত আমার বাপ-চাচাঁদের শোকগাঁথা হচ্ছিল। তাদের মধ্যে একজন এ কথা বলে ফেলল যে, আমাদের মধ্যে একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন, যিনি আগামী দিনের কথা জানেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কথা বলা ছেড়ে দাও এবং পূর্বে যা বলেছিলে তাই বল।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭১ | 4771 | ٤۷۷۱
পরিচ্ছদঃ ২৪৭৫. আল্লাহ্র বাণীঃ ‘‘এবং তোমরা তোমাদের স্ত্রীদিগকে সন্তুষ্টচিত্তে মোহরানা পরিশোধ কর।’’ আর অধিক মোহরানা এবং সর্বনিমণ মোহরানা কত এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ‘‘এবং তোমরা যদি তাদের একজনকে অগাধ অর্থও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই প্রতিগ্রহণ করো না।’’ এবং আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন, ‘‘অথবা তোমরা তাদের মোহরানার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দাও।’’ সাহ্ল (রা) বলেছেন, নবী (সা) এক ব্যক্তিকে বললেন, যদি একটি লোহার আংটিও হয়, তবে মোহরানা হিসাবে যোগাড় করে দাও।
৪৭৭১। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) কোন এক মহিলাকে শাদী করলেন এবং তাকে মোহরানা হিসাবে খেজুর দানার পরিমাণ স্বর্ণ দিলেন। যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুখে শাদীর আনন্দের ছাপ দেখলেন তখন তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন; তখন সে বললঃ আমি একজন নারীকে খেজুরের আটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে শাদী করেছি। কাতাদা আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুর রহমান খেজুরের দানা পরিমাণ স্বর্ণ মোহরানা হিসাবে দিয়ে কোন মহিলাকে শাদী করেন।
হাদিস নম্বরঃ ৪৭৭২ | 4772 | ٤۷۷۲
পরিচ্ছদঃ ২৪৭৬. কুরআন শিক্ষা দেয়ার বিনিময় এবং কোন মোহরানা ব্যতীত বিবাহ প্রদান
৪৭৭২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি অন্যান্য লোকের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় একজন মহিলা দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে পেশ করছি, এখন আপনার মতামত দিন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন উত্তর দিলেন না। এরপর মহিলাটি পুনরায় দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আমার জীবনকে আপনার কাছে পেশ করেছি। এতে আপনার মতামত কি? তিনি কোন প্রতিউত্তর করলেন না। তারপর তৃতীয় বারে দাঁড়িয়ে বলল, আমি আমার জীবন আপনার কাছে সোপর্দ করছি। আপনার মতামত কি? এরপর একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই মহিলাকে আমার সাথে শাদী দিয়ে দিন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কিছু আছে? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, যাও তালাশ কর, একটি লোহার আংটি হলেও নিয়ে এসো। লোকটি চলে গেল এবং খুঁজে দেখল। এরপর এসে বলল, আমি কিছুই পেলাম না; এমনকি একটি লোহার আংটিও না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কি কিছু কুরআন জানা আছে? সে বলল, অমুক অমুক সূরা আমার মুখস্থ আছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে পরিমাণ কুরআন মুখস্থ পার, তার বিনিময়ে এ মহিলাকে তোমার সাথে শাদী দিলাম।
