হাদীস নং ৩৩৬৪
আব নুআইম রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চলার ভঙ্গিতে চলতে চলতে ফাতিমা রা. আমাদের নিকট আগমন করলেন। তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার স্নেহের কন্যাকে অনেক অনেক মোবারকবাদ। তারপর তাকে তার ডানপাশে অথবা বামপাশে বসালেন এবং তাঁর সাথে চুপিচুপি (কি যেন) কথা বললেন। তখন তিনি কেঁদে দিলেন। আমি তাকে বললাম, কাঁদছেন কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় চুপিচুপি তার সাথে কথা বললেন। তিনি এবার হেসে উঠলেন। আমি বললাম, আজকের মত দুঃখ ও বেদনার সাথে সাথে আনন্দ ও খুশী আমি আর কখনো দেখিনি। আমি তাকে কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি বলেছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথাকে প্রকাশ করব না। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হয়ে যাওয়ার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি বলেছিলেন? তিনি বললেন, তিনি প্রথম বার আমাকে বলেছিলেন, জিবরাঈল আ. প্রতি বছর একবার আমার সঙ্গে পরস্পর কুরআন পাঠ করতেন, এ বছর দু’বার এরূপ পড়ে শুনিয়েছেন। আমার মনে হয় আমার বিদায় কাল ঘনিয়ে এসেছে এবং এরপর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে। তা শুনে আমি কেঁদে দিলাম। দ্বিতীয়বার বলেছিলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতবাসী মহিলাদের অথবা মুমিন মহিলাদের তুমি সরদার হবে। এ কথা শুনে আমি হেসেছিলাম।
হাদীস নং ৩৩৬৫
ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগকালে তাঁর কন্যা ফাতিমা রা.-কে ডেকে পাঠালেন। এরপর চুপিচুপি কি যেন বললেন। ফাতিমা রা. তা শুনে কেঁদে ফেললেন। তারপর আবার ডেকে তাকে চুপিচুপি আরো কি যেন বললেন। এতে ফাতিমা রা. হেসে উঠলেন। আয়েশা রা. বলেন, আমি হাসি-কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, (প্রথম বার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে চুপে চুপে বলেছিলেন, যে রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন এ রোগেই তাঁর ওফাত হবে ; তাই আমি কেঁদে দিয়েছিলাম।এরপর তিনি চুপিচুপি আমাকে বলেছিলেন, তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হব, এতে আমি হেসে দিয়েছিলাম।
হাদীস নং ৩৩৬৬
মুহাম্মদ ইবনে আরআরা রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রা. ইবনে আব্বাস রা.-কে বিশেষ মর্যাদা দান করতেন। একদিন আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. তাকে বললেন, তাঁর মত ছেলে তো আমাদেরও রয়েছে। এতে তিনি বললেন, এর কারণ তো আপনি নিজেও জানেন। তখন উমর রা. ইবনে আব্বাস রা.-কে ডেকে إذ جاء نصر الله والفتح আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করেন। ইবনে আব্বাস রা. উত্তর দিলেন, এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ওফাত নিকটবর্তী বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। উমর রা. বললেন, আমিও এ আয়াতের এ ব্যাখ্যাই জানি, যা তুমি জান।
হাদীস নং ৩৩৬৭
আবু নুআইম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর (একদিন বৃহস্পতিবার) একটি চাদর পরিধান করে এবং মাথায় একটি কাল কাপড় দিয়ে পট্রি বেঁধে ঘরে থেকে বের হয়ে সোজা মিম্বরের উপর গিয়ে বসলেন। আল্লাহ তা’আলার হামদ ও সানা পাঠ করার পর বললেন, আম্মা বাদ। লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, আর আনসারদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। ক্রমান্বয়ে তাদের অবস্থা লোকের মাঝে এ রকম দাঁড়াবে যেমন খাদ্যের মধ্যে লবণ। তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মানুষকে উপকার বা ক্ষতি করার মত ক্ষমতা লাভ করবে তখন সে যেন আনসারদের ভাল কার্যাবলী কবূল করে এবং তাদের ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমার চোখে দেখে। এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ মজলিস।
হাদীস নং ৩৩৬৮
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন হাসান রা.-কে নিয়ে বেরিয়ে এলেন এবং তাকে সহ মিম্বরে আরোহণ করলেন। তারপর বললেন, এ ছেলেটি (নাতি) সাইয়্যেদ । নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা এর মাধ্যমে বিবদমান দু’দল মুসলমানদের আপোস করিয়ে দিবেন।
হাদীস নং ৩৩৬৯
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর এবং যায়েদ রা. এর শাহাদত লাভের সংবাদ (আমাদেরকে) জানিয়ে দিয়েছিলেন, (যুদ্ধক্ষেত্র থেকে) তাদের উভয়ের শাহাদত লাভের সংবাদ আসার পূর্বেই। তখন তাঁর চক্ষু যুগল অশ্রু বর্ষণ করছিল।
হাদীস নং ৩৩৭০
আমর ইবনে আব্বাস রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন? তোমাদের নিকট আনমাত (গালিচার কার্পেট) আছে কি? আমি বললাম, আমরা তা পা কোথায়? তিনি বললেন, অচিরেই তোমরা আনমাত লাভ করবে। (আমর স্ত্রী যখন আমার শয্যায় তা বিছিয়ে দেয়) তখন আমি তাকে বলি, আমার বিছানা থেকে এটা সরিয়ে নাও। তখন সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কি তা বলেন নাই যে, অচিরেই তোমরা আনমাত পেয়ে যাবে? তখন আমি তা (বিছানো অবস্থায়) থাকতে দেই।
