হাদীস নং ৩৩৫৮
মুআল্লাহ ইবনে আসাদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন অসুস্থ একজন বেদুঈনকে দেখতে (তার বাড়ীতে) গেলেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল যে, পীড়িত ব্যক্তিকে দেখতে গেলে বলতেন, কোন দুশ্চিন্তার কারণ নেই, ইনশাআল্লাহ (পীড়াজনিত দুঃখকষ্টের কারণে) গোনাহ থেকে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে। ঐ বেদুঈনকেও তিনি বললেন, চিন্তার কারণ নেই গুনাহ থেকে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। বেদুঈন বলল, আপনি বলেছেন, গুনাহ থেকে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে। তা তোন নয়। বরং এতো এমন এক জ্বর যা বয়ঃবৃদ্ধের উপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। তাকে কবরের সাক্ষাৎ ঘটিয়ে ছাড়বে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাই হউক (পরদিন অপরাহ্নে সে মারা গেল)।
হাদীস নং ৩৩৫৯
আবু মামার রহ………..আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক খৃষ্টান ব্যক্তি মুসলমান হল এবং সূরা বাকারা ও সূরা আলে-ইমরান শিখে নিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সে অহী লিপিবদ্ধ করত। তারপর সে পুনরায় খৃষ্টান হয়ে গেল সে বলতে লাগল, আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যা লিখে দিতাম তার চেয়ে অধিক কিছু তিনি জানেন না। (নাউজুবিল্লাহ) কিছুদিন পর আল্লাহ তাকে মৃত্যু দিলেন। খৃষ্টানরা তাকে যথারীতি দাফন করল। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল, কবরের মাটি তাকে বাইরে নিক্ষেপ করে দিয়েছে। তা দেখে খৃষ্টানরা বলতে লাগল-এটা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদেরই কাজ। যেহেতু আমাদের এ সাথী তাদের থেকে পালিয়ে এসেছিল। এ জন্যই তারা আমাদের সাথীকে কবর থেকে উঠিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে। তাই যতদূর সম্ভব গভীর করে কবর খুঁড়ে তাতে তাকে পুনরায় দাফন করল। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল, কবরের মাটি তাকে আবার বাইরে ফেলে দিয়েছে। এবারও তারা বলল, এটা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের কাণ্ড। তাদের নিকট থেকে পালিয়ে আসার কারণে তারা আমাদের সাথীকে কবর থেকে উঠিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে। এবার আরো গভীর করে কবর খনন করে সমাহিত করল। পরদিন ভোরে দেখা গেল কবরের মাটি এবারও তাকে বাইরে নিক্ষেপ করেছে। তখন তারাও বুঝতে পারল, এটা মানুষের কাজ নয়। কজেই তারা শবদেহটি বাইরেই ফেলে রাখল।
হাদীস নং ৩৩৬০
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কিসরা ধ্বংস হবে, তারপর অন্য কোন কিসরার আবির্ভাব হবে না। যখন কায়সার ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সারের আবির্ভাব হবে না। (তিনি এও বলেছেন) ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ নিশ্চয়ই এ দুই সাম্রাজ্যের ধন-ভাণ্ডার তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে।
হাদীস নং ৩৩৬১
কাবীসা রহ…………..জাবির ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিসরা ধ্বংস হবে, তারপর অন্য কোন কিসরার আবির্ভাব হবে না। যখন কায়সার ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সারের আবির্ভাব হবে না। রাবী উল্লেখ করেন যে, (তিনি এও বলেছেন) নিশ্চয়ই তাদের ধন-ভাণ্ডার তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করা হবে।
হাদীস নং ৩৩৬২
আবুল ইয়ামান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় মুসায়লামাতুল কাযযাব আসল এবং বলতে বলতে লাগল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাঁর পর আমাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন, তাহলে আমি তাঁর অনুসরণ করব। তার স্বজাতির এক বিরাট বাহিনী সঙ্গে নিয়ে সে এসেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন। আর তাঁর সাথী ছিলেন সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস রা.। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে খেজুরের একটি ডাল ছিল। তিনি সাথী দ্বারা বেষ্টিত মুসায়লামার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তুমি যদি আমার নিকট খেজুরের এই ডালটিও চাও, তবুও আমি তা তোমাকে দিবনা। তোমার সম্বন্ধে আল্লাহর যা ফায়সালা তা তুমি লংঘন করতে পারবেনা। যাদি তুমি কিছু দিন বেচেও থাক তবুও আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই ধ্বংস করে দিবেন। নিঃসন্দেহে তুমি ঐ ব্যক্তি যার সম্বন্ধে স্বপ্নে আমাকে সব কিছু দেখান হয়েছে। (ইবনে আব্বাস রা. বলেন) আবু হুরায়রা রা. আমাকে জানিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (একদিন) আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখতে পেলাম আমার দু’হাতে সোনার দুটি বালা শোভা পাচ্ছে। বালা দুটি আমাকে ভাবিয়ে তুলল। স্বপ্নেই আমার নিকট অহী এল, আপনি ফুক দিন। আমি তাই করলাম। বালা দুটি উড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা এভাবে করলাম, আমার পর দুজন কাযযাব (চরম মিথ্যাবাদী) আবির্ভূত হবে এদের একজন আসওয়অদ আনসী, অপরজন ইয়ামামার বাসিন্দা মুসায়লামাতুল কাযযাব।
হাদীস নং ৩৩৬৩
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………..আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি মক্কা থেকে হিজরত করে এমন এক স্থানে যাচ্ছি যেখানে প্রচুর খেজুর গাছ রয়েছে। তখন আমার ধারণা হল, এ স্থানটি ইয়ামামা অথবা হাযর হবে। পরে বুঝতে পেলাম, স্থানটি মদীনা ছিল। যার পূর্বনাম ইয়াসরিব। স্বপ্নে আমি আরো দেখতে পেলাম যে আমি একটি তরবারী হাতে নিয়ে নাড়াচড়া করছি। হঠাৎ তার অগ্রভাগ ভেঙ্গে গেল। উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল এটা তা-ই। তারপর দ্বিতীয় বার তরবারীটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলাম তখন তরবারীটি পূর্বাবস্থার চেয়েও অধিক উত্তম হয়ে গেল। এর তাৎপর্য হল যে, আল্লাহ মুসলমানগণকে বিজয়ী ও একত্রিত করে দিবেন। আমি স্বপ্নে আরো দেখতে পেলাম, একটি গরু (যা যাবই করা হচ্ছে) এবং শুনতে পেলাম আল্লাহ যা করেন সবই ভাল। এটাই হল উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের শাহাদত বরণ। আর খায়ের হল—আল্লাহর তরফ থেকে আগত ঐ সকল কল্যাণই কল্যাণ এবং সত্যবাদিতার পুরস্কার যা আল্লাহ আমাদেরকে বদর যুদ্ধের পর দান করেছেন।
