হাদীস নং ২৭৪৫
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অধিকাংশ সময় রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নির্দিষ্ট জায়গায় যুদ্ধের ইচ্ছা করলে অন্য দিকে দৃষ্টি আকৃষ্ট করে তা গোপন রাখতেন কিন্তু যখন তাবুক যুদ্ধ এল, যে যুদ্ধে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা দিলেন, প্রচণ্ড গরম এবং সম্মুখীন হলেন দীর্ঘ সফরের ও মরুময় পথের আর অধিক সংখ্যক সৈন্যের মোকাবিলায় অগ্রসর হলেন। তাই তিনি মুসলমানদের সামনে বিষয়টি প্রকাশ করলেন, যাতে তারা শত্রুর মোকাবিলার উপযোগী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে এবং যুদ্ধের লক্ষ্যস্থল সবাইকে জানিয়ে দিলেন। আর ইউনুস রহ. যুহরী রহ. সূত্রে কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোন সফরে যাবার ইচ্ছা করতেন তখন বেশীর ভাগ সময় বৃহস্পতিবারেই রওয়ানা করতেন।
হাদীস নং ২৭৪৬
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে বৃহস্পতিবার বের হন আর বৃহস্পতিবার রওয়ানা হওয়াই তিনি পছন্দ করতেন।
হাদীস নং ২৭৪৭
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাতে যুহরের সালাত চার রাকআত আদায় করেন এবং যুল-হুলাইফাতে পৌঁছে দু’রাকআত আসরেরর সালাত আদায় করেন। আমি তাদের হজ্জ ও উমরা উভয়টির তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি।
হাদীস নং ২৭৪৮
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যুল-কাদার পাঁচ রাত থাকতে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওয়ানা হলাম। হজ্জ আদায় ব্যতীত আমাদের আর কোন উদেশ্যে ছিল না । মক্কার নিকটবর্তী হলে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ দিলেন যাদের নিকট কুরবানীর জন্তু নেই, তারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়ার সাঈ কররার পর ইহরাম খুলে ফেলবে। আয়িশা রা. বলেন, কুরবানীর দিন আমাদের নিকট গুরুর গোশত পৌঁছানো হল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এগুলো কিসের ? বলা হল, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহধমিণীগণের পক্ষ থেকে কুরবানী আদায় করেছেন। ইয়াহইয়া রহ. বলেন, আমি হাদীসটি কাসেম ইবনে মুহাম্মদ রহ.-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! বর্ণনাকরিণী এ হাদীসটি আপনার নিকট যথাযথ বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ২৭৪৯
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে সফরে বের হন এবং সিয়াম পালন করেন। যখন তিনি কাদীদ নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন সিয়াম ছেড়ে দেন। সুফিয়ান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, এটা যুহরী রহ.-এর উক্তি এবং রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ কার্যই গ্রহণযোগ্য।
হাদীস নং ২৭৫০
মুসাদ্দাদ এবং মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাপ কার্যের আদেশ না করা পর্যন্ত ইমামের কথা শোনা ও তার আদেশ মান্য করা অপরিহার্য। তবে পাপ কার্যের আদেশ করা হলে তা শোনা ও আনুগত্য করা যাবে না।
হাদীস নং ২৭৫১
আবুল ইয়ামান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমরা সর্বশেষে আগমনকারী (পৃথিবীতে) সর্বাগ্রে প্রবেশকারী (জান্নাতে)। আর এ সনদেই বর্ণিত হয়েছে যে, (রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন) যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলারই আনুগত্য করল আর যে ব্যক্তি আমার নাফরমানী করল, সে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলারই নাফরমানী করল আর যে ব্যক্তি (শরীআত স্বীকৃত) আমীরের আনুগত্য করল, সে ব্যক্তি আমারই আনুগত্য করল আর যে ব্যক্তি আমীরের নাফরমানী করল সে ব্যক্তি আমারই নাফরমানী করল। ইমাম তো ঢাল স্বরূপ। তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধ এবং তাঁরই মাধ্যমে নিরাপত্তা অর্জন করা হয়। অনন্তর যদি সে আল্লাহর তাকওয়ার নির্দেশ দেয় এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে, তবে তার জন্য এর প্রতিদান রয়েছে আর যদি সে এর বিপরীত করে তবে এর মন্দ পরিণতি তার উপরই বর্তাবে।
হাদীস নং ২৭৫২
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন হুদায়বিয়া সন্ধির পরবর্তী বছর প্রত্যাবর্তন করলাম, তখন আমাদের মধ্য হতে দু’জন লোকও যে বৃক্ষের নীচে আমরা বায়আত করেছিলাম সেটি চিহ্নিত করার ব্যাপরে একমত হতে সক্ষম হয়নি। তা ছিল আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নাফি রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তাদের নিকট হতে কিসের বায়আত গ্রহণ করা হয়েছিল? তা কি মৃত্যুর উপর ? তিনি বললেন, না, বরং রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট হতে অটল থাকার উপর বায়আত গ্রহণ করেছিলেন।
হাদীস নং ২৭৫৩
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাররা নামক যুদ্ধের সময়ে তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, ইবনে হানযালা রা. মানুষের নিকট থেকে মৃত্যুর উপর বায়আত গ্রহণ করছেন। তিনি বললেন, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর আমি তো কারো নিকট এরূপ বায়আত করব না।
