وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْناً وَاتَّخِذُواْ مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ
Wa-ith jaAAalna albayta mathabatan lilnnasi waamnan waittakhithoo min maqami ibraheema musallan waAAahidna ila ibraheema wa-ismaAAeela an tahhira baytiya liltta-ifeena waalAAakifeena waalrrukkaAAi alssujoodi
YUSUFALI: Remember We made the House a place of assembly for men and a place of safety; and take ye the station of Abraham as a place of prayer; and We covenanted with Abraham and Isma’il, that they should sanctify My House for those who compass it round, or use it as a retreat, or bow, or prostrate themselves (therein in prayer).
PICKTHAL: And when We made the House (at Makka) a resort for mankind and sanctuary, (saying): Take as your place of worship the place where Abraham stood (to pray). And We imposed a duty upon Abraham and Ishmael, (saying): Purify My house for those who go around and those who meditate therein and those who bow down and prostrate themselves (in worship).
SHAKIR: And when We made the House a pilgrimage for men and a (place of) security, and: Appoint for yourselves a place of prayer on the standing-place of Ibrahim. And We enjoined Ibrahim and Ismail saying: Purify My House for those who visit (it) and those who abide (in it) for devotion and those who bow down (and) those who prostrate themselves.
KHALIFA: We have rendered the shrine (the Ka`aba) a focal point for the people, and a safe sanctuary. You may use Abraham’s shrine as a prayer house. We commissioned Abraham and Ismail: “You shall purify My house for those who visit, those who live there, and those who bow and prostrate.”
১২৫। স্মরণ কর, কাবা ঘরকে আমি মানব জাতির মিলন কেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম, [এবং বলেছিলাম] তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর স্থানকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর; ১২৫। আমি ইব্রাহীম, ইসমাঈল এর নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম, যে, তারা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী, রুকু ও সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখবে ১২৬।
১২৫। কাবা শরীফ হচ্ছে আল্লাহ্র ঘর। কাবা শরীফ পুনঃনির্মাণ করেন হযরত ইব্রাহীম, হযরত ইসমাঈলের সহযোগিতায়। আল্লাহ্ কাবা শরীফের চারটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। যেমন-
ক) এই স্থান হবে সকলের সম্মেলন স্থান, তা হতে পারে ব্যবসা বাণিজ্য বা উপাসনা, যে কোন ব্যাপারে।
খ) কাবা গৃহ এবং এর সীমানা অত্যন্ত পবিত্র। শত্রু-মিত্র সবাই এই স্থানকে সম্মান করবে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সীমানার মধ্যে সর্বপ্রকার সহিংসতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোন রকম খেলাধুলা এবং আনুষাঙ্গিক আনন্দ ফূর্তি করাও সীমানার মধ্যে নিষেধ। এই স্থানকে আল্লাহ্ সকলের জন্য নিরাপদ স্থানরূপে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কাবা হচ্ছে শান্তির আবাসস্থল।
গ) কাবা গৃহ হচ্ছে আল্লাহ্র এবাদতের স্থান। এখানে মাকামে ইব্রাহীম অবস্থিত অর্থাৎ ঐ পাথর যাতে মোজেযা হিসেবে হযরত ইব্রাহীমের পদচিহ্ন অঙ্কিত হয়ে আছে।
ঘ) এ গৃহকে অবশ্যই সর্বদা পূত-পবিত্র রাখা কর্তব্য। কাবা গৃহকে যাবতীয় বাহ্যিক ও আত্মিক অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রাখতে বলা হয়েছে। দেহ ও পোষাক পরিচ্ছদকে যাবতীয় অপবিত্রতা ও দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু থেকে পাক-সাফ করে এবং অন্তরকে কুফ্র, শিরক্, দুশ্চরিত্রতা, অহংকার, হিংসা, লোভ-লালসা ইত্যাদি থেকে পবিত্র করে কাবা শরীফে প্রবেশ করা কর্তব্য। অর্থাৎ হজ্বের পূর্বশর্ত হচ্ছে দৈহিক ও আত্মিক পবিত্রতা।
১২৬। এখানে চারটি আচার অনুষ্ঠানের উল্লেখ করা হয়েছে।
ক) তাওয়াফ করা বা কাবা শরীফের চতুর্দিক প্রদক্ষিণ করা
খ) ইতিকাফ করার স্থান হচ্ছে এই স্থান।
গ) রুকু করা।
ঘ) সেজদা করা।
এই পবিত্র স্থানকে পবিত্র রাখার দায়িত্ব সবার। তবে যারা হজ্জ্বযাত্রী, যারা এই আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে তাদের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্রতার উপর। বাহ্যিক অপবিত্রতা ও আবর্জনা এবং আত্মিক অপবিত্রতা উভয়টিই এর অন্তুর্ভূক্ত যেমন-কুফর, শির্ক, দুশ্চরিত্রতা, হিংসা, লোভ-লালসা, কু-প্রবৃত্তি, অহংকার, রিয়া, নাম-যশ ইত্যাদি অন্তরে রেখে আল্লাহ্র গৃহে আগমণ না জায়েয। পৃথিবীর সব লোভ-লালসা, প্রবৃত্তি কামনা সব কিছু ত্যাগ করে শুদ্ধ পবিত্র আত্মাকে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে নিবেদনের জন্যই তীর্থযাত্রীদের কাবাগৃহে আগমন করা উচিত। আমাদের আচার-অনুষ্ঠান সবই হবে আন্তরিক যেনো শুদ্ধ-পবিত্র আত্মার নিবেদন তাঁর কাছে পৌঁছায়। পৃথিবীর সবকিছুর মোহ ত্যাগ করে পবিত্র আত্মা নিয়ে তার দরবারে হাজির হওয়ার নামই হচ্ছে হজ্বব্রত পালন।
