১১৪। তার থেকে বড় জালিম আর কে আছে যে আল্লাহ্র মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাঁধা প্রদান করে ১১৭। [প্রকৃতপক্ষে] তার প্রচন্ড ইচ্ছা সেগুলির ধ্বংস সাধন। [আল্লাহ্র ভয়ে] ভীত না হয়ে তাদের সেখানে প্রবেশ করা সঙ্গত ছিল না। তাদের জন্য এই পৃথিবীতে লাঞ্ছনা ছাড়া কিছু নাই, এবং অনাগত পৃথিবীতে তাদের জন্য আছে মহাশাস্তি।
১১৭। মক্কা বিজয়ের পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) যখন মক্কায় প্রবেশ করে কাবা গৃহে তাওয়াফ ও নামাজ আদায় করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন, তখন মক্কার মুশরিকরা তাঁকে বাধা দান করে। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি নামাজ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। আল্লাহ্ তায়ালা এখানে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করে এ কাজের দোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় জালেম আর কে আছে যে আল্লাহ্র মসজিদসমূহে [মক্কার মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদে নববী, মসজিদে বায়তুল মোকাদ্দাস প্রভৃতি সব মসজিদই অন্তর্ভূক্ত] তার নাম উচ্চারণ [ও এবাদত] করতে বাধা দেয় এবং পরিত্যক্ত করতে চেষ্টা করে।
হুদায়বিয়ার ঘটনার পর মক্কার মুশরিকরা যখন রাসূলুল্লাহ্কে (সাঃ) কাবা প্রাঙ্গণে প্রবেশ এবং তাঁর তাওয়াফে বাঁধা প্রদান করে, তখন এই আয়াত নাজেল হয়।
এই আয়াতের বর্ণনায় সাধারণ শব্দের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র আইনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে যাতে নির্দেশটি শুধুমাত্র খৃষ্টান ও মুশরিকদের সাথে সম্পর্কযুক্ত মনে করা না হয়। বরং এ নির্দেশটি সার্বজনীন, সর্বকালের জন্য এবং সকল সম্প্রদায়ের জন্য প্রযোজ্য করা হয়। এ কারণেই আয়াতে বিশেষভাবে বায়তুল মোকাদ্দাসের নামোল্লেখের পরিবর্তে ‘আল্লাহ্র মসজিদ সমূহে’ সব মসজিদের ক্ষেত্রেই নির্দেশটি ব্যাপক করে দেওয়া হয়েছে।
[সাধারণ জ্ঞাতব্য হচ্ছে-ইসলাম এবাদতের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সমস্ত মসজিদই আল্লাহ্র এবাদতের জন্য উন্মুক্ত। ধর্ম সম্বন্ধে বিভিন্ন মতবাদ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত বা জাতিগত। ইসলাম বলে সে যেই হোক না কেন এক সম্প্রদায় আর এক সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করতে পারেনা যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সকলের শান্তিপূর্ণ এবাদতের জন্য বাধা স্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। যতক্ষণ পর্যন্ত যে কেউ এক আল্লাহ্-য় বিশ্বাসী হয় এবং ভক্তিভরে স্রষ্টার কাছে নিজেকে নিবেদনের জন্য মসজিদে উপস্থি হয়, তার জন্য আল্লাহ্র মসজিদের দ্বার উন্মুক্ত। আত্মবিশ্লেষনের মাধ্যমে আমাদের খুঁজে দেখতে হবে আমরা কি কুরআনের এই নির্দেশ অনুসরণ করি না গোষ্ঠীগত বিভক্তিতে আল্লাহ্র আদেশ অমান্য করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহিরের চেষ্টা করি।
আয়াতঃ 002.115
পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।
And to Allâh belong the east and the west, so wherever you turn yourselves or your faces there is the Face of Allâh (and He is High above, over His Throne). Surely! Allâh is All-Sufficient for His creatures’ needs, All-Knowing.
وَلِلّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللّهِ إِنَّ اللّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
Walillahi almashriqu waalmaghribu faaynama tuwalloo fathamma wajhu Allahi inna Allaha wasiAAun AAaleemun
YUSUFALI: To Allah belong the east and the West: Whithersoever ye turn, there is the presence of Allah. For Allah is all-Pervading, all-Knowing.
PICKTHAL: Unto Allah belong the East and the West, and whithersoever ye turn, there is Allah’s Countenance. Lo! Allah is All-Embracing, All-Knowing.
SHAKIR: And Allah’s is the East and the West, therefore, whither you turn, thither is Allah’s purpose; surely Allah is Amplegiving, Knowing.
KHALIFA: To GOD belongs the east and the west; wherever you go there will be the presence of GOD. GOD is Omnipresent, Omniscient.
১১৫। পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্রই। যেদিকেই তাকাও না কেন সর্বত্র আল্লাহ্র উপস্থিতি বিদ্যমান। আল্লাহ্র [অবস্থান] সর্বব্যাপী, [তিনি] সর্বজ্ঞ ১১৮।
১১৮। ‘ওয়াজহা’ শব্দটির শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ‘মুখমন্ডল’ এখানে অনুবাদ করা হয়েছে উপস্থিতি। টিকা ১০৭-দ্রষ্টব্য।
আয়াতঃ 002.116
তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র, বরং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তার আজ্ঞাধীন।
And they (Jews, Christians and pagans) say: Allâh has begotten a son (children or offspring). Glory be to Him (Exalted be He above all that they associate with Him). Nay, to Him belongs all that is in the heavens and on earth, and all surrender with obedience (in worship) to Him.
وَقَالُواْ اتَّخَذَ اللّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَل لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ
Waqaloo itakhatha Allahu waladan subhanahu bal lahu ma fee alssamawati waal-ardi kullun lahu qanitoona
