ক) বান্দা মনে প্রাণে নিজেকে আল্লাহ্র ইচ্ছার কাছে সমর্পন করবে। তাঁর আনুগত্যকেই স্বীয় মত ও পথ বলে মনে করবে। এ উদ্দেশ্যটি যে ধর্মে অর্জিত হয় তাই প্রকৃত ধর্ম। ধর্মের প্রকৃত স্বরূপকে পেছনে ফেলে ইহুদী অথবা খৃষ্টান অথবা ইসলাম জাতীয়তাবাদের ধ্বজা উত্তোলন করা ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচায়ক।
খ) দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে সৎকর্ম। পারলৌকিক মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশের জন্য শুধু আনুগত্যের সংকল্পই যথেষ্ট নয় বরং সৎকর্মেরও প্রয়োজন। আল্লাহ্র কাছে ইহুদী, খৃষ্টান ও মুসলমানের কোনও মূল্য নাই। গ্রহণীয় বিষয় হচ্ছে ঈমান ও সৎকর্ম। সৎকর্ম কি? যে কাজ আল্লাহ্র সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয় তাই-ই সৎকর্ম। কুরআনের বহু স্থানে সমাজ ও জাতির মঙ্গলের জন্য কাজ করার নির্দেশ দান করা হয়েছে। এই জাতীয় কাজই হচ্ছে সৎকাজ।
যে কেউ উপরোক্ত মৌলিক বিষয়াদির মধ্য থেকে যে কোনও একটি ছেড়ে দেয়, অতঃপর শুধুমাত্র নাম ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে নিজেকে জান্নাতের ইজারাদার মনে করে নেয়; সে আত্মপ্রবঞ্চনা বৈ আর কিছুই করে না। আসল সত্যের সাথে এর কোনও সম্পর্ক নাই। এসব নামের উপর ভরসা করে কেউ আল্লাহ্র নিকটবর্তী ও মকবুল হতে পারবে না। যে পর্যন্ত না তার মধ্যে ঈমান ও সৎ কর্ম থাকে। সুতরাং এ দাবী যেনো কেউ না করে যে আমরা পুরুষানুক্রমে মুসলমান। প্রত্যেক অফিস ও রেজিস্টারে আমাদের নাম মুসলমানদের কোটায় লিপিবদ্ধ এবং আমরা মুখেও নিজেদের মুসলমান বলি, সুতরাং সকল পুরস্কারের যোগ্য হকদার আমরাই। তাহলে ইহুদী ও আমাদের মধ্যে পার্থক্য খুব কমই থাকবে। দুনিয়া জুড়ে মুসলমানদের অবনতি ও অস্থিরতার মূল কারণ আমাদের এখানেই খুঁজে দেখতে হবে। আমাদের ঈমান মৌখিক। এর সাথে আন্তরিকতার সম্পর্ক কম। অর্থাৎ আমরা আন্তরিকভাবে আল্লাহ্র হুকুম মান্য করি না। যেমন-আমরা মিথ্যার বেসাতি করি, মানুষকে ঠকাতে দ্বিধাবোধ করি না, অন্যায়-অবিচার, অসত্য আজ আমাদের জীবনের সামাজিক ব্যাধি। অন্যায় আইন আজ আমরা সমাজ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে স্বীকার করে চলছি। এগুলি হচ্ছে আল্লাহ্র আইন অমান্য করা। আল্লাহ্র আইনকে অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে, মৌখিকভাবে নিজেকে মুসলমান দাবী করলেও অন্তরে আল্লাহ্কে অস্বীকার করা। সে নিজের প্রতি নিজে বিশ্বস্ত নয় এটা মুনাফিকীরই নামান্তর।
দ্বিতীয়তঃ তাঁর সৃষ্টির সেবা করা। এ ব্যাপারে মুসলমানেরা কতটুকু অগ্রগামী তা বিবেচ্য। আমরা কতটুকু আন্তরিক সমাজের মঙ্গলের জন্য, সৎ কাজে আমরা কতটুকু উৎসর্গীকৃত। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, দ্বীনের ব্যাপারে মুসলিম সমাজ আজ খুব একটা আন্তরিক নয়। এখানেই দুনিয়া জুড়ে মুসলমানদের এত অস্থিরতা ও অবনতির কারণ। মুসলমানদের অবনতি ও অস্থিরতা অপরপক্ষে খৃষ্টান ও ইহুদীদের উন্নতির ও প্রশান্তির মূল বিষয় উপরে বর্ণিত হলো। এতে প্রতীয়মান হয় যে জগতে আমাদের দারিদ্র, পরমুখাপেক্ষিতা, বিপদ-আপদ ও সংকট ইসলামের মূল ধারা থেকে বিচ্যুতির কারণে। যারাই এই মূলধারা বা ধর্মের মূল অন্তর্নিহিত নৈতিক গুণাবলী অর্জন করেছে তারা ইহুদী বা খৃষ্টান যেই হোক না কেন তাদের উপরে আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হয়। আলোচ্য আয়াত থেকে একথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, ঈমান ও সৎকর্ম পূর্ণরূপে অবলম্বন না করলে শুধু বংশগতভাবে ইসলামের নাম ব্যবহারের দ্বারা কোনও শুভ ফল আশা করা যায় না [২ :৬২] দেখুন।
১১৫। ‘তাদের কোনও ভয় নাই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’-এই লাইনটি এই সূরায় এবং কুরআনের বহু জায়গাতে এসেছে। যেমন-[২, ৩৮, ৬২, ১১২, ২৬২, ২৭৪ এবং ২৭৭]এ। কুরআন নাজেল হয়েছে কবিতার ছন্দে। এর ভাষা, ছন্দ, বর্ণনার মাধুর্যে অতুলনীয়। এই লাইনটি বার বার ব্যবহৃত হয়েছে সঙ্গীতের মত। যেমন-সঙ্গীতের একটি লাইন ‘সোমের’ সৃষ্টি করে ঠিক সেরূপ। এছাড়াও এ দ্বারা লাইনটির গূঢ় অর্থের গুরুত্বের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আয়াতঃ 002.113
ইহুদীরা বলে, খ্রীস্টানরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় এবং খ্রীস্টানরা বলে, ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপরেই নয়। অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে! এমনিভাবে যারা মূর্খ, তারাও ওদের মতই উক্তি করে। অতএব, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।
The Jews said that the Christians follow nothing (i.e. are not on the right religion); and the Christians said that the Jews follow nothing (i.e. are not on the right religion); though they both recite the Scripture. Like unto their word, said (the pagans) who know not. Allâh will judge between them on the Day of Resurrection about that wherein they have been differing.
وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَى عَلَىَ شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ لاَ يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ فَاللّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُواْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
Waqalati alyahoodu laysati alnnasara AAala shay-in waqalati alnnasara laysati alyahoodu AAala shay-in wahum yatloona alkitaba kathalika qala allatheena la yaAAlamoona mithla qawlihim faAllahu yahkumu baynahum yawma alqiyamati feema kanoo feehi yakhtalifoona
