———————
২১. G. Thomson SAGS 97.
২২. S. Freud GISA25. ফ্রয়েডের মতে কোপার্নিকাস ও ডারউইনের মতোই তাঁর আবিষ্কারও মানবাত্মার সনাতন অভিমানকে আহত করে বলেই এর বিরুদ্ধে মানবমনের স্বাভাবিক প্রতিবন্ধ জাগে। সমালোচনা—দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ; ফ্রয়েড-প্রসঙ্গে, ১-২৩ ।
২৩. M.. Winternitz op. cit. 67-8.
২৪. F. Engels OFPPS 163.
০৩. ঋগ্বেদ-সংহিতা : পার্থিব সম্পদের কামনা
আফ্রিকার দিন্করা সাহিত্য রচনা করে, কিন্তু তা মুখেমুখে। কেননা, লেখার হরফ তারা আবিষ্কার করেনি। পশুপালনজীবী পর্যায়ে লেখার হরফের আবিষ্কার হয়নি।
বৈদিক আর্যরাও সাহিত্য রচনা করেছেন। কিন্তু তাঁরা লিখতে জানতেন না। তাই মুখেমুখে সাহিত্য রচনা করতেন। ঘোর-পুত্র কন্ব ঋষি মরুৎগণকে উদ্দেশ্য করে বলছেন :
মিমীহি শ্লোকমাস্যে পর্জন্যইব ততনঃ গায় গায়ত্রমুক্থ্যম্ ॥
অর্থাৎ, —মুখেতে শ্লোক রচনা কর, মেঘের মত তাহাকে বিস্তারিত কর, গায়ত্রীছন্দে উক্থ্য গান কর॥ ঋগ্বেদ : ১.৩৮.১৪ ॥
কিসের গান? কামনার গান, কামবর্ষী গান। আদিম সমাজে কামনা ছাড়া গান নেই। কিসের কামনা? অন্নের কামনা, ধনের কামনা, পশুর কামনা, সন্তানের কামনা, নিরাপত্তার কামনা। মোক্ষলাভের কথা নয়, আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের কথা নয়—আফ্রিকার দিন্কদের মতোই বৈদিক সাহিত্যেও সহজ সরলভাবে নেহাতই পার্থিব, নেহাতই লোকায়তিক কামনা প্রকাশ করবার আয়োজন।
অস্মে রায়ো দিবেদিবে সং চরন্তু পুরস্পৃহঃ।
অস্মে বাজাস ঈরতাম্॥
অর্থাৎ, —হে অগ্নি! অতিশয় কাম্য ধনসমূহ আমাদিগের নিকট প্রতিদিন সঞ্চরণ করুক। অন্নসমূহ আমাদিগকে কর্মের প্রেরণা দিক। ঋগ্বেদ : ৪.৮. ৭॥
প্র যংসি হোতর্বৃহতীরিষো নোহগ্নে মহি দ্রবিণমা যজস্ব।
অর্থাৎ, —হে অগ্নি! তুমি আমাদিগকে অন্ন দান কর। হে অগ্নি! তুমি আমাদিগকে মহৎ ধন দান কর॥। ঋগ্বেদ : ৩.১.২২ ॥
ব্রহ্মণস্পতে সুষমস্য বিশ্বহা রায়ঃ স্যাম রথ্যো বয়স্বতঃ।
বীরেষু বীরাঁ উপ পৃঙ্ধি নস্ত্বং যদীশানো ব্রহ্মণা বেষি মে হবম্॥
অর্থাৎ, —হে ব্রহ্মণস্পতি, সুনিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যাপী অন্নযুক্ত ধনের আমরা যেন অধিপতি হই; আমাদের বীরগুলিকে তুমি বীর (পুত্র) উৎপাদন কর; তুমি সকলের শ্রেষ্ঠ এবং আমাদের অন্নযুক্ত স্তুতির অভিলাষী॥। ঋগ্বেদ : ২.২৪.১৫ ৷।
হুবহু এই জাতীয় পার্থিব কামনাই সুবিশাল ঋগ্বেদ-সংহিতাকে যেন আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
এখানে আরো কিছু নমুনা উদ্ধৃত করা যায়।
ত্বং নঃ সোম বিশ্বতো রক্ষা রাজন্নঘায়ঃ।
ন রিতষ্যেত্বাবতঃ সখা ॥
অর্থাৎ, —হে রাজন সোম! আমাদের দুঃখদানে অভিলাষী সকল লোক হইতে রক্ষা কর। ত্বৎসদৃশ ব্যক্তির সখা কখনো বিনাশপ্রাপ্ত হয় না॥ ঋগ্বেদ : ১.৯১.৮॥
সোম যাস্তে ময়োতুব ঊতয়ঃ সন্তি দাণ্ডষে।
তাভির্নোহবিতা ভব॥
অর্থাৎ, —হে সোম! যজমানের সুখজনক তোমার যে সকল রক্ষণ আছে তারা আমাদিগকে রক্ষা কর॥ ঋগ্বেদ : ১.৯১.৯।
ইমং যজ্ঞমিদং বচো জুজুষাণ উপাগহি।
সোম ত্বং নো বুধে ভব।
অর্থাৎ, —হে সোম! তুমি আমাদের এই যজ্ঞ ও এই স্তুতি দ্বারা প্রীত হইয়া আগমন কর এবং আমাদের বর্ধন কর॥ ঋগ্বেদ : ১.৯১.১০৷।
আ প্যায়স্ব সমেতু তে বিশ্বতঃ সোম বৃষ্ণ্যম্।
ভবাং বাজস্য সংগথে॥
অর্থাৎ, —হে সোম! তুমি বর্ধিত হও, তোমার বীর্য দ্বারা সকলে সংযুক্ত হউক; তুমি আমাদের অন্নদাতা হও॥ ঋগ্বেদ : ১.৯১.১৬ ৷।
আ প্যায়স্ব মদিন্তম সোম বিশ্বেভিরংশুভিঃ।
ভবা নঃ সুপ্রবস্তমঃ সখা বৃধে।
অর্থাৎ, —অত্যন্ত মদযুক্ত হে সোম! সমস্ত লতাবয়বদ্বারা বর্ধিত হও; শোভন অন্নযুক্ত হইয়া তুমি আমাদের সখা হও ও বর্ধিত হও। ঋগ্বেদ : ১.৯১.১৭॥
স শ্রুধি য: স্মা পৃতনাসু কানু চিদ্দক্ষায্য ইন্দ্র
ভরহুতয়ে নৃভিরসি প্রতুর্তয়ে নৃভিঃ।
যঃ শূরৈঃ স্বঃ সনিতা যো বিপ্রৈর্বাজং তরুতা।
তমীশানাস ইরধস্ত বাজিনং পৃক্ষমত্যং ন বাজিনম্॥
অর্থাৎ, –হে ইন্দ্র! তুমি যুদ্ধের নেতা; তুমি প্রধান প্রধান যুদ্ধে মরুৎগণের সহিত স্পর্ধাপুর্বক শক্রসংহারে সমর্থ; তুমি পূরগণের সহিত স্বয়ং (সংগ্রামন্থখ) অনুভব কর। ঋত্বিকগণ স্তব করিলে তুমি তাহাদিগকে অন্নপ্রদান কর; আমাদিগের স্তুতি শ্রবণ কর। অভ্যর্থনা-সমর্থ ঋত্বিকগণ গমনশীল অল্পবান ইন্দ্রকে অশ্বের ন্যায় সেবা করে॥ ঋগ্বেদ : ১.১২৯.২ ॥
দস্মো হি ষ্মা বৃষণং পিন্বলি ত্বচং কং
চিদ্যাবীরররুং শূর মর্ত্যং পরিবৃণক্ষি মর্ত্যম্।
ইন্দ্রোত ভুভ্যং তদ্দিবে তদ্রুদ্রায় স্বযশসে।
মিত্রায় বোচং বরুণায় সপ্রথঃ সুম্বলীকায় সপ্রথঃ॥
অর্থাৎ, –হে ইক্স! তুমি শক্ৰক্ষয়কারক অতএব বৃষ্টিপূর্ণ ত্বক্-রূপ জলের আবরণকে (মেঘকে) ভেদ করিয়া (জল) সেচন কর; এবং মর্ত্যের ন্যায় গমনশীল মেঘকে ধরিয়া বৃষ্টিশূন্য করিয়া ছাড়িয়া দাও, যেমন কোন বীর গমনকারী শক্রকে নিগৃহীত করে। হে ইন্দ্র! তোমার এই কাৰ্য আমরা তোমার নিকট, দ্যুর নিকট, যশোযুক্ত রুদ্রের নিকট ও প্রজাদিগের স্থখদায়ী মিত্র ও বরুণের নিকট বলিব॥। ঋগ্বেদ : ১.১২৯.৩ ॥
অস্মাকং ব ইন্দ্রমুশ্মসীষ্টয়ে সখায়ং বিশ্বায়ুং প্রাসহং যুজং বাজেয়ুপ্রাসহং যুজম্। অস্মাকং ব্রহ্মোতয়েহবা পৃৎসুষু কাসু চিৎ।
ন হি ত্বা শক্রঃ স্তৃরতে স্কৃণোষি যং বিশ্বং শক্ৰং স্তৃণোষি যম্।
অর্থাৎ, —হে ঋত্বিকগণ! আমাদিগের যজ্ঞে ইন্দ্রকে কামনা করি। ইন্দ্র আমাদিগের সখা, সর্বগামী, শত্রুদিগের অভিভবকারী এবং তিনি আমাদিগকে অন্নসমূহদ্বারা যুক্ত করেন। তিনি আমাদিগের সহায়ভূত হইয়া শত্রুবিনাশ করেন এবং মরুৎগণের সহিত মিলিত হন। হে ইন্দ্ৰ! তুমি আমাদের পালনার্থ আমাদের কর্ম রক্ষা কর। সংগ্রামে শক্ৰ তোমার বিরুদ্ধে দাঁড়াইতে পারে না। তুমিই সমস্ত শক্রকে নিবারণ কর। ঋগ্বেদ : ১.১২৯.৪ ॥
